জেরুজালেম, ১১ সেপ্টেম্বর – ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন করে চালানো হামলায় একদিনে আরও অন্তত ৭২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। প্রায় দুই বছর আগে শুরু হওয়া বর্বর এই অভিযানে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ৬৪ হাজার ছাড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম ১২৪ টাকা ছাড়াল, খোলাবাজারে ১২৮ টাকার বেশি
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বুধবার গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এর ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা দাঁড়াল ৬৪ হাজার ৬৫৬ জনের বেশি। এছাড়া গাজা শহর দখলে নিতে ইসরায়েল তাদের হামলা আরও তীব্র করেছে। শহরটিতে ১০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি বাস করেন।
এদিকে বার্তাসংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম গাজা শহরে বাস্তুচ্যুত পরিবারের তাঁবুতে গোলাবর্ষণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে দুটি ফিলিস্তিনি পরিবারের অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন।
এছাড়া পশ্চিম গাজা শহরের বহুতলবিশিষ্ট টিবা–২ আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি সেনারা বোমাবর্ষণ করে। আগে থেকেই সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও হামলায় দুইজন নিহত হন। রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম গাজার নাসের স্ট্রিটে বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। এতে একজন নিহত হন এবং অনেকে আহত হন। দেইর আল-বালাহ শহরে একটি তাঁবুতে ড্রোন হামলায় এক শিশুর মৃত্যু হয় এবং আরও অনেকে আহত হন।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের জালাল স্ট্রিটে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে চারজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন শিশু।
আনাদোলু বলছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই অভিযানে পুরো উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং জনগণ চরম দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে।
গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট
এনএন/ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫




মন্তব্য করুন