হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

টেকনাফে বিজিবির সাঁড়াশি অভিযানে ১২ মানব পাচারকারী আটক,১১ ভিকটিম উদ্ধার

আব্দুস সালাম,টেকনাফ::

আব্দুস সালাম,টেকনাফ::

বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:২৪ অপরাহ্ন

টেকনাফ উপজেলায় ৫ ঘন্টাব্যাপী বাহারছড়া উপকূলীয় পাহাড়ি এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্রের ১২ সদস্যকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

আটককৃত পাচারকারীরা হলেন, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড তুলাতুলি এলাকার মোঃ আব্দুর রশিদ (৩৫),লেঙ্গুরবিলের মোঃ মিজানুর রহমান (২০), উখিয়া থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের
মোঃ আবু তৈয়ব (২৫),মায়ানমার বুসিডংয়ের মোঃ ইদ্রিস (৩৫), তুলাতুলির জাহেদ (১৮),পৌরসভার দক্ষিণ জালিয়া পাড়ার মোঃ জুবায়ের (৩৩),বাহারছড়া কচ্ছপিয়ার নরুল আবছার (১৮),সদরের ছোট হাবির পাড়ার মোঃ ইসমাইল (৩২), বাহারছড়া বড়ডেইলের মোঃ ইমরান (২৮), কচ্ছপিয়ার নুর মোহাম্মদ (৪০),হ্নীলা জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাহমুদউল্লাহ (৩০) এবং বাহারছড়া কচ্ছপিয়ার খুরশিদা বেগম (৩৪)।

পলাতক মূলহোতারা হলেন, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ লম্ভরী এলাকার বাসিন্দার সাইফুল (৪০), একই ইউনিয়নের বড়ইতলি এলাকার নেজাম ও বাহারছড়া কচ্ছপিয়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ হোসেন (৩১)।

টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের নেতৃত্বে সন্ধ্যা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত টেকনাফের বাহারছড়া কচ্ছপিয়া পাহাড়ি এলাকা ও পৌরসভার দক্ষিণ জালিয়াপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ১১ জন ভুক্তভোগীও উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন

সিলেট নগরীতে যান চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ নির্দেশনা

বিজিবি সূত্রে জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে মেরিন ড্রাইভ ও তার আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় মানব পাচারের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছিল। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। বিজিবির দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

গত জুলাই মাসে ১৫ জন, আগস্টে ৪ জন এবং সেপ্টেম্বর মাসে এ পর্যন্ত ১৭ জন পাচারকারীকে আটক করেছে বিজিবি। গত ১৪ সেপ্টেম্বর শাহপরীর দ্বীপের মোহনায় ১০০ মায়ানমার নাগরিককে পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ করে ৪ পাচারকারীকে আটক করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, টেকনাফ এলাকায় হোসেন, সাইফুল এবং নেজাম নামের তিন মূল হোতার নেতৃত্বে একটি বিশাল পাচারকারী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। মাঠপর্যায়ের সদস্যরা প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ ও মায়ানমার নাগরিকদের মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। প্রলোভনের মধ্যে ছিল উচ্চ বেতনের চাকরি, অল্প খরচে বিদেশ যাত্রা, বিনা খরচে পাঠিয়ে পরে কাজের মাধ্যমে খরচ পরিশোধের সুযোগ। ভুক্তভোগীদের তথ্য মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত মূল হোতাদের কাছে পাঠিয়ে স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় এনে রাখা হয়। সেখানে তাদের মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং খাদ্য সঙ্কটে রাখা হয়। পরে তাদের ছোট নৌযানে করে গভীর সমুদ্রে পাঠানো হয়। অর্থসম্পন্ন ভুক্তভোগীদের জিম্মি রেখে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এই চক্রের সঙ্গে মাদক পাচার, চোরাচালান, অপহরণ ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক অপরাধেরও যোগসূত্র রয়েছে।

অধিনায়ক আশিকুর রহমান আরো জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা রুজু করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগীদের আত্মীয়স্ব জনের জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়ার কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সীমান্তে মানবতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার্থে মাদক, চোরাচালান ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে বিজিবির জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে কার্যকর থাকবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে মোট ৬২ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে, তবে এখনও ২৪ জন পলাতক রয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, পলাতকদের ধরতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

টেকনাফে বিজিবির সাঁড়াশি অভিযানে ১২ মানব পাচারকারী আটক,১১ ভিকটিম উদ্ধার

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

টেকনাফে বিজিবির সাঁড়াশি অভিযানে ১২ মানব পাচারকারী আটক,১১ ভিকটিম উদ্ধার

প্রতিবেদক: আব্দুস সালাম,টেকনাফ:: | প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:২৪ অপরাহ্ন
Print Image
টেকনাফ উপজেলায় ৫ ঘন্টাব্যাপী বাহারছড়া উপকূলীয় পাহাড়ি এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্রের ১২ সদস্যকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটককৃত পাচারকারীরা হলেন, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড তুলাতুলি এলাকার মোঃ আব্দুর রশিদ (৩৫),লেঙ্গুরবিলের মোঃ মিজানুর রহমান (২০), উখিয়া থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মোঃ আবু তৈয়ব (২৫),মায়ানমার বুসিডংয়ের মোঃ ইদ্রিস (৩৫), তুলাতুলির জাহেদ (১৮),পৌরসভার দক্ষিণ জালিয়া পাড়ার মোঃ জুবায়ের (৩৩),বাহারছড়া কচ্ছপিয়ার নরুল আবছার (১৮),সদরের ছোট হাবির পাড়ার মোঃ ইসমাইল (৩২), বাহারছড়া বড়ডেইলের মোঃ ইমরান (২৮), কচ্ছপিয়ার নুর মোহাম্মদ (৪০),হ্নীলা জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাহমুদউল্লাহ (৩০) এবং বাহারছড়া কচ্ছপিয়ার খুরশিদা বেগম (৩৪)। পলাতক মূলহোতারা হলেন, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ লম্ভরী এলাকার বাসিন্দার সাইফুল (৪০), একই ইউনিয়নের বড়ইতলি এলাকার নেজাম ও বাহারছড়া কচ্ছপিয়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ হোসেন (৩১)। টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের নেতৃত্বে সন্ধ্যা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত টেকনাফের বাহারছড়া কচ্ছপিয়া পাহাড়ি এলাকা ও পৌরসভার দক্ষিণ জালিয়াপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ১১ জন ভুক্তভোগীও উদ্ধার করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে মেরিন ড্রাইভ ও তার আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় মানব পাচারের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছিল। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। বিজিবির দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। গত জুলাই মাসে ১৫ জন, আগস্টে ৪ জন এবং সেপ্টেম্বর মাসে এ পর্যন্ত ১৭ জন পাচারকারীকে আটক করেছে বিজিবি। গত ১৪ সেপ্টেম্বর শাহপরীর দ্বীপের মোহনায় ১০০ মায়ানমার নাগরিককে পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ করে ৪ পাচারকারীকে আটক করা হয়। তদন্তে জানা যায়, টেকনাফ এলাকায় হোসেন, সাইফুল এবং নেজাম নামের তিন মূল হোতার নেতৃত্বে একটি বিশাল পাচারকারী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। মাঠপর্যায়ের সদস্যরা প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ ও মায়ানমার নাগরিকদের মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। প্রলোভনের মধ্যে ছিল উচ্চ বেতনের চাকরি, অল্প খরচে বিদেশ যাত্রা, বিনা খরচে পাঠিয়ে পরে কাজের মাধ্যমে খরচ পরিশোধের সুযোগ। ভুক্তভোগীদের তথ্য মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত মূল হোতাদের কাছে পাঠিয়ে স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় এনে রাখা হয়। সেখানে তাদের মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং খাদ্য সঙ্কটে রাখা হয়। পরে তাদের ছোট নৌযানে করে গভীর সমুদ্রে পাঠানো হয়। অর্থসম্পন্ন ভুক্তভোগীদের জিম্মি রেখে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এই চক্রের সঙ্গে মাদক পাচার, চোরাচালান, অপহরণ ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক অপরাধেরও যোগসূত্র রয়েছে। অধিনায়ক আশিকুর রহমান আরো জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা রুজু করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগীদের আত্মীয়স্ব জনের জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়ার কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সীমান্তে মানবতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার্থে মাদক, চোরাচালান ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে বিজিবির জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে কার্যকর থাকবে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে মোট ৬২ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে, তবে এখনও ২৪ জন পলাতক রয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, পলাতকদের ধরতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×