হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধস, প্রাণ হারালো নারী-শিশুসহ আটজন

শহিদুল ইসলাম ::

শহিদুল ইসলাম ::

সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারের উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে নারী-শিশুসহ আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো কয়েকজন আহত হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্প অভ্যন্তরের থাকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ক্যাম্প প্রশাসন-রোহিঙ্গাদের সহযোগিতায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন।

সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘটে এসব দুর্ঘটনা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, এপিবিএন, ক্যাম্প প্রশাসন ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা রাতভর চালায় উদ্ধার অভিযান।

উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি শফিক বলেন উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। রাত দেড়টার দিকে আশ্রিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর ধসে পড়ে পাহাড়ের বিশাল অংশ। মুহূর্তেই মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় পুরো ঘর।

উদ্ধারকারীরা ঘরের ভেতর থেকে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাসের মরদেহ উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার সময় ঘরটিতে অবস্থান করছিলেন পরিবারের ১০ সদস্য। আহত এক কিশোরীকে উদ্ধার করে পাঠানো হয়েছে হাসপাতালে। পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের অনেকেই হয়েছেন গুরুতর আহত।

আরও পড়ুন

কক্সবাজার পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে ২১ জন গ্রেপ্তার

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেছেন, ।ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে মৃত এবং দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

এর কিছুক্ষণ পরই রাত ২ টার দিকে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে সে।
ক্যাম্পের মাঝি রফিক উল্লাহ জানিয়েছেন, পাহাড়ধসের পর রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার করেন শিশুটির মরদেহ।উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজন প্রাণ হারান। আহত হন আরও একজন।

নিহতরা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং তার ছোট ভাই হারুনুর রশিদ (৩)।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন মাষ্টার ডলার ত্রিপুরা সত্যতা নিশ্চিত করেন । নিহতদের মরদেহ উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

উখিয়ার ৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি রশিদ উল্লাহ বলেন, বর্ষা এলেই তাদের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে ওঠে পাহাড়ধস। পাহাড় কেটে তৈরি করা ঢালে বাঁশ, ত্রিপল ও মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো ঘর ভারী বৃষ্টিতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সামান্য ধসও মুহূর্তেই কেড়ে নিতে পারে বহু প্রাণ।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হচ্ছে জানিয়েছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার। ‘ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করে সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। জীবন রক্ষায় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।’

স্থানীয় প্রশাসনের আশঙ্কা, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢালগুলোতে ঘটতে পারে আরও ভূমিধস। তাই সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধস, প্রাণ হারালো নারী-শিশুসহ আটজন

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধস, প্রাণ হারালো নারী-শিশুসহ আটজন

প্রতিবেদক: শহিদুল ইসলাম :: | প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন
Print Image
কক্সবাজারের উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে নারী-শিশুসহ আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো কয়েকজন আহত হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্প অভ্যন্তরের থাকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ক্যাম্প প্রশাসন-রোহিঙ্গাদের সহযোগিতায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন। সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘটে এসব দুর্ঘটনা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, এপিবিএন, ক্যাম্প প্রশাসন ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা রাতভর চালায় উদ্ধার অভিযান। উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি শফিক বলেন উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। রাত দেড়টার দিকে আশ্রিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর ধসে পড়ে পাহাড়ের বিশাল অংশ। মুহূর্তেই মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় পুরো ঘর। উদ্ধারকারীরা ঘরের ভেতর থেকে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাসের মরদেহ উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার সময় ঘরটিতে অবস্থান করছিলেন পরিবারের ১০ সদস্য। আহত এক কিশোরীকে উদ্ধার করে পাঠানো হয়েছে হাসপাতালে। পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের অনেকেই হয়েছেন গুরুতর আহত। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেছেন, ।ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে মৃত এবং দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরই রাত ২ টার দিকে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে সে। ক্যাম্পের মাঝি রফিক উল্লাহ জানিয়েছেন, পাহাড়ধসের পর রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার করেন শিশুটির মরদেহ।উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজন প্রাণ হারান। আহত হন আরও একজন। নিহতরা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং তার ছোট ভাই হারুনুর রশিদ (৩)। উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন মাষ্টার ডলার ত্রিপুরা সত্যতা নিশ্চিত করেন । নিহতদের মরদেহ উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ উখিয়ার ৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি রশিদ উল্লাহ বলেন, বর্ষা এলেই তাদের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে ওঠে পাহাড়ধস। পাহাড় কেটে তৈরি করা ঢালে বাঁশ, ত্রিপল ও মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো ঘর ভারী বৃষ্টিতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সামান্য ধসও মুহূর্তেই কেড়ে নিতে পারে বহু প্রাণ। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হচ্ছে জানিয়েছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার। ‘ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করে সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। জীবন রক্ষায় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।’ স্থানীয় প্রশাসনের আশঙ্কা, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢালগুলোতে ঘটতে পারে আরও ভূমিধস। তাই সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×