শিরোনাম ::
বিশ্ববাজারে উৎসবে মূল্যছাড়ের রেওয়াজ থাকলেও বাংলাদেশে কেন উল্টো চিত্র দেশে ভয়মুক্ত গণমাধ্যমের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে তথ্যমন্ত্রী বগুড়ায় ৫শ টাকার জন্য যুবক খুন মরদেহ নিয়ে এসপি-ডিসি অফিস ঘেরাও, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ৭৩ জেলের মুক্তির একদিন পরই ফের ৫ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি কুড়িগ্রামে ভেঙে ফেলা আ.লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, পরে ছিঁড়ে ফেললেন সমন্বয়ক ২০২৫ সালে কোস্ট গার্ডের সাফল্য ১৭ হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও মাদক জব্দ শ্বশুরের প্রয়াণে কিয়ারা আদভানির আবেগঘন বার্তা শপথের পরদিন চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর গেলেন ডা. তাহের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ক্ষমতার ভারসাম্য: সংবিধান কী বলছে? সৌদির সঙ্গে মিল রেখে চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রামে রোজা শুরু
বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ন
নোটিশ::
আমাদের নতুন ডোমেইনে আপনাকে স্বাগতম, কক্সবাজার পোস্ট ডটকমের জনপ্রিয়তাকে পুজিঁ করে অনেক নতুন ফেইসবুক পেইজ খোলা হয়েছে,তাদের কার্যকলাপের জন্য আমরা দায়ী নয়  

ফানুসের আলোয় বর্ণিল আকাশ

প্রতিবেদকের নাম:
আপডেট: বুধবার, ২০ অক্টোবর, ২০২১

এম.এ আজিজ রাসেল:

একের পর এক আগুনমুখো ফানুস উড়ে যাচ্ছে আকাশে। বর্ণিল কাগজে তৈরি বিচিত্র আকারের ফানুস। এর মধ্যে নজর কাড়ছিল ব্যতিক্রমী কিছু ফানুস। কোনোটিতে আঁকা ধর্মীয় চিহ্ন। কোনোটিতে লেখা শান্তির বাণী। একটি ফানুসে ছিল ‘কোভিড-১৯’। শত শত ফানুসের আলোয় বর্ণিল হয়ে উঠে আকাশ। সাধু সাধু ধ্বনির সুরে সুরে এ ফানুস উড়ানো হয়।

বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ও রামু বাঁকখালী নদীতে কল্প জাহাজ ভাসার মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রবারণা পূর্ণিমার দ্বিতীয় দিনে শহরের জাদিরাম, পিটাকেট, থংরো ও অগ্গমেধা ক্যাং সংলগ্ন কেন্দ্রীয় মাহাসিংদোগ্রী মন্দির প্রাঙ্গনে স্বর্গের উদ্দেশে উড়ানো হয় শত শত ফানুস। ওইসময় ফানুসের আলোয় রঙিন হয় পর্যটন নগরীর নীল আকাশ। জীর্ণতা মাড়িয়ে পরিশুদ্ধ জীবন ও করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির প্রার্থনায় মন্দির প্রাঙ্গণে মিলিত হয় হিন্দু, বৌদ্ধ, খিস্ট্রান, মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মালম্বীর হাজারো মানুষ। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সাথে হাতে হাত, কাধেঁ কাধঁ মিলিয়ে আকাশে তোলা হয় একের পর এক ফানুস। এসময় রচিত হয় সম্পতির দৃঢ় বন্ধন। যে বন্ধন শত চেষ্টা করেও যেন ছিন্ন করা যাবে না।

বিকাল থেকে রাখাইন সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ নতুন পোশাক ও উন্নতমানের খাবার নিয়ে বিহারে গমন করেন। সেখানে সুখ-শান্তি ও মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি কামনায় প্রার্থনা করেন সবাই। এবার বিহার এবং রাখাইন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো নজরকাড়া প্রায় ৫০টি নান্দনিক প্যান্ডেল তৈরি করেছে। প্যান্ডেলগুলোর মূল আকর্ষণ বুদ্ধ। জমকালোভাবে সাজানো হয়েছে এসব প্যান্ডেল। বিহারগুলোও সেজেছে নব রূপে। বর্ণিল আলোকসজ্জায় আলোকিত করা হয়েছে সর্বত্র। প্রবারণা ঘিরে বৌদ্ধ পল্লীর ঘরে ঘরে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

এবার মাহাসিংদোগ্রী মন্দিরে প্যান্ডেল করেছে কক্সবাজার সরকারি কলেজ বৌদ্ধ ছাত্র মৈত্রী, সিটি কলেজ বৌদ্ধ ছাত্র মৈত্রি, রাখাইন একতা সংঘ, বড় বাজার রাখাইন যুব সংঘ, বাংলাদেশ রাখাইন স্টুডেন্ট কাউন্সিল, ফ্রি স্টাইল রিলেশনশীপ, রাজধানী ফ্রেন্ডস সার্কেল, রাখাইন যুব ইউনিটি, হ্যাংগিং গার্ডেন, কে, আর ভিক্টোরিয়া, রাখাইন তরুণ সংঘ ও বৌদ্ধ মৈত্রি পরিষদ।

জেলার মহেশখালী, উখিয়া, চকরিয়া, রামু, পেকুয়া, টেকনাফ উপজেলা ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসনে কর্মকর্তা উ থান্ট অংক বলেন, প্রবারণার মূল প্রতিপাদ্য আত্মশুদ্ধি, শুভ, সত্য ও সুন্দরকে বরণ করে অসত্য ও অসুন্দরকে বর্জন করা। আমি কামনা করি মানুষের অন্তর থেকে সব মলিনতা দূর করে অহিংসা, সাম্য, মৈত্রী, প্রেম ও দয়া জাগ্রত হোক।

কক্সবাজার রাখাইন একতা সংঘের সভাপতি উসেন থোয়েন (উসেনমি বাবু) বলেন, সিদ্ধার্থ যখন বুদ্ধিসত্ত রূপে শ্রাবন্তী নগর থেকে গৃহত্যাগ করেন। তখন অনুমাদ্ধর্শী নদী তীরে অবস্থান কালে অধিষ্ঠান করে নিজ চুলকে কর্তন করে উপরে দিকে নিক্ষেপ করেন। সে চুল গুচ্ছ মহাতাবতিংস স¦র্গের প্যাগোডা হিসেবে স্থির আছে। তাই চুলামনি নামে প্যাগোডা উদ্দেশ্যেই পূঁজা এবং প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করতে ফানুস উড়ানো হয় বলে জানা গেছে। তথাগত ভগবান বুদ্ধের আড়াই হাজার বছর পূর্বে সময়ের তাবতিংসা স্বর্গের তিন মাস বর্ষাবাস করে কার্ত্তিকী পূর্ণিমাকে ঘিরে মানবকুলের মহাপৃথিবীতে অবতরণ করেন। এই স্মৃতিকে অমলিন করে রাখতে কক্সবাজারের বৌদ্ধ সম্প্রদায় উদযাপন করছে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর: