দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উখিয়ার মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রম জোরদারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার। সরকারি সেবার মানোন্নয়ন, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকি এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে তিনি বিরতিহীনভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৪ জুন) উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নে দিনব্যাপী বিভিন্ন সরকারি সেবা কার্যক্রম, উন্নয়ন প্রকল্প এবং জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে ইউএনও পান্না আক্তার জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক সেবা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি সেবার মানোন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদে চলমান ভিজিডব্লিউবি (VWB) কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের মাঝে চাল বিতরণ কার্যক্রম সরেজমিনে তদারকি করেন। এ সময় তিনি চালের পরিমাপ, উপকারভোগীদের তালিকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইসহ বিতরণ কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন। উপকারভোগীরা যেন নির্বিঘ্নে এবং সঠিকভাবে সরকারি সহায়তা পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন তিনি।

এ ছাড়া জালিয়াপালং ইউনিয়নে বাস্তবায়নাধীন একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, কাজের গুণগত মান এবং বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন ইউএনও। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে জালিয়াপালং ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সেবা কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এ সময় ভূমিসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে অবগত হন তিনি। সেবাপ্রাপ্তি আরও সহজ, জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও দ্রুততর করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদান করেন।

অপরদিকে জাতীয় মহিলা সংস্থা ও উপজেলা তথ্য আপার অফিসের উদ্যোগে আয়োজিত মাদক, বাল্যবিবাহ ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধবিষয়ক এক উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন ইউএনও পান্না আক্তার।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “মাদকাসক্তি, বাল্যবিবাহ এবং কিশোর গ্যাং সমাজের জন্য বড় ধরনের হুমকি। এসব সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে এসব সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে সুশিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এ সময় সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
টেকনাফে সিএনজির বিশেষ চেম্বার থেকে ১৩ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, চালক আটক
এদিকে উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের মরিচ্যা গরুবাজার সড়কের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে ইউএনও পান্না আক্তারের নির্দেশনায় ড্রেন নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটিতে প্রায় সারা বছরই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। অনেক সময় যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হতো।
হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানান, ইউএনও পান্না আক্তারের উদ্যোগে ড্রেন নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। কাজ সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, “জনদুর্ভোগ লাঘব এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দ্রুত ও মানসম্মতভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
ড্রেন নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে মরিচ্যা গরুবাজার সড়কের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দিনব্যাপী মনিটরিং, তদারকি ও জনমুখী উদ্যোগকে স্থানীয় সচেতন মহল ইতিবাচকভাবে দেখছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের এ ধরনের মাঠমুখী কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে জনসেবার মানোন্নয়ন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের সমস্যা দ্রুত সমাধানে এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।




মন্তব্য করুন