হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

কক্সবাজার সৈকতে জমকালো আয়োজনে প্রতিমা বিসর্জন, পর্যটকের ঢল

শহিদুল ইসলাম::

শহিদুল ইসলাম::

বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:১৯ অপরাহ্ন

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আজ উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রতিমা বিসর্জন। জেলার সাতটি উপজেলার শতাধিক পূজামণ্ডপের প্রতিমা ট্রাকে করে সৈকতে আনা হয়েছে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা থেকেও প্রতিমা আনা হয়েছে বিসর্জনের জন্য।

এদিকে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার প্রতিমাগুলো মাতামুহুরী নদীতে বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে।

সন্ধ্যা ৫টায় মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে সমুদ্রে প্রতিমা বিসর্জনের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকাল থেকেই সৈকতজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও দেশের নানা জায়গা থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা জড়ো হয়েছেন এই মহাআয়োজনে অংশ নিতে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু বলেন, প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় সুষ্ঠুভাবে বিসর্জনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিমা নিয়ে আসা ও বিসর্জনের পুরো প্রক্রিয়া নিরাপদ এবং শৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। আশা করছি, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দিনটি সম্পন্ন হবে।

আরও পড়ুন

টেকনাফে সিএনজির বিশেষ চেম্বার থেকে ১৩ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, চালক আটক

প্রতিমা বিসর্জন কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সৈকতজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে রয়েছে জেলা প্রশাসনের সমন্বিত কন্ট্রোল রুম।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানান,বিসর্জন অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাও যাতে সুন্দর হয়, সে দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।

প্রতিমা বিসর্জনের ব্যতিক্রমী এই আয়োজন দেখতে অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন। সিরাজগঞ্জ থেকে পরিবারসহ আসা স্কুলশিক্ষক রাজেন্দ্র রায় বলেন,কক্সবাজারের বিসর্জন অনুষ্ঠানই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও আয়োজনে ভরপুর। তাই মাকে বিদায় জানাতে এখানেই এসেছি। প্রশাসন খুবই দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে, পর্যটকদের সবধরনের সহযোগিতা করছে।

দুর্গাপূজা ও টানা চারদিনের ছুটিকে ঘিরে কক্সবাজারে পর্যটকদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

হোটেল-মোটেল মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, শতভাগ হোটেল রুম অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। আগামী কয়েকদিনে পাঁচ লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে ধারণা করছি। অতিরিক্ত ভাড়া না নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের চাপ সামাল দিতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুত।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উত্তাল রয়েছে সমুদ্র। এ কারণে আবহাওয়া অধিদপ্তর ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। এতে সৈকতে গোসল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সি সেইফ লাইফ গার্ডের মাঠ কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন,আমাদের সদস্যরা সৈকতে সর্বক্ষণ দায়িত্ব পালন করছেন। তবে পর্যটকদেরও সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে গুপ্তখালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় গোসল না করাই উত্তম। যে কোনো সহযোগিতায় আমরা প্রস্তুত আছি।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় মাঠে রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ জানান,২৫ সেপ্টেম্বর থেকেই শহরে পর্যটকের ভিড় বাড়ছে। প্রতিমা বিসর্জনের সফল বাস্তবায়ন ও নিরাপত্তার জন্য আমরা আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছি। উৎসব শেষে পর্যন্ত আমাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

ধর্মীয় ভাবগম্ভীরতা, লোকজ উৎসব আর প্রশাসনের সুসমন্বয়ের ফলে কক্সবাজারে প্রতিমা বিসর্জন রূপ নিয়েছে একটি সফল ও অনন্য আয়োজন হিসেবে। শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি হয়ে উঠেছে হাজারো মানুষের মিলনমেলা। নিরাপত্তা, পর্যটন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের প্রশংসনীয় ভূমিকা এ আয়োজনকে করেছে আরও সুশৃঙ্খল ও আকর্ষণীয়।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

কক্সবাজার
Card Image

কক্সবাজার সৈকতে জমকালো আয়োজনে প্রতিমা বিসর্জন, পর্যটকের ঢল

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

কক্সবাজার সৈকতে জমকালো আয়োজনে প্রতিমা বিসর্জন, পর্যটকের ঢল

প্রতিবেদক: শহিদুল ইসলাম:: | প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:১৯ অপরাহ্ন
Print Image
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আজ উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রতিমা বিসর্জন। জেলার সাতটি উপজেলার শতাধিক পূজামণ্ডপের প্রতিমা ট্রাকে করে সৈকতে আনা হয়েছে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা থেকেও প্রতিমা আনা হয়েছে বিসর্জনের জন্য। এদিকে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার প্রতিমাগুলো মাতামুহুরী নদীতে বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে। সন্ধ্যা ৫টায় মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে সমুদ্রে প্রতিমা বিসর্জনের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকাল থেকেই সৈকতজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও দেশের নানা জায়গা থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা জড়ো হয়েছেন এই মহাআয়োজনে অংশ নিতে। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু বলেন, প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় সুষ্ঠুভাবে বিসর্জনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিমা নিয়ে আসা ও বিসর্জনের পুরো প্রক্রিয়া নিরাপদ এবং শৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। আশা করছি, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দিনটি সম্পন্ন হবে। প্রতিমা বিসর্জন কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সৈকতজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে রয়েছে জেলা প্রশাসনের সমন্বিত কন্ট্রোল রুম। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানান,বিসর্জন অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাও যাতে সুন্দর হয়, সে দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। প্রতিমা বিসর্জনের ব্যতিক্রমী এই আয়োজন দেখতে অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন। সিরাজগঞ্জ থেকে পরিবারসহ আসা স্কুলশিক্ষক রাজেন্দ্র রায় বলেন,কক্সবাজারের বিসর্জন অনুষ্ঠানই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও আয়োজনে ভরপুর। তাই মাকে বিদায় জানাতে এখানেই এসেছি। প্রশাসন খুবই দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে, পর্যটকদের সবধরনের সহযোগিতা করছে। দুর্গাপূজা ও টানা চারদিনের ছুটিকে ঘিরে কক্সবাজারে পর্যটকদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হোটেল-মোটেল মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, শতভাগ হোটেল রুম অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। আগামী কয়েকদিনে পাঁচ লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে ধারণা করছি। অতিরিক্ত ভাড়া না নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের চাপ সামাল দিতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুত। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উত্তাল রয়েছে সমুদ্র। এ কারণে আবহাওয়া অধিদপ্তর ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। এতে সৈকতে গোসল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সি সেইফ লাইফ গার্ডের মাঠ কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন,আমাদের সদস্যরা সৈকতে সর্বক্ষণ দায়িত্ব পালন করছেন। তবে পর্যটকদেরও সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে গুপ্তখালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় গোসল না করাই উত্তম। যে কোনো সহযোগিতায় আমরা প্রস্তুত আছি। পর্যটকদের নিরাপত্তায় মাঠে রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ জানান,২৫ সেপ্টেম্বর থেকেই শহরে পর্যটকের ভিড় বাড়ছে। প্রতিমা বিসর্জনের সফল বাস্তবায়ন ও নিরাপত্তার জন্য আমরা আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছি। উৎসব শেষে পর্যন্ত আমাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। ধর্মীয় ভাবগম্ভীরতা, লোকজ উৎসব আর প্রশাসনের সুসমন্বয়ের ফলে কক্সবাজারে প্রতিমা বিসর্জন রূপ নিয়েছে একটি সফল ও অনন্য আয়োজন হিসেবে। শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি হয়ে উঠেছে হাজারো মানুষের মিলনমেলা। নিরাপত্তা, পর্যটন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের প্রশংসনীয় ভূমিকা এ আয়োজনকে করেছে আরও সুশৃঙ্খল ও আকর্ষণীয়।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×