হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

ইন্টারনেটে আসক্ত ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

মঙ্গলবার, ১৩ জুন ২০২৩, ০২:০৭ অপরাহ্ন


ঢাকা, ১৩ জুন – ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রতি আসক্তি অনুভব করেন৷
‘আঁচল ফাউন্ডেশন’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থা তাদের এক জরিপে এই তথ্য জানিয়েছে৷ তাদের জরিপে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ইলেকট্রনিক গেজেটও অন্তর্ভুক্ত ছিলো৷ তবে তাদের এই জরিপ নিয়ে প্রশ্নও আছে৷ বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটা জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা৷ বাস্তবে সংখ্যাটা এত বেশি নাও হতে পারে৷
প্রতিষ্ঠানটি সারাদেশের এক হাজার ৭৭৩ জন শিক্ষার্থী শিক্ষার্থীর মধ্যে চরিপ চালায়- যাদের বয়স ১৬ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে৷ এরমধ্যে নারী ৪৯.৫ এবং পুরুষ ৪৯.৭ শতাংশ৷ তৃতীয় লিঙ্গের ০.৮ শতাংশ৷ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত জরিপটি চালানো হয়৷

বিশ্লেষকেরা বলছেন,”ইন্টারনেট ভিত্তিক যত প্রোডাক্ট তৈরি করা হচ্ছে তারা টার্গেটই হলো আসক্ত করা৷ তাই এই ব্যাপারে অভিভাবকদের সবার আগে সচেতন হতে হবে৷ কারণ ইন্টারনেট মানুষের প্রতিদিনের জীবনের অংশ হয়ে গেছে৷ এটা বাদ দেয়ার কোনো উপায় নেই৷ তাই এখন দরকার ইন্টারনেট লিটারেসি৷”
জরিপে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭২.২ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন তারা তাদের জীবনে কখনো না কখনো মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন৷ এই মানসিক সমস্যার জন্য ৮৫.৯ শতাংশ শিক্ষার্থী ইন্টারনেটকে দায়ী করেন৷

আরও পড়ুন

সিলেট নগরীতে যান চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ নির্দেশনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন,”আমাদের তরুণদের ব্যস্ত রাখার মতো কোনো ব্যবস্থা আমরা রাখছি না৷ বিনোদন বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোরও এখন তেমন সুযোগ নাই৷ ঢাকা শহরে খেলার মাঠ নাই ফলে তরুণরা ইন্টারনেটে সময় কাটাচ্ছে৷ এটা এক সময় তাদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করে৷ তারা বাস্তব দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভার্চুয়াল জগতের বাসিন্দা হয়ে উঠছে৷ এতে তাদের মানসিক এবং শারীরিক দুই ধরনের সমস্যাই হচ্ছে৷”
“এই জরিপে যদি ৪০ থেকে ৫৫-৬০ বছরের নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হতো তাহলে ভিন্ন আরেকটি চিত্র পাওয়া যেত৷ যা থেকে এই ইন্টারনেট আসক্তির কারণ বের করা সহজ হতো” মনে করেন, এই অধ্যাপক৷

জরিপে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের ৯৪.১ শতাংশ পড়াশুনার কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও পড়াশুনাসহ দরকারি কাজের চেয়ে বিনোদন বা সময় কাটানোর জন্যই শিক্ষার্থীরা বেশি সময় ইন্টারনেটে ব্যয় করেন৷ তারা দিনের বড় একটি সময় অনলাইনে থাকছেন৷ সর্বোাচচ ৩৬.৬ শতাংশ শিক্ষার্থী দিনে পাঁচ-সাত ঘন্টা ইন্টারনেটে থাকেন৷ পড়াশোনার ফাঁকে অনলাইনে গেলে ৫২.৬ শতাংশের পড়াশোনার মনোযোগ হারিয়ে যায়৷ ৩১.২ শতাংশের পড়াশুনায় অনীহা জন্ম নেয়৷
আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট তানসেন রোজ বলেন, “আমরা গভীর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখতে পেরেছি৷ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া৷ পড়াশুনা ছেড়ে অন্য নেতিবাচক কাজে যুক্ত হয়ে পড়া৷ একটি কল্পনার জগতে বাস করার প্রবণতা এমনকি আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটেছে৷ আছে শারীরিক নানা প্রতিক্রিয়া৷ রাত জেগে ইন্টারনেটে থাকলে তার তো বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা হবেই৷”

তিনি মনে করেন, “ইন্টারনেট ব্যবহার করার শুরুতেই একজনকে এর সব দিক সম্পর্কে সচেতন করতে হবে৷ কারণ ইন্টারন্টে ছাড়া তো আমরা চলতে পারব না৷ তাই এর ভালো ও খারাপ দিক সম্পর্কে খোলাখুলি সন্তানদের সঙ্গে আলাপ করতে হবে৷”
ইন্টারনেটের কারণে ৫৭.২ শতাংশ শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে৷ তাদের মধ্যে ৫৯.৬ শতাংশ মনে করেন ইন্টারনেটে সময় ব্যয় তাদের পড়াশোনার ক্ষতি করছে৷ ১৭.৮ শতাংশ ইন্টারনেটে পর্ন দেখা, সাইবার ক্রাইম, বাজি ধরা ও বুলিংসহ অপ্রীতিকর কাজে যুক্ত হয়ে পড়েছেন৷ ২৩ শতাংশ অন্তর্মুখি হয়ে পড়েছেন, ৩৫.৬ শতাংশ ডিপ্রেশনসহ বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপ অনুভব করেছেন এবং ২০.৩ শতাংশ সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন৷

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ২৩.৬ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন তাদের বাস্তব জীবনের পাশাপাশি আরেকটি ভার্চুয়াল জগত তৈরি হয়েছে৷ ১৯.৫ শতাংশ জানিয়েছেন মন খুলে কথা বলার মত মানুষ পাচ্ছেন না ৷ এছাড়াও ৯.৯ শতাংশ জানান, তারা এর প্রভাবে সামাজিকভাবে মিশতে পারছেন না৷

তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষক জাকারিয়া স্বপন বলেন, “আমাদের বুঝতে হবে ইন্টারনেট ভিত্তিক প্রডাক্টগুলো মানুষকে আসক্ত করতেই তৈরি হয়৷ ফেসবুক চায় সারাক্ষণ এটা মানুষ ব্যবহার করুক৷ কারণ এটা তাদের ব্যবসা৷ ইন্সটাগ্রাম চায় সারাক্ষণ মানুষ ছবি ও ভিডিও আপলোড করুক৷ তাহলে তাদের ব্যবসা বাড়বে৷ মানুষকে আসক্ত করতে তারা অর্থ বিনিয়োগ করে গবেষণা করে৷”
তার কথা,”এই ব্যবসার কনজিউমার এন্ডে আছি আমরা৷ তাই আমারা যদি এর ভালো এবং ক্ষতির দিক না বুঝতে পারি তাহলে তো আমাদের সমস্যা হবেই৷ পরিবারের বড়রাই যদি ইন্টারনেটে আসক্ত হন তাহলে তরুণদের সচেতন করবেন কীভাবে৷ মুখের কথায় তো কাজ হবে না৷ তারা তো দেখে শেখে৷”
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা এখন ইন্টারনেটের প্রভাবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত রোগি বেশি পাচ্ছি৷ দিন দিন এর নেতিবাচক প্রভাব বাড়ছে৷ এরমধ্যে পড়াশুনা ও কাজের প্রতি অনাগ্রহ, বাস্তব জীবন নিয়ে ভয়- এগুলো রয়েছে৷ যারা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত তাদের মধ্যে স্বাভাবিক যৌনস্পৃহা কমে যাচ্ছে৷”

তবে তিনি মনে করেন,”আঁচল ফাউন্ডেশনের যে জরিপ তা স্বেচ্ছা মতামতের ভিত্তিতে করা৷ তারা বলছেন যে তারা আসক্ত বলে নিজেদের মনে করছেন৷ কিন্তু বাস্তবে সেটা নাও হতে পারে৷ কারো মানসিক সমস্যার কারণ হয়তো অন্যকিছু কিন্তু সে ভাবছে ইন্টারনেট৷ ফলে সংখ্যাটা অনেক বেশি মনে হচ্ছে৷ বাস্তবে এটা নাও হতে পারে৷ তবে আমাদের সচেতন হতে হবে৷”

তার কথা, “আমাদের মনে রাখতে হবে ইন্টারনেট ব্যবহার করলেই খারাপ তা কিন্তু নয়৷ এটা আমাদের প্রয়োজন৷ তাই দরকার ইন্টারনেট লিটারেসি৷ এটা পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র সবার কাজ৷”

আর কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন,” কেউ ইন্টারনেটে আসক্ত হলেও তাকে তা থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব কাউন্সেলিংসহ আরো কিছু ব্যবস্থার মাধ্যমে৷ তবে সবার জন্য একই প্রক্রিয়া নয়৷ আমরা আসক্তি দেখে একেক জনের জন্য একেক রকম পদ্ধতি কাজে লাগাই৷”

সূত্র: ডয়চে ভেল
আইএ/ ১৩ জুন ২০২৩

 

সম্পুর্ন খবরটি পড়ার জন্য এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ::ইন্টারনেটে আসক্ত ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী first appeared on DesheBideshe.


coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

ইন্টারনেটে আসক্ত ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

ইন্টারনেটে আসক্ত ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জুন ২০২৩, ০২:০৭ অপরাহ্ন
Print Image
[ad_1] ঢাকা, ১৩ জুন – ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রতি আসক্তি অনুভব করেন৷ ‘আঁচল ফাউন্ডেশন’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থা তাদের এক জরিপে এই তথ্য জানিয়েছে৷ তাদের জরিপে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ইলেকট্রনিক গেজেটও অন্তর্ভুক্ত ছিলো৷ তবে তাদের এই জরিপ নিয়ে প্রশ্নও আছে৷ বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটা জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা৷ বাস্তবে সংখ্যাটা এত বেশি নাও হতে পারে৷ প্রতিষ্ঠানটি সারাদেশের এক হাজার ৭৭৩ জন শিক্ষার্থী শিক্ষার্থীর মধ্যে চরিপ চালায়- যাদের বয়স ১৬ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে৷ এরমধ্যে নারী ৪৯.৫ এবং পুরুষ ৪৯.৭ শতাংশ৷ তৃতীয় লিঙ্গের ০.৮ শতাংশ৷ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত জরিপটি চালানো হয়৷ বিশ্লেষকেরা বলছেন,”ইন্টারনেট ভিত্তিক যত প্রোডাক্ট তৈরি করা হচ্ছে তারা টার্গেটই হলো আসক্ত করা৷ তাই এই ব্যাপারে অভিভাবকদের সবার আগে সচেতন হতে হবে৷ কারণ ইন্টারনেট মানুষের প্রতিদিনের জীবনের অংশ হয়ে গেছে৷ এটা বাদ দেয়ার কোনো উপায় নেই৷ তাই এখন দরকার ইন্টারনেট লিটারেসি৷” জরিপে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭২.২ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন তারা তাদের জীবনে কখনো না কখনো মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন৷ এই মানসিক সমস্যার জন্য ৮৫.৯ শতাংশ শিক্ষার্থী ইন্টারনেটকে দায়ী করেন৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন,”আমাদের তরুণদের ব্যস্ত রাখার মতো কোনো ব্যবস্থা আমরা রাখছি না৷ বিনোদন বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোরও এখন তেমন সুযোগ নাই৷ ঢাকা শহরে খেলার মাঠ নাই ফলে তরুণরা ইন্টারনেটে সময় কাটাচ্ছে৷ এটা এক সময় তাদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করে৷ তারা বাস্তব দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভার্চুয়াল জগতের বাসিন্দা হয়ে উঠছে৷ এতে তাদের মানসিক এবং শারীরিক দুই ধরনের সমস্যাই হচ্ছে৷” “এই জরিপে যদি ৪০ থেকে ৫৫-৬০ বছরের নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হতো তাহলে ভিন্ন আরেকটি চিত্র পাওয়া যেত৷ যা থেকে এই ইন্টারনেট আসক্তির কারণ বের করা সহজ হতো” মনে করেন, এই অধ্যাপক৷ জরিপে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের ৯৪.১ শতাংশ পড়াশুনার কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও পড়াশুনাসহ দরকারি কাজের চেয়ে বিনোদন বা সময় কাটানোর জন্যই শিক্ষার্থীরা বেশি সময় ইন্টারনেটে ব্যয় করেন৷ তারা দিনের বড় একটি সময় অনলাইনে থাকছেন৷ সর্বোাচচ ৩৬.৬ শতাংশ শিক্ষার্থী দিনে পাঁচ-সাত ঘন্টা ইন্টারনেটে থাকেন৷ পড়াশোনার ফাঁকে অনলাইনে গেলে ৫২.৬ শতাংশের পড়াশোনার মনোযোগ হারিয়ে যায়৷ ৩১.২ শতাংশের পড়াশুনায় অনীহা জন্ম নেয়৷ আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট তানসেন রোজ বলেন, “আমরা গভীর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখতে পেরেছি৷ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া৷ পড়াশুনা ছেড়ে অন্য নেতিবাচক কাজে যুক্ত হয়ে পড়া৷ একটি কল্পনার জগতে বাস করার প্রবণতা এমনকি আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটেছে৷ আছে শারীরিক নানা প্রতিক্রিয়া৷ রাত জেগে ইন্টারনেটে থাকলে তার তো বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা হবেই৷” তিনি মনে করেন, “ইন্টারনেট ব্যবহার করার শুরুতেই একজনকে এর সব দিক সম্পর্কে সচেতন করতে হবে৷ কারণ ইন্টারন্টে ছাড়া তো আমরা চলতে পারব না৷ তাই এর ভালো ও খারাপ দিক সম্পর্কে খোলাখুলি সন্তানদের সঙ্গে আলাপ করতে হবে৷” ইন্টারনেটের কারণে ৫৭.২ শতাংশ শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে৷ তাদের মধ্যে ৫৯.৬ শতাংশ মনে করেন ইন্টারনেটে সময় ব্যয় তাদের পড়াশোনার ক্ষতি করছে৷ ১৭.৮ শতাংশ ইন্টারনেটে পর্ন দেখা, সাইবার ক্রাইম, বাজি ধরা ও বুলিংসহ অপ্রীতিকর কাজে যুক্ত হয়ে পড়েছেন৷ ২৩ শতাংশ অন্তর্মুখি হয়ে পড়েছেন, ৩৫.৬ শতাংশ ডিপ্রেশনসহ বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপ অনুভব করেছেন এবং ২০.৩ শতাংশ সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন৷ জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ২৩.৬ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন তাদের বাস্তব জীবনের পাশাপাশি আরেকটি ভার্চুয়াল জগত তৈরি হয়েছে৷ ১৯.৫ শতাংশ জানিয়েছেন মন খুলে কথা বলার মত মানুষ পাচ্ছেন না ৷ এছাড়াও ৯.৯ শতাংশ জানান, তারা এর প্রভাবে সামাজিকভাবে মিশতে পারছেন না৷ তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষক জাকারিয়া স্বপন বলেন, “আমাদের বুঝতে হবে ইন্টারনেট ভিত্তিক প্রডাক্টগুলো মানুষকে আসক্ত করতেই তৈরি হয়৷ ফেসবুক চায় সারাক্ষণ এটা মানুষ ব্যবহার করুক৷ কারণ এটা তাদের ব্যবসা৷ ইন্সটাগ্রাম চায় সারাক্ষণ মানুষ ছবি ও ভিডিও আপলোড করুক৷ তাহলে তাদের ব্যবসা বাড়বে৷ মানুষকে আসক্ত করতে তারা অর্থ বিনিয়োগ করে গবেষণা করে৷” তার কথা,”এই ব্যবসার কনজিউমার এন্ডে আছি আমরা৷ তাই আমারা যদি এর ভালো এবং ক্ষতির দিক না বুঝতে পারি তাহলে তো আমাদের সমস্যা হবেই৷ পরিবারের বড়রাই যদি ইন্টারনেটে আসক্ত হন তাহলে তরুণদের সচেতন করবেন কীভাবে৷ মুখের কথায় তো কাজ হবে না৷ তারা তো দেখে শেখে৷” জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা এখন ইন্টারনেটের প্রভাবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত রোগি বেশি পাচ্ছি৷ দিন দিন এর নেতিবাচক প্রভাব বাড়ছে৷ এরমধ্যে পড়াশুনা ও কাজের প্রতি অনাগ্রহ, বাস্তব জীবন নিয়ে ভয়- এগুলো রয়েছে৷ যারা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত তাদের মধ্যে স্বাভাবিক যৌনস্পৃহা কমে যাচ্ছে৷” তবে তিনি মনে করেন,”আঁচল ফাউন্ডেশনের যে জরিপ তা স্বেচ্ছা মতামতের ভিত্তিতে করা৷ তারা বলছেন যে তারা আসক্ত বলে নিজেদের মনে করছেন৷ কিন্তু বাস্তবে সেটা নাও হতে পারে৷ কারো মানসিক সমস্যার কারণ হয়তো অন্যকিছু কিন্তু সে ভাবছে ইন্টারনেট৷ ফলে সংখ্যাটা অনেক বেশি মনে হচ্ছে৷ বাস্তবে এটা নাও হতে পারে৷ তবে আমাদের সচেতন হতে হবে৷” তার কথা, “আমাদের মনে রাখতে হবে ইন্টারনেট ব্যবহার করলেই খারাপ তা কিন্তু নয়৷ এটা আমাদের প্রয়োজন৷ তাই দরকার ইন্টারনেট লিটারেসি৷ এটা পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র সবার কাজ৷” আর কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন,” কেউ ইন্টারনেটে আসক্ত হলেও তাকে তা থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব কাউন্সেলিংসহ আরো কিছু ব্যবস্থার মাধ্যমে৷ তবে সবার জন্য একই প্রক্রিয়া নয়৷ আমরা আসক্তি দেখে একেক জনের জন্য একেক রকম পদ্ধতি কাজে লাগাই৷” সূত্র: ডয়চে ভেল আইএ/ ১৩ জুন ২০২৩  সম্পুর্ন খবরটি পড়ার জন্য এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ::ইন্টারনেটে আসক্ত ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী first appeared on DesheBideshe. [ad_2]

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×