কলকাতা, ২৫ সেপ্টেম্বর – জমি দেখা হয়ে গিয়েছে। প্রস্তাব রাজ্য মন্ত্রিসভায় পাশও হয়ে গিয়েছে। আর মাত্র দু’বছরের মধ্যেই তৈরি হয়ে যাবে দুর্গা অঙ্গন। বৃহস্পতিবার আলিপুর বডিগার্ড লাইন্সের পুজো উদ্বোধনে গিয়ে এমনটাই ঘোষণা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এ বার আলিপুর বডিগার্ড লাইন্স আবাসিকের পুজোর মণ্ডপ তৈরি হয়েছে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের আদলে। বিকেলে সেই পুজোমণ্ডপের উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই মমতা বলেন, ‘‘দুর্গাপুজো এখন ইউনেস্কো হেরিটেজের অন্তর্ভুক্ত। আগামী দু’বছরের মধ্যে আমরা দুর্গা অঙ্গন তৈরি করব, যেটা জগন্নাথধামের মতোই বিশ্বসেরা হবে। সারা বছর প্রতি ক্ষণে মানুষ সেটা দেখতে পাবেন। জমি দেখা হয়ে গিয়েছে, ক্যাবিনেটে পাশও হয়ে গিয়েছে। ট্রাস্ট গঠন হয়ে গিয়েছে। কেবলমাত্র তৈরি করতে যেটুকু সময় লাগবে।’’
সিলেট নগরীতে যান চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ নির্দেশনা
চলতি বছরের ২১ জুলাই তৃণমূলের শহিদ দিবসের কর্মসূচিতেই দুর্গা অঙ্গন তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন মমতা। অগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে সেই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেয় রাজ্য মন্ত্রিসভাও। তার পর আর দেরি না করে দরপত্র ডেকে দুর্গা অঙ্গন তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে আবাসন পরিকাঠামো উন্নয়ন পর্ষদ (হিডকো)। মহালয়ার দিন সেলিমপুর পল্লীর শারদোৎসবের উদ্বোধনে গিয়ে মমতা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে মন্দিরের জন্য ট্রাস্ট গঠনও হয়ে গিয়েছে। নিউটাউনের ইকো পার্কের অদূরে রামকৃষ্ণ মিশনের পাশে তৈরি হবে দুর্গা অঙ্গন।
বৃহস্পতিবার পুজোর উদ্বোধনে গিয়ে বাংলা ভাষার অপমান নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি সব ধর্মে বিশ্বাস করি৷ সব ধর্ম, সব জাতি, সব ভাষা— সবাইকে ভালবাসি। কিন্তু আমাদের ভাষাটাও তো ভাষা। আমাদের ভাষাকে অপমান যেন না করা হয়। আমরা অনেক ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছি। হিন্দি ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছি, কুরুক, অলচিকি, রাজবংশী, কামতাপুরী— বহু ভাষাকে আমরা স্বীকৃতি দিয়েছি। এটাই বাংলার মানবিকতা, মনুষ্যত্ব, সর্বধর্মসমন্বয়। আমাদের মনীষীদের থেকে আমরা এটাই শিখেছি।’’
আলিপুর বডিগার্ড লাইন্সের পূজামণ্ডপ এ বার তৈরি হয়েছে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের আদলে৷ এই ভাবনার প্রশংসা করেছেন মমতা৷ দুর্গাপুজো ছাড়াও বছরভর দায়িত্ব পালনে পুলিশকর্মীদের ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন তিনি৷ বলেছেন, তাঁর বিচারে এই পুজোই এ বছরের সেরা পুজো! মমতা বলেন, ‘‘ওঁরা পরিবারকে সময় দিতে পারেন না । সারা বছর দায়িত্ব পালন করে চলেন। এ বছর অনেক পুজো দেখছি৷ কিন্তু আপনারা যে ভাবে পুজো করছেন, যে ভাবে জগন্নাথ মন্দির ও দিঘাকে তুলে এনেছেন, তাতে আপনারাই সেরার সেরা৷’’




মন্তব্য করুন