যশোর, ১৬ মার্চ – মুসলিম স্থাপত্যের অন্যতম প্রাচীন ও অনন্য নিদর্শন যশোরের অভয়নগর উপজেলার শুভবাড়ী গ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মসজিদ। প্রখ্যাত মুসলিম ধর্মপ্রচারক পীর খানজাহান আলীর হাতে নির্মিত প্রায় সাড়ে ৫০০ বছরের পুরোনো এই স্থাপনাটি বর্তমানে চরম অযত্ন ও অবহেলায় তার অতীত জৌলুস হারাতে বসেছে।
প্রত্নতাত্ত্বিক এই নিদর্শনটি রক্ষায় দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। ইতিহাসবিদ সতীশচন্দ্র মিত্রের লেখা ‘যশোর ও খুলনার ইতিহাস’ গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে খলিফাতাবাদ অধ্যায়ের বর্ণনা থেকে জানা যায়, ভৈরব নদের তীর ধরে যশোরের অভয়নগর উপজেলার শুভরাড়া গ্রামে পৌঁছান খানজাহান আলী (রহ.)।
হাসপাতালে ভর্তি শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
ধারণা করা হয়, খ্রিস্টীয় ১৪৪৫ থেকে ১৪৫৯ সালের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে তিনি এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, গাছগাছালি ও বাঁশবাগানের মাঝে অবস্থিত লাল পোড়া মাটির রঙের এই মসজিদের ঠিক মাঝামাঝি অংশে একটি বড় গম্বুজ এবং চার কোণে চারটি মিনার রয়েছে। দীর্ঘকাল যথাযথ সংস্কার না হওয়ায় বাইরের পোড়া মাটির ইটগুলো নষ্ট হতে শুরু করেছে।
একইসঙ্গে মসজিদের ভেতরের দেয়ালের সাদা রং ও পলেস্তারা খসে পড়ছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত দর্শনার্থী ঐতিহাসিক এই মসজিদটি দেখতে আসেন। তবে স্থাপনাটির এমন জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে তারা চরম হতাশা প্রকাশ করেন। মসজিদের সামনে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের টানানো সাইনবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্গাকার এই মসজিদটির অভ্যন্তরীণ পরিমাপ ৫ দশমিক ১৩ বর্গমিটার।
এর চার কোনায় অষ্টকোনাকৃতির চারটি টারেট বা মিনার বিদ্যমান। মসজিদের ভেতরের আয়তন ১৬ ফুট ১০ ইঞ্চি বাই ১৬ ফুট ১০ ইঞ্চি এবং উচ্চতা ২৫ ফুট। বাইরের মাপে এক মিনারের মধ্যবিন্দু থেকে অন্য মিনারের মধ্যবিন্দু পর্যন্ত দূরত্ব ২৮ ফুট ছয় ইঞ্চি। উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে মসজিদের তিনটি দরজা রয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দীন দিপু জানান, পীর খানজাহান আলী (রহ.) এর হাতে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক মসজিদটির জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন। এটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নিতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।
এ এম/ ১৬ মার্চ ২০২৬




মন্তব্য করুন