
জেরুজালেম, ১৪ এপ্রিল – ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে আবারও যাত্রা শুরু করেছে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। এবার আরও বড় পরিসরে স্পেনের বার্সেলোনা উপকূল থেকে এই বহর যাত্রা শুরু করেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম প্যালেস্টাইন ক্রনিকলস।
আয়োজকদের মতে এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং সেখানে চলমান তীব্র মানবিক সংকটের প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
পাকিস্তানের কাসুরে বিএসএফের গুলিতে দুই বেসামরিক নিহত, আহত ১
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এবারের উদ্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৮০টির বেশি নৌযান এবং এক হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবী অংশ নিয়েছেন। এই মিশনকে কেবল সমুদ্রপথে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে না বরং এটি বৈশ্বিক পর্যায়ে একটি সমন্বিত কর্মসূচির অংশ। এর আওতায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ, আন্তর্জাতিক সংহতি প্রকাশ এবং বিভিন্ন দেশে জনমত গঠনের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন এই মিশন পুরোপুরি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পরিচালিত হচ্ছে। ফিলিস্তিনি সিভিল সোসাইটি, আইন বিশেষজ্ঞ এবং সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই যাত্রা শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা গ্রিন পিস এবং ওপেন আর্মস এই কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে এবং পাশাপাশি বার্সেলোনা সিটি প্রশাসন এই উদ্যোগে তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছে। বন্দর এলাকা থেকে প্রাপ্ত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় বহু নৌযানে খাদ্য, ওষুধ, স্কুলব্যাগ এবং শিশুদের শিক্ষা সামগ্রীসহ বিপুল পরিমাণ ত্রাণ তোলা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন যে ইরান ও লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে গাজার সংকট থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ কিছুটা সরে গেছে এবং এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের অবরোধ আরও কঠোর করেছে।
এর আগে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার একটি বহর যাত্রা করেছিল যেখানে ৪২টি নৌযান ও ৪৬২ জন মানবাধিকারকর্মী অংশ নিয়েছিলেন। সেবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনী ফ্লোটিলা বহরকে বাধা দেয় এবং শতাধিক কর্মীকে আটক করে পরে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠায়।
উল্লেখ্য ২০০৭ সাল থেকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বর্তমানে এক ভয়াবহ মানবিক সংকট বিরাজ করছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে গাজার অবকাঠামো এবং স্বাস্থ্যসেবা চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। ১৫ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৩২৮ জন নিহত এবং এক লাখ ৭২ হাজার ১৮৪ জন আহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।




মন্তব্য করুন