ঢাকা, ২০ অক্টোবর – জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জুবায়েদ হোসাইন হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনাস্থলের পাশের একটি ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার সময় দুই যুবক দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। তাদের একজনের গায়ে কালো এবং অন্যজনের গায়ে গোলাপি রঙের টি-শার্ট ছিল।
তবে সিসিটিভি ফুটেজটি অস্পষ্ট হওয়ায় তাদের মুখ পরিষ্কারভাবে শনাক্ত করা যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পালিয়ে যাওয়া যুবকদের একজন জুবায়েদের টিউশনি করানো ছাত্রীর বয়ফ্রেন্ড। বিষয়টি নিশ্চিত করতে পুলিশ ফুটেজগুলো বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করছে এবং আশপাশের এলাকার সিসিটিভিও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাজির আলমগীরের প্রভাবে দুর্নীতিবান্ধব উখিয়া ভূমি অফিস! টাকায় হয় ‘অসাধ্য সাধন’
এর আগে, রোববার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পুরান ঢাকার আরমানিটোলার পানির পাম্প গলির একটি বাসার সিঁড়ি থেকে জবি শিক্ষার্থী জুবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বাসাতেই টিউশনি করাতে যেতেন তিনি। জুবায়েদ হোসাইন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণের সভাপতি এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ছিলেন।
বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনাস্থল থেকে জুবায়েদের মরদেহ উদ্ধার করেছি। প্রাথমিকভাবে কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।
এদিকে, রাত ১১টার দিকে জুবায়েদের টিউশনি করা ছাত্রী বর্ষাকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর আরমানিটোলার নূরবক্স রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে প্রটোকল মেনে থানায় নেয়া হয়।
এর আগে, রাত ১০টা ৫০ মিনিটে জুবায়েদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয় তাকে। খবর জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং পিবিআই দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা তদন্ত চালিয়ে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করে।
সূত্র: আরটিভি নিউজ
এনএন/ ২০ অক্টোবর ২০২৫




মন্তব্য করুন