কক্সবাজারের টেকনাফে অনলাইন জুয়া পরিচালনার অভিযোগে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের ৯ সদস্যকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৯টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে তাঁদের অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে বিজিবি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজিবি বলছে, গত প্রায় তিন মাস ধরে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে আসছিল। গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান এবং তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে চক্রটির সদস্যদের পরিচয়, কার্যক্রমের ধরন ও অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
বৃহস্পতিবার একটি জাহাজ সেন্টমার্টিন যাচ্ছে, এক জাহাজে যাবেন সব টিকেট সংগ্রহকারীরা
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালকে কেন্দ্র করে চক্রটি বিপুল পরিমাণ অর্থ লগ্নি করে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছিল—এমন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের আলীর ডেইল ও মন্ডলপাড়ার দুটি স্থানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দুটি আস্তানা থেকে ৯ জনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন শুক্কুর আলী (২৮), সাইফুল ইসলাম, জাফর আলম, সোলেমান (১৫), আব্দুল হান্নান (২৩), নূরুল হাকিম (১৯), জান্নাত উল্লাহ (২২), মোহাম্মদ ইউনুস (২১) ও মোহাম্মদ ইসমাইল (৩৭)। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন সাবরাং ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং কয়েকজন কুতুপালং এফডিএমএন (রোহিঙ্গা) ক্যাম্পের বাসিন্দা।
বিজিবির দাবি, আটক ব্যক্তিরা 1XBET, BABU88, 3666BET, DAILY TAKA, MILLION GOLDEN DEAL, 499BET, XX999 ও 3333BET22–সহ বিভিন্ন অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্মে বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করতেন।
তাঁদের মধ্যে কয়েকজন BINANCE ও BYBIT–এর মতো ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মও ব্যবহার করতেন। তদন্তে তাঁদের বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে চক্রটি কার্যক্রম পরিচালনা করত বলে জানিয়েছে বিজিবি।
টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি মাদক, চোরাচালান, অনলাইন জুয়া ও অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করে টেকনাফ মডেল থানায় সোপর্দ করা হয় বলে বিজিবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সত্যতা নিশ্চিত করেন।তিনি বলেন আটককৃত আসামীদের কক্সবাজার আদালতে পাঠানো প্রক্রিয়া চলছে।




মন্তব্য করুন