পাবনা, ২৩ মার্চ – আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, গোলাগুলি, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সোমবার বেলা বারোটা থেকে শুরু হওয়া এই সহিংসতায় পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত পঞ্চাশ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমিনুজ্জামান।
কানাডার নতুন বাজেটে কার ভাগ্যে কতটা প্রাপ্তি
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। আহতদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে পাবনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মোস্তফা নূরে আলম শ্যামলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিদের নাম পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সঙ্গে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব মেহেদী হাসানের সমর্থকদের বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইমরুল কায়েস সুমন ও যুবদল নেতা শ্যামলসহ বেশ কয়েকজনকে মারধর এবং দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে সকালে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেন। এরপর দুপুরে উভয় পক্ষ শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে রেল গেইট এবং পোস্ট অফিস মোড়ে তারা মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে। এক পর্যায়ে দেশি অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গোলাগুলির শব্দে পুরো এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয় এবং স্থানীয় বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মুহূর্তের মধ্যে শহরের সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ প্রথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।




মন্তব্য করুন