চট্টগ্রাম, ১ ফেব্রুয়ারি – আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখার বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট খোলা থাকবে এবং কেউ যদি তা বন্ধ করার চেষ্টা করে তবে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনের পরিবেশ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান যে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ শব্দটি অনেক পুরোনো হলেও সরকার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি সন্তোষজনক এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে গেলে নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু, উৎসবমুখর এবং নিরপেক্ষ হবে।
টোকিওর মতবিনিময় সভায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার রোডম্যাপ তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন যে বর্তমানে মতপ্রকাশের যে স্বাধীনতা দেখা যাচ্ছে তা বিগত সময়ে ছিল না। তিনি মন্তব্য করেন ফেসবুক বা ইন্টারনেট বন্ধ রাখা এখন আর গ্রহণযোগ্য কোনো বিষয় নয়। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি নির্ভয়ে সত্য তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান এবং বলেন যে জনগণ সঠিক তথ্য পাওয়ার অধিকার রাখে।
দেশের বিশাল জনসংখ্যার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করাকে একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন ১৮ কোটি মানুষের দেশে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা দুরূহ কাজ হলেও বাহিনীগুলো সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনকালীন সহিংসতা প্রসঙ্গে তিনি জানান বর্তমানে যেসব সহিংসতা পরিলক্ষিত হচ্ছে তার অধিকাংশই রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা নিজেদের দলের মধ্যকার দ্বন্দ্ব থেকে সৃষ্ট। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। উক্ত সভায় স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




মন্তব্য করুন