কক্সবাজারের চকরিয়ায় পারিবারিক ঝগড়া বিবাদের জেরে রুমা আক্তার (২৮) নামের এক গৃহবধূকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে চকরিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের স্বামীকে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের মাঝের পাড়া গ্রামে ঘটেছে এ ঘটনা। নিহত রুমা আক্তার ওই গ্রামের বাহাদুর আলমের কন্যা এবং একই এলাকার মোহাম্মদ মানিকের স্ত্রী।
নিহতের ৮ বছরের শিশু ছেলে মোহাম্মদ লাবিব শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে তাঁদের বাড়ির উঠানে সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসার জবাবে জানিয়েছে, তাঁর বাবা বৃহস্পতিবার রাতে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তাঁর মাকে মেরে ফেলেছে। তবে স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, স্বামী মানিক পেশায় দিনমজুর।
কিন্তু মাদকাসক্ত ছিলেন। বাড়িতে প্রায়ঃ সময় স্ত্রী রুমার সঙ্গে পারিবারিক অভাব অনটন নিয়ে ঝগড়া হতো।
চকরিয়া মহিলা কলেজ পরিদর্শনে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক, মানসম্মত লেখাপড়া নিশ্চিতের তাগিদ
রুমাকে মারধর করতো মানিক। প্রতিবেশি লোকজন জানান, সপ্তাহ আগে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শাররীক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন রুমা আক্তার।
স্বামী তাঁকে চকরিয়া ইউনিক হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান। একটু সুস্থ হন।
কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকালে আবারও সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রতিবেশরা জানান, রাতে তাঁর শাররীক অশান্তি বেড়ে গেলে স্বামী মানিক এবং পরিবার সদস্যরা মিলে একটি এম্বুল্যান্স গাড়িতে করে স্ত্রী রুমা আক্তারকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
গাড়িটি কক্সবাজার চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং অতিক্রম করে আজিজনগর এলাকায় পৌঁছালে গাড়িতে মারা যান গৃহবধূ রুমা আক্তার। তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেছেন, বাড়ি সংস্কারের জন্য মাসখানেক আগে এনজিও থেকে নেওয়া ৬০ হাজার টাকা রুমার কাছ থেকে হাতিয়ে নেন স্বামী মানিক।
এ নিয়ে প্রতিনিয়ত বাড়িতে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকতো। এরইমাঝে রুমা আক্তারের আরেক খালাতো বোনকে (নার্সে চাকরিরত) দ্বিতীয় বিয়ে করে মানিক।
বাসিন্দাদের মতে, দুই সংসারের ঝামেলা দুর করতে মুলতঃ প্রথম স্ত্রী রুমা আক্তারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্বামী মানিক। এলাকাবাসী জানান, নিহত গৃহবধূর বাপের বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় শুক্রবার সকালে তাঁরাই (বাপের বাড়ির লোকজন) মৃত্যুর ঘটনাটি স্থানীয় ভাবে লোকজনের কাছে প্রকাশ করে এবং এটি হত্যাকাণ্ড বলে স্থানীয় এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধিকে জানান।
পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর খবর পেয়ে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল নয়টার দিকে চকরিয়া থানা পুলিশ নিহতের বাড়িতে পৌঁছে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। ওইসময় পুলিশ স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে বাড়িতে বসে থাকা স্বামী মানিককে স্থানীয় জনতার সহায়তায় আটক করেছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, লক্ষ্যারচর ইউনিয়নে গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনাটি পিটিয়ে হত্যা কী-না এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ নিহতের শরীরের বাইরে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই।
মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়রা স্বামী মানিককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।
এই ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
❓ সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: চকরিয়ায় হাতুড়িপেটায় গৃহবধূ নিহত, স্বামী আটক মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধুম্রজাল! সম্পর্কিত তথ্য কী?
উত্তর: কক্সবাজারের চকরিয়ায় পারিবারিক ঝগড়া বিবাদের জেরে রুমা আক্তার (২৮) নামের এক গৃহবধূকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খব। মূল সংবাদ থেকে বিস্তারিত জানুন।




মন্তব্য করুন