বগুড়া, ১০ ফেব্রুয়ারি – বগুড়া-৪ (কাহালু ও নন্দীগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট কেনার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশন গ্রামে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ওরফে মজিদ চোখে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাসুদ রানার ভাই রবিউল ইসলাম এবং জামায়াত সমর্থিত কর্মী বেলাল হোসেন ও ফারুক হোসেনও আহত হয়েছেন।
কানাডার নতুন বাজেটে কার ভাগ্যে কতটা প্রাপ্তি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে দাঁড়িপাল্লার প্রতীকের পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগ এনে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বেলাল হোসেন ও জামায়াত কর্মী ফারুক হোসেনকে আটক করেন ধানের শীষের সমর্থকরা। আটকের পর তাদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের দাবি করে বিএনপির কর্মীরা তাদের ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মাসুদ রানার বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখেন এবং পুলিশে খবর দেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে জামায়াতের সমর্থকরা লাঠিসোঁটা ও মোটরসাইকেল বহর নিয়ে মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে আটকে রাখা দুজনকে তাদের সমর্থকরা উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
মঙ্গলবার বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে আহত বিএনপি নেতা মাসুদ রানার ছেলে সিয়াম আকন্দ অভিযোগ করেন, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা গভীর রাতে তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে এবং তার বাবার চোখে গুরুতর জখম করে। সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তারা দাবি করেন, জামায়াত কর্মীরা হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল দাবি করেন, টাকা বিতরণের অভিযোগটি মিথ্যা। প্রচারণার সময় তাদের দুই কর্মীকে অন্যায়ভাবে আটক করে মারধর করা হয়। পরে তাদের উদ্ধার করতে গেলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন যে, তাদের কর্মী আসাদুল্লাহ আল গালিবের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।




মন্তব্য করুন