ফরিদপুর, ২ মার্চ – ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় বাঙ্গি চাষে এবার কৃষকদের মুখে সাফল্যের হাসি ফুটেছে। আকারে কিছুটা ছোট হলেও উৎপাদন ভালো হওয়ায় এবং পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে চাহিদা বাড়ায় বাঙ্গির বাজার এখন জমজমাট হয়ে উঠেছে।
ইফতারির অন্যতম জনপ্রিয় এই ফল কিনতে প্রতিদিন সকাল থেকেই ক্ষেত ও মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় ভিড় করছেন পাইকার ও খুচরা ক্রেতারা। উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের পূর্ব সদরদী গ্রামে প্রায় ৫০ জন কৃষক ২৫ হেক্টর জমিতে এবার বাঙ্গি চাষ করেছেন। ভোর থেকেই ক্ষেত থেকে বাঙ্গি তুলে ঝুড়িতে ভরে সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে এবং বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাক ও পিকআপ নিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা।
মাদারীপুরে একের পর এক বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা
ঢাকা বরিশাল মহাসড়কের পাশে সবুজ ক্ষেতজুড়ে হলুদ ফুলে ভরা বাঙ্গির লতাপাতা পথচারীদের নজর কাড়ছে। সকাল আটটার পর থেকেই শুরু হয় বেচাকেনা যেখানে ঢাকা, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা ছুটে আসছেন।
কৃষকদের তথ্যমতে বাঙ্গি শত হিসেবে বিক্রি হচ্ছে এবং প্রতি ১০০ বাঙ্গির দাম ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ঢাকার ব্যবসায়ী ইব্রাহিম মিয়া জানান যে পরিবহন ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে প্রতি বাঙ্গিতে অতিরিক্ত প্রায় ৩০ টাকা যোগ হয় যার ফলে খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি পড়ে। মাঠ ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ বাঙ্গির ওজন ৩ থেকে ৫ কেজির মধ্যে এবং আকারে ছোট হলেও স্বাদে ভাঙ্গার বাঙ্গির বেশ সুনাম রয়েছে।
মৌসুমের শুরুতে ভাইরাসজনিত আক্রমণে চাষিরা দুশ্চিন্তায় পড়লেও কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলন ভালো হয়েছে। পূর্ব সদরদী গ্রামের মাসুদ শেখ জানান যে তিনি ২০০০ সালের দিকে পরীক্ষামূলকভাবে বাঙ্গি চাষ শুরু করেন এবং এবার চার বিঘা জমিতে চাষ করে ভালো লাভবান হয়েছেন।




মন্তব্য করুন