ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি – চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী সামিরা হক, সামিরার মা লতিফা হক লিও ওরফে লুসি এবং খলনায়ক আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এই মামলার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ছিল। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রমনা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম খন্দকার সেদিন আদালতে প্রতিবেদন দিতে পারেননি। এ কারণে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত নতুন করে ২২ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করেন।
আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম ১২৪ টাকা ছাড়াল, খোলাবাজারে ১২৮ টাকার বেশি
এ ছাড়া বাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ সব আসামির স্থাবর সম্পদ জব্দ এবং অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ওই আবেদনটি নথিভুক্ত করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ মারা যান। তখন এ ঘটনায় তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে এবং মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়ার আবেদন জানান। আদালত অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়, যেখানে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত সেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। এরপর সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা করেন। সবশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এর পরদিন ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
কিছুক্ষণ পর প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। তখন তারা দ্রুত বাসায় ফিরে গিয়ে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামিরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।
সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল এবং এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।
মোহাম্মদ আলমগীর আরও বলেন, সালমানের বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি আবেদন করেন। সেখানে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটিকে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়া এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।
সালমান শাহর বাবার মৃত্যুর পর আলমগীর তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করে আসছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মারা গিয়ে থাকলে, প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।




মন্তব্য করুন