ঢাকা, ৩১ জানুয়ারি – আন্তর্জাতিক বাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর হঠাৎ করেই স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। মাত্র একদিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমেছে প্রায় ৮ দশমিক ২২ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় দরপতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ সময় ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটা নাগাদ স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৮৯০ ডলারে নেমে আসে, যেখানে এর আগের দিনও এই দাম ছিল প্রায় ৫ হাজার ২০০ ডলারের কাছাকাছি।
উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার, পালিয়েছে কারবারিরা
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ৫৫০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল যা ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায় রেকর্ড দাম স্পর্শ করার মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্সে ৬০০ ডলারেরও বেশি কমেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই কমার পরিমাণ ৮০ হাজার ৫০০ টাকার বেশি। এত স্বল্প সময়ে বিশাল এই দরপতন স্বর্ণের বাজারে বড় ধরণের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে সাম্প্রতিক সময়ে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে টানাপোড়েন এবং ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থায় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দাম দ্রুত বেড়েছিল। তবে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিতে শুরু করায় গত দুই দিন ধরে দরপতন শুরু হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকার ইঙ্গিতের কারণেও সোনার দামে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
বাজুসের সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের সোনা ২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের সোনা ২ লাখ ২২ হাজার ২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৩ টাকা। পাশাপাশি রুপার দামও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে যেখানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৭৫৭ টাকা।
এনএন/ ৩১ জানুয়ারি ২০২৬




মন্তব্য করুন