ঢাকা, ১৮ ফেব্রুয়ারি – নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথের পর এখন সবার দৃষ্টি রাষ্ট্রপতি পদের দিকে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি কে হবেন বা কবে নাগাদ এই পদে পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বহাল রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে কিংবা তাকে অভিশংসন না করা পর্যন্ত নতুন কারও রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার আইনগত সুযোগ নেই।
সংবিধান বিশ্লেষক ও আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল জানান, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরই কেবল নতুন নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে সংসদ। বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন রাষ্ট্রপতি কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। তবে শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক ভারসাম্যহীনতা বা গুরুতর অসদাচরণের কারণে পদটি শূন্য হতে পারে। এছাড়া মৃত্যু বা পদত্যাগের কারণেও পদ শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। পদ শূন্য হওয়ার নব্বই থেকে ষাট দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অধীনে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে সংবিধানে।
বর্তমানে রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা বেশ সীমিত। তবে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে প্রণীত ‘জুলাই সনদ’-এ প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়িত হলে মানবাধিকার কমিশন, নির্বাচন কমিশন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার বাড়বে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া রাষ্ট্রপতি কেবল প্রধান বিচারপতি ও প্রধানমন্ত্রীকেই নিয়োগ দিতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ অধিবেশন শুরুর পর স্পিকারের কাছে বর্তমান রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র জমা দিলে সাংবিধানিক জটিলতা ছাড়াই নতুন নির্বাচনের পথ সুগম হবে। এর আগে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। তবে সংবিধান সংশোধন ও জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের আগে ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া সময়সাপেক্ষ বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।
এসএএস/ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬







