ছয়দিনের টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় নানা রোগে আক্রান্ত বানবাসি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এরই অংশ হিসেবে দুই উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে মাঠপর্যায়ে ৫৪টি মেডিকেল টিম, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি মেডিকেল টিম এবং একটি ইমার্জেন্সি র্যাপিড রেসপন্স টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) এসব কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বন্যা এবং পরবর্তী সময়ে দুর্গত এলাকায় মানুষের মাঝে ডায়রিয়া, পানিবাহিত রোগ, জ্বর, চর্মরোগ, সাপের কামড়সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়। এ বিষয়টি আমলে নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দুই উপজেলার জন্য ৫৪টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তন্মধ্যে চকরিয়ায় ৩৩টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। এই মেডিকেল টিমে একজন উপ-সহকারি ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্য সহকারী, ইউএইসচিপি কাজ করছে।
হিমছড়িতে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, জরিমানা
মাতামুহুরী উপজেলায় ২১টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। এসব টিমও একজন উপ-সহকারি, নার্স, স্বাস্থ্য সহকারী ও ইউএইসসিপিরা কাজ করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী মেডিকেল টিমের সদস্যরা আশ্রয়কেন্দ্র, দুর্গত এলাকা ও পানিবন্দী মানুষের কাছে গিয়ে চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করবে।
শনিবার সকালে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাঠপর্যায়ের মেডিকেল টিমের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডাঃ জায়নুল আবেদিন প্রতিটি মেডিকেল টিমের টিম লিডারের হাতে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ওরস্যালাইন, প্যারাসিটামল, মেট্রোনিডাজলসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী তুলে দেন।
সভায় মেডিকেল টিমগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র ও দুর্গত এলাকায় গিয়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণ, পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরামর্শ প্রদান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং জটিল রোগীদের দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এদিন সকাল সাড়ে দশটার দিকে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় অংশ নিয়ে বন্যাদুর্গত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া, আশ্রয়কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা, প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পরে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, ভর্তি রোগীদের ওয়ার্ড, ওষুধের মজুদ ও অন্যান্য সেবা ইউনিট ঘুরে দেখেন। এ সময় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গৃহীত প্রস্তুতি, চিকিৎসাসেবার মান এবং মাঠপর্যায়ের মেডিকেল টিমগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শন শেষে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের। তিনি বলেন, দুর্যোগকালীন সময়ে কোনো মানুষ যেন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা উপকরণ ও জনবল প্রস্তুত রেখে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার নির্দেশনাও দেন তিনি।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডাঃ জায়নুল আবেদিন বলেন, বন্যা-পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত রোগ, ডায়রিয়া, জ্বর, চর্মরোগ ও সাপের কামড়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। মাঠপর্যায়ের মেডিকেল টিম নিয়মিত দুর্গত এলাকায় চিকিৎসাসেবা দেবে এবং জরুরি প্রয়োজনে র্যাপিড রেসপন্স টিম তাৎক্ষণিকভাবে কাজ করবে।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিষাক্ত সাপের কামড়ের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম মজুদ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বিষাক্ত সাপ দ্বারা দংশিত হলে বৈদ্যের ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় না নিয়ে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র অথবা সরাসরি চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।




মন্তব্য করুন