ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর – দেশের ৭৮ শতাংশের বেশি মানুষ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট বলে একটি জরিপে বলা হয়েছে। বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিং এই জরিপ পরিচালনা করেছে। এতে সহযোগিতা করেছে বিআরএআইএন ও ভয়েস ফর রিফর্ম নামের দুটি নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।
রবিবার রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে এক গোলটেবিল আলোচনায় এই জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াৎ সারওয়ার। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
টোকিওর মতবিনিময় সভায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার রোডম্যাপ তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ২ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত এই জরিপ চালানো হয়। জরিপে বিভিন্ন বয়সের ১০ হাজার ৪১৩ জন মানুষের মতামত নেওয়া হয়। দেশের ৬৪ জেলা থেকে তাঁদের বাছাই করে সরাসরি মতামত নেওয়া হয়। জরিপে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম, নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে ধারণা, নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে ধারণা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচনের সময় ও ভোটার উপস্থিতি—এই ছয় বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের মতামত নেওয়া হয়।
জরিপের ফলাফল তুলে ধরে সভায় বলা হয়, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭৮ দশমিক ৭ শতাংশ অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মধ্যে সরকারের কার্যক্রমকে ‘ভালো’ বলেছেন ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ‘মোটামুটি’ বলেছেন ৩৯ দশমিক ২ শতাংশ।
জরিপের ফলাফলে বলা হয়, নবীনদের চেয়ে প্রবীণদের মধ্যে সরকারের প্রতি ইতিবাচক ধারণা বেশি। ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সী জেন-জি উত্তরদাতাদের মধ্যে সরকারের কার্যক্রমকে ভালো বলেছেন ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী, আর ২৯ থেকে ৪৪ বছর বয়সী মিলেনিয়াল উত্তরদাতাদের মধ্যে সরকারের কার্যক্রমকে ভালো বলেছেন ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ, ৪৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী জেন এক্সদের মধ্যে ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ সরকারের কার্যক্রমকে ভালো বলেছেন। ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সী বুমারস টুদের ৪৪ শতাংশ, ৭১ থেকে ৭৯ বছর বয়সী বুমারস ওয়ানের ৪৭ দশমিক ১ শতাংশ এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সী পোস্ট ওয়ার পালাস উত্তরদাতাদের ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ সরকারের কার্যক্রমকে ভালো বলেছেন।
সারা দেশের মানুষ নির্বাচন চাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক বছর পর ভালো একটা নির্বাচনের দিকে দেশ যাচ্ছে। সরকার প্রধান বারবার বলেছেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে। দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষেরও আশাবাদ, এমন থাকলে কারও সাধ্য নেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার।
আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশনা ইমাম, ভয়েস ফর রিফর্মের সহ-আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর, বিআরএআইএনের নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমান, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতা সৈয়দ হাসিব উদ্দিন হোসেন প্রমুখ।
সূত্র: ঢাকা টাইমস
এনএন/ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫




মন্তব্য করুন