কক্সবাজারের চকরিয়া থানা হাজতে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী দূর্জয় চৌধুরীর (২৫) মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে আদালতের নির্দেশে চকরিয়া থানায় সাবেক ওসি ও স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা রুজু হয়েছে।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিহতের বাবা কমল চৌধুরী বাদি হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার।
তাঁর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর কমল চৌধুরী বাদি হয়ে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে তাঁর ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় চকরিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ও চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খানমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে নালিশী মামলা রুজু করেন।
এরই প্রেক্ষিতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর নালিশী মামলার শুনানি শেষে কক্সবাজারের জেলা দায়রা ও জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত জেলা জজ মো. মামুনুর রশিদ উল্লেখিত বিষয়ে ২১ সেপ্টেম্বর তারিখের মধ্যে চকরিয়া থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করতে জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন।
চকরিয়ায় বন উজাড় রোধে কেবল আইনি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, আগে দখলবাজ শ্রেনির মানুষকে সচেতন করা জরুরি
মামলায় এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন গত ২৮ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে বদলি হওয়া চকরিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম, থানা থেকে ক্লোজ হওয়া এএসআই হানিফ মিয়া, পুলিশ কনস্টেবল মহিউদ্দিন, ইসরাক হোসেন এবং চকরিয়া সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খানম, সহকারী শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন ও মোস্তফা কামাল, অফিস সহায়ক মো. পারভেজ, নৈশ প্রহরী নুর মোহাম্মদ। মামলার এজাহারে আরও ৪-৫জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২২ আগস্ট চকরিয়া থানা হাজতে থেকে দূর্জয় চৌধুরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বাবা কমল চৌধুরী ২৬ আগস্ট ওই ৯ জনকে আসামি করে থানায় এজাহার দায়ের করেন। কিন্তু থানায় তা মামলা হিসেবে রুজু করেনি। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে নিহতের বাবা কমল চৌধুরী গত ৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি নালিশী এজাহারটি দায়ের করেন।
এরই প্রেক্ষিতে ১৪ সেপ্টেম্বর নালিশী অভিযোগটি শুনানি শেষে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা জজ মো. মামুনুর রশিদ উল্লেখিত বিষয়ে ২১ সেপ্টেম্বর তারিখের মধ্যে চকরিয়া থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করে আদালতকে লিখিতভাবে জানাতে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফউদ্দীন শাহীনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিহত দুর্জয় চৌধুরীর বাবা মামলার বাদি কমল চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলেকে হত্যার ১০-১২ দিন আগে থেকে তাকে মানসিকভাবে চাপের মধ্যে রাখা হয়েছিল এবং হত্যার আগে তাকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কক্ষে জিম্মি করে রাখা হয়। সর্বশেষ গত ২১ আগস্ট দূর্জয়কে বিদ্যালয়ের চেক জালিয়াতি ও নগদ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পরদিন ২২ আগস্ট (শুক্রবার) থানা হাজত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে স্কুলের অফিস সহকারীর দুর্জয় চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে এজাহারনামীয় আসামিদের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলার বাদি নিহতের বাবা কমল চৌধুরী।




মন্তব্য করুন