হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন: তিন বছরেও পূর্ণাঙ্গ চালু হয়নি, সেবাবঞ্চিত যাত্রীরা, নষ্ট হচ্ছে অবকাঠামো

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ অপরাহ্ন
📌 সংক্ষেপ: উদ্বোধনের পর প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হয়নি কক্সবাজারের আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন। ফলে প্রতিশ্রুত অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন যাত্রীরা। অন্যদিকে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে…

উদ্বোধনের পর প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হয়নি কক্সবাজারের আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন। ফলে প্রতিশ্রুত অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন যাত্রীরা। অন্যদিকে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্টেশন কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অংশ ইতোমধ্যেই নষ্ট হতে শুরু করেছে।

রেলওয়ের তথ্যমতে, প্রায় সাড়ে ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০১ কিলোমিটার রেলপথ, ৩৮টি সেতু ও ৯টি স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে প্রকল্পটির উদ্বোধনের পরের মাসে নতুন রেলপথে ট্রেন চালু করা হয়। এর মাধ্যমে পর্যটন নগরী কক্সবাজার প্রথমবারের মতো দেশের রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়।

এ প্রকল্পের অধীনে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কাছে ঝিলংজা ইউনিয়নের চান্দের পাড়ায় ২১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৯ একর এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে ঝিনুক আকৃতির ছয়তলাবিশিষ্ট ১ লাখ ৮৭ হাজার বর্গফুটের আইকনিক রেলস্টেশন।

গত দুই বছরে পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্টেশনের স্টিলের কাঠামো ও বিভিন্ন ফিটিংসে ধুলোর আস্তর জমেছে। পাশাপাশি কাঠামোর বেশ কিছু অংশে মরিচা ধরতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন

টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাটির নিচে ৩০ লাখ টাকার ইয়াবা উদ্ধার

প্রয়োজনীয় জনবলের নিয়োগের অনুমোদন না মেলায় স্টেশনড়ি পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়েছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে। কিন্তু প্রথম দফার দরপত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান সাড়া দেয়নি। ফলে শর্ত শিথিল করে দ্বিতীয় দফায় দরপত্র ডাকা হয়েছে।

সেবাবঞ্চিত যাত্রীরা, নষ্ট হচ্ছে অবকাঠামো

আইকনিক রেলস্টেশনে রয়েছে তারকা মানের হোটেল, শপিংমল, রেস্তোরাঁ, শিশুযত্ন কেন্দ্র, লাগেজ রাখার লকারসহ অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। দৈনিক ৪৬ হাজার মানুষের ধারণক্ষমতার শীতাতপনিয়ন্ত্রিত এ রেলস্টেশনে আরও আছে ডাকঘর, কনভেনশন সেন্টার, তথ্যকেন্দ্র, এটিএম বুথ ও প্রার্থনার স্থান।

মূল ভবনের নিচতলার রাখা হয়েছে টিকিট কাউন্টার, অভ্যর্থনা কক্ষ, লকার, তথ্যকেন্দ্র, মসজিদ, শিশুদের বিনোদনের জায়গা, প্যাসেঞ্জার লাউঞ্জ ও পদচারী সেতুতে যাতায়াতের পথ। দ্বিতীয় তলায় ওয়েটিং রুম, শপিংমল, শিশুযত্ন কেন্দ্র, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি রয়েছে। তৃতীয় তলায় ৩৯ কক্ষবিশিষ্ট তারকা মানের হোটেল, চতুর্থ তলায় রেস্তোরাঁ, শিশুযত্ন কেন্দ্র, কনফারেন্স হল ও কর্মকর্তাদের কার্যালয় আছে। আর পঞ্চম তলায় অফিস ও ষষ্ঠ তলায় মাল্টিপারপাস হলের অবকাঠামো রয়েছে।

এসব সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও যাত্রীদের জন্য ওয়েটিং রুম, বিশ্রাম কক্ষের মতো নূন্যতম সেবাও চালু হয়নি। যাত্রীদের বসার জন্য নিচতলায় শুধু চেয়ার বসানো হয়েছে।

নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পূর্ণাঙ্গরূপে চালু না হওয়ায় স্টেশনটির বিভিন্ন অবকাঠামো ও সরঞ্জাম নষ্ট হচ্ছে। ব্যবহার শুরু না হওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণও হচ্ছে না। ফলে ভবনের টয়লেট, বিভিন্ন ফিটিংস নষ্ট হচ্ছে। চলন্ত সিঁড়িতেও সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এছাড়া ভবনটি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন না করায় স্টিলের কাঠামোর বিভিন্ন অংশে মরিচা ও শ্যাওলা পড়ছে।

স্টেশনটির দায়িত্ব থাকা একজন রেল কর্মচারী টিবিএসকে বলেন, যাত্রীদের জন্য মৌলিক সেবাগুলোর বেশিরভাগই এখনো চালু হয়নি।

তিনি আরও বলেন, স্টেশনের সৌন্দর্য্যবর্ধনের অবকাঠামোও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে। স্টেশনের প্রধান আকর্ষণ ঝিনুকের পাইপেও মরিচা ও শ্যাওলা ধরেছে।

বর্তমানে চারজন স্টেশনমাস্টার, চারজন বুকিং সহকারী, পাঁচজন টিকিট কালেক্টর, তিনজন পোর্টার, ১২ জন পয়েন্টসম্যান ও ছয়জন গেটকিপার দিয়ে স্টেশনটি পরিচালনা করা হচ্ছে। আর স্টেশনের নিরাপত্তায় আটজন রেলওয়ে পুলিশ ও ১২ জন রেলওয়ে সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশাল এই স্টেশন কমপ্লেক্সটি পরিচালনার জন্য যে পরিমাণ জনবল দরকার, বর্তমান কর্মীর সংখ্যা তার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ।

সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের সময় দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাদের কাছে স্টেশনের নানা সংকট ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরেন। তারা জানান, পর্যাপ্ত জনবল ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অভাবে বর্তমানে অত্যন্ত সীমিত সামর্থ্য নিয়ে স্টেশনের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রাখা হলেও সেগুলোর পরিচালনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না থাকায় পুরো স্টেশনটি এখনো পুরোপুরি উন্মুক্ত করা যায়নি। এছাড়া পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার ঘাটতিতে স্টেশন প্রাঙ্গণ প্রায়ই অপরিচ্ছন্ন থাকছে এবং পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথে দৈনিক ৩১ জোড়া ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা ছিল রেলওয়ের। তবে বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে চলছে মাত্র চার জোড়া ট্রেন। এর মধ্যেই ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের মহানগর এক্সপ্রেসের সার্ভিস কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এছাড়া চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটের মেঘনা এক্সপ্রেসও কক্সবাজার পর্যন্ত পরিচালনার কথা রয়েছে।

শর্ত শিথিলি করে আবারও দরপত্র

স্টেশনটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি অপারেটর নিয়োগে চলতি বছরের শুরুতে দরপত্র আহ্বান করেছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে।

আট প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনলেও বাণিজ্যিক শর্ত ব্যবসাবান্ধব না হওয়া কারণ উল্লেখ করে কেউই দরপত্র জমা দেয়নি।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ের তথ্যমতে, কোনো প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল না করায় কারণ জানতে গত এপ্রিলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে রেলওয়ে।

বৈঠকে প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, রেলওয়ে ৫০০ লোকবল নিয়োগের কথা বলেছে। আর পুরো স্টেশনকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে নির্ধারতি যন্ত্রপাতি ক্রেনার শর্ত দিয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, এজন্য অপারেটরকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। অথচ স্টেশনটি বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে।

রেলওয়ে চুক্তি করবে ১২ বছরের। এর মধ্যে এই বিপুল বিনিয়োগের অর্থ উঠে আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়া অফেরতযোগ্য অগ্রিম ও পারফরম্যান্স গ্যারান্টির ২০ কোটি টাকা আটকে রাখার শর্তেও তারা আপত্তি জানায়। তাদের যুক্তি ছিল, ব্যাংকঋণ নিয়ে এই অর্থ বিনিয়োগ করলে সেই অনুপাতে মুনাফা হবে না।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে ৫ কোটি টাকা অফেরতযোগ্য অগ্রিম ও ১৫ কোটি টাকা পারফরম্যান্স সিকিউরিটি দেওয়ার শর্ত শিথিল করা, বিলম্বে ইউটিলিটি বিল পরিশোধের জরিমানার হার কমানো, চুক্তি বাতিলের ধারা আরও নমনীয় করা, চুক্তির মেয়াদ ১২ থেকে বাড়িয়ে ২০ বছর করাসহ বিভিন্ন শর্ত পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয়া হয়।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শর্ত শিথিল করে দ্বিতীয় দফায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এতে অফেরতযোগ্য অগ্রিম ৫ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ১ কোটি টাকা এবং পারফরম্যান্স সিকিউরিটি ১৫ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। এছাড়া চুক্তির মেয়াদ ১২ বছর থেকে বাড়িয়ে ২০ বছর করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) মামুনুল ইসলাম টিবিএসকে বলেন, ‘এই স্টেশনটি আমরাই পরিচালনা করতে পারতাম লোকজন থাকলে। কিন্তু নতুন রুটের জনবল এখনও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পায়নি।

‘এজন্য আইকনিক স্টেশন পরিচালনায় বেসরকারি অপারেটর নিয়োগ দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। অনেকে দরপত্র কিনলেও কেউ জমা দেয়নি। এবার তাদের পরামর্শ অনুযায়ী শর্তও শিথিল করা হয়েছে। আশা করি, এবার অপরেটর নিয়োগ দিতে পারব।

সুত্র: টিবিএস

❓ সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন: তিন বছরেও পূর্ণাঙ্গ চালু হয়নি, সেবাবঞ্চিত যাত্রীরা, নষ্ট হচ্ছে অবকাঠামো সম্পর্কিত তথ্য কী?

উত্তর: উদ্বোধনের পর প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হয়নি কক্সবাজারের আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন। ফলে প্রতিশ্রুত অনেক সুযোগ-সুবিধা থেক। মূল সংবাদ থেকে বিস্তারিত জানুন।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

কক্সবাজার
Card Image

কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন: তিন বছরেও পূর্ণাঙ্গ চালু হয়নি, সেবাবঞ্চিত যাত্রীরা, নষ্ট হচ্ছে অবকাঠামো

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন: তিন বছরেও পূর্ণাঙ্গ চালু হয়নি, সেবাবঞ্চিত যাত্রীরা, নষ্ট হচ্ছে অবকাঠামো

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ অপরাহ্ন
Print Image
উদ্বোধনের পর প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হয়নি কক্সবাজারের আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন। ফলে প্রতিশ্রুত অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন যাত্রীরা। অন্যদিকে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্টেশন কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অংশ ইতোমধ্যেই নষ্ট হতে শুরু করেছে। রেলওয়ের তথ্যমতে, প্রায় সাড়ে ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০১ কিলোমিটার রেলপথ, ৩৮টি সেতু ও ৯টি স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে প্রকল্পটির উদ্বোধনের পরের মাসে নতুন রেলপথে ট্রেন চালু করা হয়। এর মাধ্যমে পর্যটন নগরী কক্সবাজার প্রথমবারের মতো দেশের রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়। এ প্রকল্পের অধীনে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কাছে ঝিলংজা ইউনিয়নের চান্দের পাড়ায় ২১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৯ একর এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে ঝিনুক আকৃতির ছয়তলাবিশিষ্ট ১ লাখ ৮৭ হাজার বর্গফুটের আইকনিক রেলস্টেশন। গত দুই বছরে পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্টেশনের স্টিলের কাঠামো ও বিভিন্ন ফিটিংসে ধুলোর আস্তর জমেছে। পাশাপাশি কাঠামোর বেশ কিছু অংশে মরিচা ধরতে শুরু করেছে। প্রয়োজনীয় জনবলের নিয়োগের অনুমোদন না মেলায় স্টেশনড়ি পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়েছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে। কিন্তু প্রথম দফার দরপত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান সাড়া দেয়নি। ফলে শর্ত শিথিল করে দ্বিতীয় দফায় দরপত্র ডাকা হয়েছে। সেবাবঞ্চিত যাত্রীরা, নষ্ট হচ্ছে অবকাঠামো আইকনিক রেলস্টেশনে রয়েছে তারকা মানের হোটেল, শপিংমল, রেস্তোরাঁ, শিশুযত্ন কেন্দ্র, লাগেজ রাখার লকারসহ অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। দৈনিক ৪৬ হাজার মানুষের ধারণক্ষমতার শীতাতপনিয়ন্ত্রিত এ রেলস্টেশনে আরও আছে ডাকঘর, কনভেনশন সেন্টার, তথ্যকেন্দ্র, এটিএম বুথ ও প্রার্থনার স্থান। মূল ভবনের নিচতলার রাখা হয়েছে টিকিট কাউন্টার, অভ্যর্থনা কক্ষ, লকার, তথ্যকেন্দ্র, মসজিদ, শিশুদের বিনোদনের জায়গা, প্যাসেঞ্জার লাউঞ্জ ও পদচারী সেতুতে যাতায়াতের পথ। দ্বিতীয় তলায় ওয়েটিং রুম, শপিংমল, শিশুযত্ন কেন্দ্র, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি রয়েছে। তৃতীয় তলায় ৩৯ কক্ষবিশিষ্ট তারকা মানের হোটেল, চতুর্থ তলায় রেস্তোরাঁ, শিশুযত্ন কেন্দ্র, কনফারেন্স হল ও কর্মকর্তাদের কার্যালয় আছে। আর পঞ্চম তলায় অফিস ও ষষ্ঠ তলায় মাল্টিপারপাস হলের অবকাঠামো রয়েছে। এসব সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও যাত্রীদের জন্য ওয়েটিং রুম, বিশ্রাম কক্ষের মতো নূন্যতম সেবাও চালু হয়নি। যাত্রীদের বসার জন্য নিচতলায় শুধু চেয়ার বসানো হয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পূর্ণাঙ্গরূপে চালু না হওয়ায় স্টেশনটির বিভিন্ন অবকাঠামো ও সরঞ্জাম নষ্ট হচ্ছে। ব্যবহার শুরু না হওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণও হচ্ছে না। ফলে ভবনের টয়লেট, বিভিন্ন ফিটিংস নষ্ট হচ্ছে। চলন্ত সিঁড়িতেও সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এছাড়া ভবনটি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন না করায় স্টিলের কাঠামোর বিভিন্ন অংশে মরিচা ও শ্যাওলা পড়ছে। স্টেশনটির দায়িত্ব থাকা একজন রেল কর্মচারী টিবিএসকে বলেন, যাত্রীদের জন্য মৌলিক সেবাগুলোর বেশিরভাগই এখনো চালু হয়নি। তিনি আরও বলেন, স্টেশনের সৌন্দর্য্যবর্ধনের অবকাঠামোও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে। স্টেশনের প্রধান আকর্ষণ ঝিনুকের পাইপেও মরিচা ও শ্যাওলা ধরেছে। বর্তমানে চারজন স্টেশনমাস্টার, চারজন বুকিং সহকারী, পাঁচজন টিকিট কালেক্টর, তিনজন পোর্টার, ১২ জন পয়েন্টসম্যান ও ছয়জন গেটকিপার দিয়ে স্টেশনটি পরিচালনা করা হচ্ছে। আর স্টেশনের নিরাপত্তায় আটজন রেলওয়ে পুলিশ ও ১২ জন রেলওয়ে সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশাল এই স্টেশন কমপ্লেক্সটি পরিচালনার জন্য যে পরিমাণ জনবল দরকার, বর্তমান কর্মীর সংখ্যা তার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের সময় দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাদের কাছে স্টেশনের নানা সংকট ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরেন। তারা জানান, পর্যাপ্ত জনবল ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অভাবে বর্তমানে অত্যন্ত সীমিত সামর্থ্য নিয়ে স্টেশনের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রাখা হলেও সেগুলোর পরিচালনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না থাকায় পুরো স্টেশনটি এখনো পুরোপুরি উন্মুক্ত করা যায়নি। এছাড়া পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার ঘাটতিতে স্টেশন প্রাঙ্গণ প্রায়ই অপরিচ্ছন্ন থাকছে এবং পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথে দৈনিক ৩১ জোড়া ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা ছিল রেলওয়ের। তবে বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে চলছে মাত্র চার জোড়া ট্রেন। এর মধ্যেই ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের মহানগর এক্সপ্রেসের সার্ভিস কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এছাড়া চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটের মেঘনা এক্সপ্রেসও কক্সবাজার পর্যন্ত পরিচালনার কথা রয়েছে। শর্ত শিথিলি করে আবারও দরপত্র স্টেশনটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি অপারেটর নিয়োগে চলতি বছরের শুরুতে দরপত্র আহ্বান করেছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে। আট প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনলেও বাণিজ্যিক শর্ত ব্যবসাবান্ধব না হওয়া কারণ উল্লেখ করে কেউই দরপত্র জমা দেয়নি। বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ের তথ্যমতে, কোনো প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল না করায় কারণ জানতে গত এপ্রিলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে রেলওয়ে। বৈঠকে প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, রেলওয়ে ৫০০ লোকবল নিয়োগের কথা বলেছে। আর পুরো স্টেশনকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে নির্ধারতি যন্ত্রপাতি ক্রেনার শর্ত দিয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, এজন্য অপারেটরকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। অথচ স্টেশনটি বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে। রেলওয়ে চুক্তি করবে ১২ বছরের। এর মধ্যে এই বিপুল বিনিয়োগের অর্থ উঠে আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়া অফেরতযোগ্য অগ্রিম ও পারফরম্যান্স গ্যারান্টির ২০ কোটি টাকা আটকে রাখার শর্তেও তারা আপত্তি জানায়। তাদের যুক্তি ছিল, ব্যাংকঋণ নিয়ে এই অর্থ বিনিয়োগ করলে সেই অনুপাতে মুনাফা হবে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে ৫ কোটি টাকা অফেরতযোগ্য অগ্রিম ও ১৫ কোটি টাকা পারফরম্যান্স সিকিউরিটি দেওয়ার শর্ত শিথিল করা, বিলম্বে ইউটিলিটি বিল পরিশোধের জরিমানার হার কমানো, চুক্তি বাতিলের ধারা আরও নমনীয় করা, চুক্তির মেয়াদ ১২ থেকে বাড়িয়ে ২০ বছর করাসহ বিভিন্ন শর্ত পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয়া হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শর্ত শিথিল করে দ্বিতীয় দফায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এতে অফেরতযোগ্য অগ্রিম ৫ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ১ কোটি টাকা এবং পারফরম্যান্স সিকিউরিটি ১৫ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। এছাড়া চুক্তির মেয়াদ ১২ বছর থেকে বাড়িয়ে ২০ বছর করা হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) মামুনুল ইসলাম টিবিএসকে বলেন, 'এই স্টেশনটি আমরাই পরিচালনা করতে পারতাম লোকজন থাকলে। কিন্তু নতুন রুটের জনবল এখনও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পায়নি। 'এজন্য আইকনিক স্টেশন পরিচালনায় বেসরকারি অপারেটর নিয়োগ দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। অনেকে দরপত্র কিনলেও কেউ জমা দেয়নি। এবার তাদের পরামর্শ অনুযায়ী শর্তও শিথিল করা হয়েছে। আশা করি, এবার অপরেটর নিয়োগ দিতে পারব। সুত্র: টিবিএস

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×