কক্সবাজারের পেকুয়ায় পৈত্রিক বসতভিটার বণ্টন নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে দুই স্কুলছাত্রসহ ১১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়দের একাংশ মামলাটিকে কাল্পনিক বলেও দাবি করেছেন।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলটি দায়ের করেন টইটং ইউনিয়নের স্কুলপাড়া বটতলী এলাকার বাসিন্দা আবদুল খালেক। তিনি মৃত উকিল আহমদের পুত্র। যার মামলা নম্বর সিআর ২৭০/২৬। মামলায় আহত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তাঁর স্ত্রী রুজিনা আক্তারকে।
স্থানীয়সুত্রে জানাগেছে, পৈত্রিক বসতভিটার বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওয়ারিশদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং জায়গা পরিমাপও করা হয়। তবে বাদী স্থানীয় শালিসের সিদ্ধান্ত মেনে নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন টইটং ইউপির ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল জলিল, কাতার প্রবাসী আবদুর রহমান, সৌদি প্রবাসী সোহেল, কলেজছাত্র সাকিব, স্কুলছাত্র রাকিব, সাঈদ, আজিজুর রহমান, শাকিল, শালিসকার বেলাল উদ্দিন, মিজান ও শেফায়েত।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আসামিরা সবাই বাদীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ভাই, ভাতিজা, ভাইজি জামাই ও চাচাতো ভাই।
চকরিয়ায় বন উজাড় রোধে কেবল আইনি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, আগে দখলবাজ শ্রেনির মানুষকে সচেতন করা জরুরি
ইউপি সদস্য আবদুল জলিল বলেন, এটি সম্পূর্ণ পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিসি বৈঠক হয়েছে এবং জমি মেপে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বাদী সেই সিদ্ধান্ত মানেননি। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।
ঘটনার শালিসকার বেলাল উদ্দিন বলেন, বাদী ও আসামিরা সবাই আমার আপন জেঠাতো ভাই। আমরা কয়েক দফা বৈঠক করে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করেছি। ছয় ভাই শালিসের সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও বাদী আবদুল খালেক তা মানেননি। উল্টো আমাকে শালিসকারী হওয়া সত্ত্বেও আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য ও বাদীর মা দিলুয়ারা বেগম বলেন, জমির বিষয় নিয়ে ছেলেরা সমাধানের চেষ্টা করেছে। গ্রামের মানুষ বসে শালিস করেছে, জমি মেপেও ভাগ করার কথা হয়েছে। কিন্তু খালেক তা মানেনি। আমার ছেলে আবদুল জলিল বা অন্যরা কারও ওপর হামলা করেনি। মামলা দিয়ে পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে।
এদিকে মামলার এক আসামি আবদুর রহমান বর্তমানে কাতারে অবস্থান করলেও তাকেও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি অতিরঞ্জিত বা কাল্পনিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে মামলার বিষয়ে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে নজর রাখছেন এলাকাবাসী।
পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খাইরুল আলম জানান, আদালতে দায়ের করা মামলার কপি এখনো হাতে আসেনি। কাগজ পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।




মন্তব্য করুন