কাবুল, ১৫ মার্চ – আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক স্থাপনা ও সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের আস্তানা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী। পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, কান্দাহারে অবস্থিত কারিগরি সহায়তা অবকাঠামো এবং সরঞ্জাম সংরক্ষণের একটি বিশাল আস্তানা সফলভাবে ধ্বংস করেছে তাদের সেনারা।
উল্লেখ্য, এই কান্দাহারেই তালেবান প্রশাসনের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা অবস্থান করেন। ইসলামাবাদের দাবি, অপর একটি হামলায় কান্দাহারের একটি সুড়ঙ্গ ধ্বংস করা হয়েছে। এই সুড়ঙ্গটি আফগান তালেবান এবং নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক ই তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি যৌথভাবে ব্যবহার করত।
জাপানের সঙ্গে ২৩টি বড় চুক্তি ও স্মারক সই: ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ
স্থানীয় বাসিন্দারা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, রাতের আকাশে তারা যুদ্ধবিমানের আনাগোনা দেখেছেন এবং বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, একটি সামরিক স্থাপনা সংলগ্ন পাহাড়ের ওপর দিয়ে বিমান ওড়ার পরপরই সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুনের শিখা দেখা যায়। কান্দাহারের দক্ষিণ পূর্বে স্পিন বোলদাক এলাকাতেও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এছাড়া পূর্ব সীমান্তবর্তী খোস্ত প্রদেশের কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, সেখানেও শনিবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। তবে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ এএফপিকে জানিয়েছেন, এই হামলায় একটি মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং একটি খালি কনটেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান যেসব স্থানে হামলার কথা বলছে, তা এই দুই এলাকা থেকে অনেক দূরে অবস্থিত।
এর আগে শনিবার পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা আফগানিস্তান থেকে আসা একাধিক ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। শুক্রবার রাতে রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানি সামরিক সদর দপ্তরসহ অন্তত তিনটি স্থানে হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল।
আফগানিস্তানে নিয়োজিত জাতিসংঘ মিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান এই সংঘর্ষে দেশটিতে অন্তত ৭৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৯৩ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
এ এম/ ১৫ মার্চ ২০২৬




মন্তব্য করুন