
ঢাকা, ২১ ফেব্রুয়ারি – মাতৃভাষা প্রত্যেকটি জাতির জাতিসত্তা বিকাশের অনবদ্য মাধ্যম। মাতৃভাষা ব্যতীত আত্মপরিচয় ও আত্মমর্যাদা সমৃদ্ধ হয় না। তাই পৃথিবীর প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীই তার মাতৃভাষাকে মর্যাদা দিয়ে থাকে। মাতৃভাষার মর্যাদার ওপর ভিত্তি করেই একটা জাতিকে এগিয়ে যেতে হয়। তবে ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছেন এমন ঘটনা বিশ্বে আর নেই বললেই চলে। ভাষা আন্দোলনকে বলা হয় বাংলার মহান মুক্তিযুদ্ধে গৌরবময় বিজয় অর্জনের মূল সূত্র।
প্রথমে রাষ্ট্রভাষা বাংলা এবং পরে সার্বভৌমত্ব অর্জনের মধ্য দিয়ে আজকের মাথা উঁচু বাংলাদেশ। এর চেয়েও উল্লেখযোগ্য বিষয়, বছর ঘুরে একুশে ফেব্রুয়ারি সেই বার্তা নিয়ে হাজির হয় বিশ্ববাসীর নজরে। কারণ দিনটি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃত।
অস্কারজয়ী চিলিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা সেবাস্তিয়ান লেলিও আর নেই
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমানে পৃথিবীব্যাপী ইতিহাস ও ঘটনানির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণ বেড়েছে। পাশের দেশ ভারতের নির্মাতারা তাদের জাতীয় জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন সময় নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন এবং সেগুলো ব্যবসা সফল হচ্ছে। অথচ ভাষা আন্দোলনের ৭৩ বছর পূর্তিতে আমাদের হাতে রয়েছে মাত্র তিনটি সিনেমা, যার কোনোটাকেই উল্লেখযোগ্য বলা যায় না।
দেশ স্বাধীনের আগে জহির রায়হান ‘হাজার বছর ধরে’ নির্মাণ করলেও সেটাকে পুরোপুরি ভাষা আন্দোলনের সিনেমা বলা যায় না। শহীদুল ইসলাম খোকনের ‘বাঙলা’ সিনেমাটি ভাষা আন্দোলনের হলেও সিনেমা হিসেবে খুব বেশি নামডাক কামাতে পারেনি। এটি নির্মিত হয়েছে ভাষা আন্দোলনের ৫৪ বছর পর। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সর্বশেষ ছবি বানিয়েছেন অভিনেতা-নির্মাতা তৌকীর আহমেদ ২০১৯ সালে। ‘ফাগুন হাওয়ায়’ সিনেমাটি খুব বেশি মানুষ দেখেছে বলা যায় না। তবে যারা দেখেছে প্রশংসা করেছে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন উৎসবে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
দেশ স্বাধীনের আগে জহির রায়হান ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ নামে চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এফডিসিতে সেটা জমা দিয়েছিলেন। ‘সৃজনী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এটি নির্মিত হওয়ার কথা ছিল। পরে তত্কালীন সরকারের অসহযোগিতার কারণে এটি আলোর মুখ দেখেনি। ১৯৭০ সালে গণআন্দোলনের পটভূমিতে ‘জীবন থেকে নেয়া’ নির্মাণ করলেন জহির রায়হান। সেখানে একুশে ফেব্রুয়ারির একটি অংশ রয়েছে। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো গানটি ব্যবহূত হয়েছিল ছবিতে। ছবিতে প্রভাতফেরি, বিভিন্ন সংগঠনের পুষ্পস্তবক অর্পণের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
‘বাঙলা’র ১৩ বছর পর ২০১৯ সালে অভিনেতা-পরিচালক তৌকীর আহমেদ নির্মাণ করেন ‘ফাগুন হাওয়ায়’। টিটো রহমানের গল্প ‘বউ কথা কও’ অবলম্বনে নির্মিত এ সিনেমায় নুসরাত ইমরোজ তিশা, সিয়াম আহমেদ, আবুল হায়াত, ফজলুর রহমান বাবু অভিনয় করেন। ৪৪তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ তিনটি বিভাগে পুরস্কৃত হয় সিনেমাটি।
বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা নির্মাণ আগে থেকে কিছুটা বাড়লেও ভাষা আন্দোলন নিয়ে সিনেমার কথা শোনা যায়নি। তবে বেশকিছু প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে ভাষা আন্দোলনকে উপজীব্য করে। সরকারিভাবে ‘হূদয়ে একুশ’ ও ‘বায়ান্নর মিছিল’ নামে ডকুমেন্টারি বানানো হয়েছে।
এদিকে ৭৩ বছর পার হলেও তেমন ভাবে কেনো ভাষা আন্দোলন নিয়ে সিনেমা তৈরী হচ্ছে না জানতে চাইলে নির্মাতা ও প্রযোজক ছটকু আহমেদ বলেন, আসলে বিষয়টি নিয়ে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে সরকার। সরকার চাইলে অনুদানের সিনেমা নেয়ার সময় যেমন বলে দেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তি একটি সিনেমাকে অনুদান দেয়া হবে ঠিক তেমনি লিখে দেয়া উচিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে একটি সিনেমার জন্য অনুদান দেয়া হবে।
একই সুর নির্মাতা বদিউল আলম খোকনের মুখেও। তিনি বলেন, সরকার অনুদান দেয়ার সময় যদি বলে দেন এবার ভাষা আন্দোলন নিয়ে সিনেমা বানানোর জন্য ৫ সিনেমাকে অনুদান দেয়া হবে তখনই অনেকেই এগিয়ে আসবে সিনেমা বানাতে।
এনএন/ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫




মন্তব্য করুন