এনজিও সংস্থা এ্যাকশন এইড প্রদত্ত উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক বরাদ্দকৃত বিনামূল্যের নলকূপের বিনিময়ে অসহায় পরিবার থেকে অর্ধলক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মেম্বার দম্পতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড উত্তর পাড়ায়।
ভূক্তভোগি এলাকার মৃত আব্দুস সালামের ছেলে বৃদ্ধ আবুল কালাম অভিযোগ করেন, তার পরিবার দীর্ঘদিন যাবত সূপেয় পানির সমস্যায় ভোগছিল।গভীর নলকূপ ছাড়া পানি মিলেনা এলাকায়।
প্রায় বছর খানেক আগে তাদের ইউনিয়নের ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার সাবিয়া আক্তার শেফাকে একটি সরকারি গভীর নলকূপ দিয়ে সহযোগিতার অনুরোধ করলে তিনি আশ্বস্ত করেন। পরে তার সিএনজি চালক স্বামী জসিম উদ্দিন তাকে একটি গভীর নলকূপ,১ হাজার লিটারের একটি পানির ট্যাঙ্ক ও বোম মটরের ব্যবস্থা হয়েছে বলে তাতে খরচের জন্য প্রথম দফায় তার কাছ থেকে ১০ হাজার , আরো কিছু দিন পর কাজ তাড়াতাড়ি শুরু হবে বলে দ্বিতীয় দফায় ৩০ হাজার এবং সর্বশেষ মহিলা মেম্বার সাবিয়া নিজ হাতে তৃতীয় দফায় ২৫ হাজার টাকা সর্বমোট ৬৫ হাজার টাকা নেন। এ টাকা হত দরিদ্র পরিবারটি সুদের বিনিময়ে ঋণ নিয়ে দেন বলে জানান। এরপরও আজ ,কাল,পরশু বলে কালক্ষেপন করে দীর্ঘ এক বছর পর সরকারি অফিসার নলকূপ স্থাপনের জায়গা দেখতে আসছে বলে তাকে শিখিয়ে দেন কোন টাকা নিয়েছে কিনা জানতে চাইলে কোন টাকা দেননি বলতে বলেন। সহজ সরল আবুল কালামও শিখিয়ে দেয়া কথা বলেন। কয়েকদিন পর নলকূপ স্থাপন কাজ শেষে শ্রমিকরা চলে যেতে চাইলে কালাম তাদের বলেন , নলকূপের সাথে ট্যান্ক এবং বোম মটর না দেয়ার কারণ জানতে চাইলে শ্রমিকরা বলেন , তাদের কাজ হচ্ছে শুধুমাত্র নলকূপ স্থাপন করা। এসময় সে তাদেরকে মহিলা মেম্বার ও তার স্বামী এসব দেয়ার কথা বলে ৬৫ হাজার টাকা নেয়ার ঘটনা জানালে তাদের সংস্থা টাকা নিয়ে এসব নলকূপ দেননা জানান।
এতে ক্ষতিগ্রস্থ ও প্রতারণার শিকার আবুল কালাম মহিলা মেম্বার ও তার স্বামীকে অহেতুক তার কাছ থেকে এত টাকা নেয়া এবং যা দেয়ার কথা তা না দেয়ার কথা জানিয়ে টাকা ফেরত চাইলে উল্টো তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
অস্কারজয়ী চিলিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা সেবাস্তিয়ান লেলিও আর নেই
এ ঘটনা ভূক্তভোগি আবুল কালাম তার ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছালাহ উদ্দিনকে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহিলা মেম্বার সাবিয়া আক্তার শেফার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করেন।তার স্বামী জসিম উদ্দিনের কাছে এ প্রতারণার বিষয়ে জানতে চাইলে নলকূপ দেয়ার কথা স্বীকার করলেও টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেননি।
নলকূপ প্রদানকারী এনজিও সংস্থা এ্যাকশন এইডের উক্ত কাজের ঠিকাদার আমিনুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে জানান, তিনি যে এনজিও সংস্থার কাজ নিয়েছেন তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেন।এতে উপকারভোগীর কাছ থেকে টাকা পয়সা নেয়ার কোন সুযোগ নেই।
উক্ত এনজিও সংস্থার এ প্রকল্পের প্রকৌশলী সোহরাব এর সাথে কথা হলে জানান, তাদের সংস্থা টাকার বিনিময়ে নলকূপ দেননা। সংস্থা উপজেলার সাথে সমন্বয় করে উপজেলা কর্তৃক প্রদত্ত তালিকা অনুসারে নির্দিষ্ট করে দেয়া পানি সঙ্কটে থাকা ব্যক্তির অনকুলে নলকূপটি স্থাপন করে দেন।
এ বিষয়ে ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিমল চাকমার সাথে যোগাযোগ করা হলে জানান, ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।




মন্তব্য করুন