হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

প্রেসক্রিপশনে লুকানো স্বার্থের গল্প – DesheBideshe

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট ২০২৫, ০৯:২৫ অপরাহ্ন


স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তির যুগলবন্দীতে আধুনিক বিশ্বে চিকিৎসা একটি পরিশীলিত ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে স্বীকৃত। মানুষের জীবন রক্ষাই যেখানে মূল উদ্দেশ্য, সেখানে কিছু চিকিৎসকের লোভ আর প্রতারণা এই মহৎ পেশাটিকে কলঙ্কিত করছে। আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার জটিল কাঠামো এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার মাঝে লুকিয়ে আছে এমন কিছু ফাঁকফোকর, যেগুলো সুযোগ দেয় অনৈতিক ব্যক্তিদের। ২০২৩ সালের টরন্টো “Ghost Patient” স্ক্যাম তার এক চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত, যা শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, মানুষে-মানুষে বিশ্বাসের সেতুবন্ধনকেও ভেঙে দিয়েছে।

ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন ডা. ফাহমিদা সোবহান—একজন প্রথিতযশা ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান, যিনি East Toronto Wellness Clinic নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ফ্যামিলি মেডিসিন, ফিজিওথেরাপি ও ডায়াগনস্টিক সেবা দিতেন। কিন্তু এই বাহ্যিক পরিচয়ের আড়ালে ছিল এক অন্ধকার জগত, যেখানে রুগীর নাম, মৃত্যু তথ্য, স্বাস্থ্য নম্বর এমনকি সম্পূর্ণ কাল্পনিক রোগী পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়েছে সরকারি OHIP ফান্ড থেকে কোটি টাকা আত্মসাতের জন্য।

আরও পড়ুন

কক্সবাজার পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে ২১ জন গ্রেপ্তার

কীভাবে কাজ করত এই স্ক্যাম? এটি ছিল বহুস্তর বিশিষ্ট অপারেশন—Ghost Patient তৈরি থেকে শুরু করে অতিরিক্ত বিলিং, জাল রেফারেল ও রেকর্ড ফ্যাব্রিকেশন, সবই অত্যন্ত সংগঠিতভাবে পরিচালিত হয়েছে। একদিনে ১০০ রোগীর বেশি বিল জমা দেওয়া, মৃত ব্যক্তির স্বাস্থ্য কার্ড ব্যবহার, প্রতি সপ্তাহে এক রোগীর নামে চারবার ক্লিনিক ভিজিটের রেকর্ড—এসবই এক সময় তদন্তকারীদের সন্দেহে ফেলে।

অর্থলোভে অন্ধ হয়ে শুধু ভূত রোগী তৈরি নয়, সুস্থ ব্যক্তিদের অক্ষমতার সার্টিফিকেট দিয়ে ODSP সুবিধা পাইয়ে দেওয়া, গাড়ি পার্কিং পারমিট জালিয়াতি, এবং নতুন আসা রিফিউজিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ‘বিশেষ ডায়েট’ নোট ইস্যু— ডা. ফাহমিদা ও তার দল যেন একটি পূর্ণাঙ্গ জালিয়াতি শিল্পে রূপ দিয়েছিল এই ক্লিনিককে।

আদালত ডা. ফাহমিদাকে সাত বছরের কারাদণ্ড, $১.২ মিলিয়ন জরিমানা এবং মেডিকেল লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করার আদেশ দেয়। তার তিনজন সহকর্মীকেও দুই থেকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়া হয় এবং রোগীদের মধ্যে যারা প্রতারণার সাথে যুক্ত ছিল, তাদের থেকে পার্কিং পারমিট ও ODSP সুবিধা ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

এই কেলেঙ্কারির সামাজিক প্রভাব ব্যাপক। সাধারণ রোগীরা যারা প্রকৃত ODSP সুবিধার প্রয়োজন ছিল, তাদের এখন বহু স্তরের যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হয়। স্বাস্থ্য খাতে সাধারণ মানুষের আস্থাও অনেকাংশে নষ্ট হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ—বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন চালু, AI-ভিত্তিক অ্যানোমালি ডিটেকশন, এবং দ্বিতীয় ডাক্তার দ্বারা রিপোর্ট ভেরিফাই করার বাধ্যবাধকতা। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—এই উদ্যোগগুলো কতটা কার্যকর হবে? নতুন কোনো ডা. ফাহমিদা কি আবার উঠে আসবে না?

চিকিৎসা পেশার আরেকটি অন্ধকার দিক হলো ওষুধ কোম্পানির সাথে ডাক্তারদের আর্থিক সম্পর্ক। অনেক সময় ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করে গোপন কমিশন, স্পনসরশিপ বা উপহার। রোগীর সর্বোচ্চ সেবা নয়, বরং কোন ওষুধ কোম্পানি বেশি সুবিধা দিচ্ছে—তা হয়ে ওঠে প্রেসক্রিপশনের নির্ধারক।

ডা. ফাহমিদা সোবহানের কাহিনি তাই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি এক বৃহৎ দুর্নীতিগ্রস্ত চক্রের প্রতিফলন, যা আধুনিকতার মুখোশ পরে ধীরে ধীরে সমাজকে গ্রাস করছে। সেই মুখোশ খুলে সত্য তুলে আনা, শুধু সরকারের দায় নয়—এটি আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।

দ্রষ্টব্য (Footnote):
এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ডা. ফাহমিদা সোবহান, East Toronto Wellness Clinic, এবং সংযুক্ত ছবি সম্পূর্ণ কল্পিত। আইনি সীমাবদ্ধতা থাকায় কল্পিত নাম ব্যবহার করা হয়েছে।


coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

প্রেসক্রিপশনে লুকানো স্বার্থের গল্প – DesheBideshe

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

প্রেসক্রিপশনে লুকানো স্বার্থের গল্প – DesheBideshe

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট ২০২৫, ০৯:২৫ অপরাহ্ন
Print Image
[ad_1] স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তির যুগলবন্দীতে আধুনিক বিশ্বে চিকিৎসা একটি পরিশীলিত ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে স্বীকৃত। মানুষের জীবন রক্ষাই যেখানে মূল উদ্দেশ্য, সেখানে কিছু চিকিৎসকের লোভ আর প্রতারণা এই মহৎ পেশাটিকে কলঙ্কিত করছে। আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার জটিল কাঠামো এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার মাঝে লুকিয়ে আছে এমন কিছু ফাঁকফোকর, যেগুলো সুযোগ দেয় অনৈতিক ব্যক্তিদের। ২০২৩ সালের টরন্টো “Ghost Patient” স্ক্যাম তার এক চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত, যা শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, মানুষে-মানুষে বিশ্বাসের সেতুবন্ধনকেও ভেঙে দিয়েছে।ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন ডা. ফাহমিদা সোবহান—একজন প্রথিতযশা ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান, যিনি East Toronto Wellness Clinic নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ফ্যামিলি মেডিসিন, ফিজিওথেরাপি ও ডায়াগনস্টিক সেবা দিতেন। কিন্তু এই বাহ্যিক পরিচয়ের আড়ালে ছিল এক অন্ধকার জগত, যেখানে রুগীর নাম, মৃত্যু তথ্য, স্বাস্থ্য নম্বর এমনকি সম্পূর্ণ কাল্পনিক রোগী পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়েছে সরকারি OHIP ফান্ড থেকে কোটি টাকা আত্মসাতের জন্য।কীভাবে কাজ করত এই স্ক্যাম? এটি ছিল বহুস্তর বিশিষ্ট অপারেশন—Ghost Patient তৈরি থেকে শুরু করে অতিরিক্ত বিলিং, জাল রেফারেল ও রেকর্ড ফ্যাব্রিকেশন, সবই অত্যন্ত সংগঠিতভাবে পরিচালিত হয়েছে। একদিনে ১০০ রোগীর বেশি বিল জমা দেওয়া, মৃত ব্যক্তির স্বাস্থ্য কার্ড ব্যবহার, প্রতি সপ্তাহে এক রোগীর নামে চারবার ক্লিনিক ভিজিটের রেকর্ড—এসবই এক সময় তদন্তকারীদের সন্দেহে ফেলে।অর্থলোভে অন্ধ হয়ে শুধু ভূত রোগী তৈরি নয়, সুস্থ ব্যক্তিদের অক্ষমতার সার্টিফিকেট দিয়ে ODSP সুবিধা পাইয়ে দেওয়া, গাড়ি পার্কিং পারমিট জালিয়াতি, এবং নতুন আসা রিফিউজিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ‘বিশেষ ডায়েট’ নোট ইস্যু— ডা. ফাহমিদা ও তার দল যেন একটি পূর্ণাঙ্গ জালিয়াতি শিল্পে রূপ দিয়েছিল এই ক্লিনিককে।আদালত ডা. ফাহমিদাকে সাত বছরের কারাদণ্ড, $১.২ মিলিয়ন জরিমানা এবং মেডিকেল লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করার আদেশ দেয়। তার তিনজন সহকর্মীকেও দুই থেকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়া হয় এবং রোগীদের মধ্যে যারা প্রতারণার সাথে যুক্ত ছিল, তাদের থেকে পার্কিং পারমিট ও ODSP সুবিধা ফিরিয়ে নেওয়া হয়।এই কেলেঙ্কারির সামাজিক প্রভাব ব্যাপক। সাধারণ রোগীরা যারা প্রকৃত ODSP সুবিধার প্রয়োজন ছিল, তাদের এখন বহু স্তরের যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হয়। স্বাস্থ্য খাতে সাধারণ মানুষের আস্থাও অনেকাংশে নষ্ট হয়েছে।সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ—বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন চালু, AI-ভিত্তিক অ্যানোমালি ডিটেকশন, এবং দ্বিতীয় ডাক্তার দ্বারা রিপোর্ট ভেরিফাই করার বাধ্যবাধকতা। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—এই উদ্যোগগুলো কতটা কার্যকর হবে? নতুন কোনো ডা. ফাহমিদা কি আবার উঠে আসবে না?চিকিৎসা পেশার আরেকটি অন্ধকার দিক হলো ওষুধ কোম্পানির সাথে ডাক্তারদের আর্থিক সম্পর্ক। অনেক সময় ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করে গোপন কমিশন, স্পনসরশিপ বা উপহার। রোগীর সর্বোচ্চ সেবা নয়, বরং কোন ওষুধ কোম্পানি বেশি সুবিধা দিচ্ছে—তা হয়ে ওঠে প্রেসক্রিপশনের নির্ধারক।ডা. ফাহমিদা সোবহানের কাহিনি তাই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি এক বৃহৎ দুর্নীতিগ্রস্ত চক্রের প্রতিফলন, যা আধুনিকতার মুখোশ পরে ধীরে ধীরে সমাজকে গ্রাস করছে। সেই মুখোশ খুলে সত্য তুলে আনা, শুধু সরকারের দায় নয়—এটি আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।দ্রষ্টব্য (Footnote):এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ডা. ফাহমিদা সোবহান, East Toronto Wellness Clinic, এবং সংযুক্ত ছবি সম্পূর্ণ কল্পিত। আইনি সীমাবদ্ধতা থাকায় কল্পিত নাম ব্যবহার করা হয়েছে। [ad_2]

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×