ওয়াশিংটন, ০৫ অক্টোবর – ১৭১৫ সালে ডুবে যাওয়া এক স্প্যানিশ জাহাজের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার হলো এক বিরল ধনভান্ডার। ফ্লোরিডার উপকূলের কাছে সমুদ্রের তলদেশ থেকে পাওয়া গেছে হাজারেরও বেশি রৌপ্যমুদ্রা এবং পাঁচটি স্বর্ণমুদ্রা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১২ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
ধনসম্পদগুলো উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান “১৭১৫ ফ্লিট–কুইন্স জুয়েলস এলএলসি”। প্রতিষ্ঠানটির মোটর ভেসেল জাস্ট রাইট-এর ক্যাপ্টেন লেভিন শেভার্স এবং তাঁর ক্রু ফ্লোরিডার বিখ্যাত ‘ট্রেজার কোস্ট’ এলাকায় এই মুদ্রাগুলো আবিষ্কার করেন। উদ্ধার হওয়া রৌপ্যমুদ্রাগুলো পরিচিত ‘রিয়েলস’ নামে এবং স্বর্ণমুদ্রাগুলো ‘এস্কুদোস’ নামে।
টোকিওর মতবিনিময় সভায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার রোডম্যাপ তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই আবিষ্কারটি ১৭১৫ সালের ৩১ জুলাইয়ের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেদিন স্পেনগামী এক বিশাল নৌবহর ফ্লোরিডার কাছাকাছি সাগরে ডুবে যায়। ঐতিহাসিকদের ধারণা, ওই দুর্ঘটনায় প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের সোনা, রুপার মুদ্রা ও গয়না সমুদ্রে হারিয়ে গিয়েছিল।
উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠানের অপারেশন ডিরেক্টর স্যাল গুটুসো এক বিবৃতিতে বলেন,“এই আবিষ্কার কেবল ধনসম্পদের নয়, বরং এটি এক জীবন্ত ইতিহাস। প্রতিটি মুদ্রা স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগের কথা বলে। যারা তখন সাগর পাড়ি দিয়েছিল, তাদের গল্প আজ আমাদের হাতে ধরা দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “একসঙ্গে এক হাজারের বেশি মুদ্রা পাওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। প্রতিটি মুদ্রা আমাদের সেই সময়ের সমাজ, বাণিজ্য ও রাজনীতি সম্পর্কে ধারণা দেয়।”
ফ্লোরিডার সমুদ্রসীমায় কঠোর সরকারি তত্ত্বাবধানে প্রত্নতাত্ত্বিক নিয়ম মেনে উদ্ধার কাজ চলছে। স্যাল গুটুসো জানান,“প্রতিটি আবিষ্কারই ১৭১৫ সালের সেই বিপর্যয়ের গল্পকে আরও বাস্তব করে তুলছে। আমরা এগুলো সংরক্ষণ ও গবেষণার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুঝতে পারে।”
উদ্ধার করা মুদ্রাগুলো জনসমক্ষে প্রদর্শনের আগে বিশেষভাবে সংরক্ষণ ও পরিশোধন করা হবে। স্থানীয় ফ্লোরিডা জাদুঘরগুলোতে বাছাই করা কিছু মুদ্রা প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা সমুদ্রের তলদেশে লুকানো ইতিহাসের এই সোনালি নিদর্শন সরাসরি দেখতে পারেন।
সূত্র: ঢাকা টাইমস
এনএন/ ০৫ অক্টোবর ২০২৫




মন্তব্য করুন