ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি – বিগত দুই দশক ধরে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে সংস্কৃতি ও বিনোদন অঙ্গনের তারকাদের অংশগ্রহণ যেন একটি নিয়মিত ঘটনায় রূপ নিয়েছিল। বিশেষ করে ২০২৪ সালের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক তারকা রাজনীতির মাঠে নেমেছিলেন এবং অনেকেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তবে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেইচিত্রে আমূল পরিবর্তন এসেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনোদন অঙ্গন থেকে কোনো তারকার প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ না করার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায় ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেক তারকা বর্তমানে চরম বিপর্যয়ের মুখে রয়েছেন। সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বর্তমানে কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন। চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ পটপরিবর্তনের পরপরই দেশত্যাগ করেছেন এবং অভিনেত্রী তারানা হালিমসহ অনেকের অবস্থান অস্পষ্ট। অন্যদিকে তারকা ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান দেশে ফিরতে পারছেন না এবং মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা নীরব ভূমিকা পালন করছেন।
টোকিওর মতবিনিময় সভায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার রোডম্যাপ তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে এসব তারকা কেবল ক্যারিয়ারই নয় বরং ব্যক্তিগত সম্মান ও সামাজিক অবস্থানও হারিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিগত সময়ে চিত্রনায়ক রিয়াজ, শাকিল খান, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী ও অরুণা বিশ্বাসসহ অনেক তারকা নির্দিষ্ট দলের হয়ে সক্রিয় ছিলেন। তারা বর্তমানে লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন। এর ফলে আগামী নির্বাচনে তারকাদের অনাগ্রহ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অপরদিকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর, মনির খান, বেবী নাজনীন ও কনক চাঁপার নাম প্রার্থী হিসেবে শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে প্রার্থী না হলেও তারা দলের প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। ঢাকা ১৭ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে কণ্ঠশিল্পী মনির খান, বেবী নাজনীন, রবি চৌধুরী ও মঈন খানসহ অনেককে গণসংযোগে দেখা গেছে। তারকা ফুটবলার আমিনুল হক ব্যতীত আগামী সংসদ নির্বাচন সম্ভবত তারকামুক্ত হতে যাচ্ছে। ফলে অতীতে যেমন সংসদে গান বা কবিতার আসর বসত তার সম্ভাবনা এবার অত্যন্ত ক্ষীণ।
এস এম/ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬




মন্তব্য করুন