ঢাকা, ০৫ ডিসেম্বর – রাতের আকাশের দিকে তাকালে মানুষ কখনও শুধু আলো দেখে না, দেখে সম্ভাবনার দরজা। হাজার বছর আগেই মানুষ সেই দরজার দিকে যাত্রা শুরু করেছিল। পৃথিবীর সীমানা পেরিয়ে অন্য এক জগতের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছিল প্রথম দুঃসাহসীরা। সময় গড়িয়েছে, প্রযুক্তি বদলেছে, কিন্তু সেই আকাশ আজও একইভাবে ডাক দেয়।
এই ডাক শুনেই মহাকাশে পা রেখেছিলেন ভ্যালেন্তিনা তেরেশকোভা। তাঁর পর স্যালি রাইড, পেগি হুইটসন, সামান্থা ক্রিস্টোফোরেটিত, সুনিতা উইলিয়ামস সহ অসংখ্য নারী পৃথিবীকে দেখিয়েছেন যে তারার পথে হাঁটার জন্য সাহসই যথেষ্ট। মানুষ যেখানে সীমা দেখে, তারা সেখানে দেখেছেন দিগন্ত।
সিলেট নগরীতে যান চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ নির্দেশনা
বাংলাদেশের নারীরাও থেমে ছিলেন না। কর্মজীবনের নানা বাধা পেরিয়ে পর্বতারোহী নিশাত মজুমদার এভারেস্ট জয় করেছিলেন। ওয়াসফিয়া নাজরীন সাত মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয় করে বাংলাদেশকে বিশ্বের মানচিত্রে নতুন পরিচয়ে উপস্থাপন করেছিলেন। খেলাধুলা, বিজ্ঞান, উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে শান্তিরক্ষা মিশন সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের মেয়েরা নিজেদের প্রতিভা প্রমাণ করেছেন। এখন সেই সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরেকটি অধ্যায়, যার রঙ ওপরে ভেসে থাকা আকাশের রঙ।
বঙ্গবন্ধু ১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর থেকেই বাংলাদেশে মহাকাশবিজ্ঞান নিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বেড়েছে গবেষণা, তরুণদের চোখে দেখা দিয়েছে নতুন স্বপ্ন। বহুদিন ধরে বাংলাদেশ বৈজ্ঞানিক তথ্যের ব্যবহারকারী হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু এবার একজন বাংলাদেশি মানুষের মহাকাশযাত্রার প্রস্তুতি দেশের গল্পকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিল। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন এক তরুণী, যার নাম সারা করিম।

ফেসবুক পোস্টে সারা লিখেছেন, নয় বছর বয়সী একটি মেয়ের মনে যে স্বপ্ন একদিন জন্ম নিয়েছিল, সেই স্বপ্নের সূচনা হয়েছিল সুনিতা উইলিয়ামসকে মহাকাশ থেকে ফিরে আসতে দেখার মুহূর্তে। সেই শিশুমনের আলোই তাঁকে ধীরে ধীরে এই পথ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। তাঁর ভাষায়, এই অর্জন শুধুই তাঁর নয়, বরং সকল বাংলাদেশি মেয়ের, প্রতিটি শিশুর এবং সেই সব মায়েদের, যাঁদের কাঁধে একটি করে মহাবিশ্ব লুকানো থাকে। তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান তাঁর পরিবার, শুভানুধ্যায়ী এবং টাইটানস স্পেস ইন্ডাস্ট্রিজকে, যাঁরা তাঁর স্বপ্নে বিশ্বাস রেখে পাশে থেকেছেন।
সারা করিমের নির্বাচনের পর বিশ্বমিডিয়া বাংলাদেশের নাম নতুনভাবে উচ্চারণ করতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের নারীরা বহুবার দেশকে সম্মান এনে দিয়েছেন। আর এবার তাঁদের সাফল্যের তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে মহাকাশ। এ অর্জন শুধু একটি মেয়ের অর্জন নয়। এটি এক জাতির প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রার ঘোষণা। যেদিন সারা মহাকাশযানে উঠবেন সেদিন বাংলাদেশের আকাশে কেবল একটি রকেটই উড়বে না, উড়বে এক নতুন প্রজন্মের স্বপ্নও।
০৫ ডিসেম্বর ২০২৫




মন্তব্য করুন