উখিয়া পুলিশ বিভাগের মধ্যে দালাল সিন্ডিকেটের দাপট দিন দিন আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, থানায় যেকোনো জিডি বা মামলার প্রক্রিয়ার জন্য আসা সাধারণ নাগরিকদের টার্গেট করে অর্থ হাতানোর ঘটনা এ উপজেলায় নিত্যনৈমিত্তিক চিত্রে পরিণত হয়েছে।
পুলিশের বিশেষ শাখার তথ্য অনুযায়ী, উখিয়া থানার এলাকায় অন্তত ডজনখানেক ব্যক্তি “দালাল” নামে পরিচিত। এদের মধ্যে অনেকে দীর্ঘ এক দশক ধরে এই অসাধু ব্যবসাকে পেশা হিসেবে চালিয়ে আসছেন। তালিকাভুক্ত দালালদের মধ্যে আছেন — সুলতান,শাহজাহান, শাহাবউদ্দিন, ফারুক, জামালসহ আরও অনেকে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এসব দালাল থানার ওসির “মাইম্যান” পরিচয় ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের নানাভাবে হয়রানি ও অর্থ হাতিয়ে নেন।
উদাহরণ হিসেবে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি একজন এনজিও কর্মকর্তা রিফাত উদ্দিন থানায় মোবাইল হারানোর জিডি করতে গেলে এক ব্যক্তি তাকে জিডি সহজে সম্পন্ন করে এক সপ্তাহের মধ্যে মোবাইল উদ্ধার করার কথা বলে ৫ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। পরে জানা যায়, সেই ব্যক্তি থানার কেউ নয়। রিফাত উদ্দিন ঘটনাটি এড়িয়ে গেছেন।
টোকিওর মতবিনিময় সভায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার রোডম্যাপ তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সিন্ডিকেটের সঙ্গে থানার কিছু পুলিশ সদস্যের সম্পর্ক থাকার কথাও স্থানীয়দের অভিযোগে এসেছে। বলা হয়, এই নেটওয়ার্কের পেছনে আছেন কিছু পুলিশ কর্মকর্তা, কনস্টেবল ও ওসির বডিগার্ড পরিচয়ধারী।
উখিয়া প্রেসক্লাবের আহবায়ক সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার তার ফেসবুকে লিখেছেন, “ওসির আশ্রয়ে উখিয়া থানা দালাল, দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোরদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের আচরণ দেখে মনে হয়, এটি যেন অবৈধ অর্থ উপার্জনের অঘোষিত দরবার।”
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ দাবি করেছেন, “এই কথিত দালালরা আমার অফিসে আসার সুযোগ পায় না। আমি নিয়মিত আমার অফিসারদের সতর্ক করি যেন বাইরের চিহ্নিত দালালদের কোনোভাবে প্রশ্রয় না দেওয়া হয়।”
স্থানীয়রা মনে করেন, “থানা মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। সেখানে যদি ভোগান্তি থাকে, তা অধিকার লঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত। আশা করি, দালাল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলে অচিরেই থানায় নাগরিকবান্ধব পরিবেশ ফিরে আসবে।”
উখিয়ার এই পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে, সীমান্ত উপজেলা হলেও নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ।
- কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
- চকরিয়ায় নিহত ৫ ভাইয়ের পরিবারকে ১৫কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টে রিট




মন্তব্য করুন