হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

হলদিয়া ইউনিয়নের মূল অংশ প্রস্তাবিত রুমঁখাপালং ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ন

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের মূল অংশকে প্রস্তাবিত রুমঁখাপালং ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (সন্ধ্যা ৭টা) উখিয়ার মরিচ্যা বাজার স্টেশন চত্বরে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় জনগণের মতামত উপেক্ষা করে ইউনিয়ন বিভাজনের প্রস্তাব বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম, সরকারি সেবা গ্রহণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সামাজিক বন্ধনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে হলদিয়া ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খালের উত্তরাংশের বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হবেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শিক্ষানবিশ আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, “আমরা কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করছি না। তবে জনমত উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে তা এলাকার মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হবে। আমরা বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে ন্যায্য সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছি।”

আরও পড়ুন

বৃহস্পতিবার একটি জাহাজ সেন্টমার্টিন যাচ্ছে, এক জাহাজে যাবেন সব টিকেট সংগ্রহকারীরা

সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. ইউনিয়ন বিভাজনের বর্তমান সিদ্ধান্ত অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
২. স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণের লক্ষ্যে উন্মুক্ত গণশুনানির আয়োজন করতে হবে।
৩. নিরপেক্ষ জরিপ ও বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়নের মাধ্যমে নতুন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
৪. জনস্বার্থ, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং এলাকার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
৫. যোগাযোগ ব্যবস্থা, সরকারি সেবার প্রাপ্যতা ও সামাজিক বন্ধন বিবেচনা করে ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খালের উত্তরাংশের জনসাধারণকে হলদিয়া ইউনিয়নেই বহাল রাখতে হবে।

এ সময় ইউনুস বাপ্পি বলেন, প্রস্তাবিত বিভাজনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে প্রায় দুই হাজার মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে আমাদের দাবি জানিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেবে।”

রাজনৈতিক কর্মী জাহাঙ্গীর রফিক বলেন, দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বুধবার একটি বৃহৎ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি জানান, মানববন্ধনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেবেন। তিনি সকলকে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

শিক্ষার্থী সোহেল সিকদার রানা বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের উদ্দেশ্যে এ বিভাজনের চেষ্টা করছে।

বক্তারা আরও বলেন, ইউনিয়ন পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্থানীয় জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান, যাতে বাস্তবতা, জনস্বার্থ এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের বিষয় বিবেচনা করে গ্রহণযোগ্য ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে বক্তারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন। আগামী বুধবারের মানববন্ধন থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা জানান।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

উখিয়া
Card Image

হলদিয়া ইউনিয়নের মূল অংশ প্রস্তাবিত রুমঁখাপালং ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

হলদিয়া ইউনিয়নের মূল অংশ প্রস্তাবিত রুমঁখাপালং ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক :: | প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ন
Print Image
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের মূল অংশকে প্রস্তাবিত রুমঁখাপালং ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (সন্ধ্যা ৭টা) উখিয়ার মরিচ্যা বাজার স্টেশন চত্বরে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় জনগণের মতামত উপেক্ষা করে ইউনিয়ন বিভাজনের প্রস্তাব বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম, সরকারি সেবা গ্রহণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সামাজিক বন্ধনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে হলদিয়া ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খালের উত্তরাংশের বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হবেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শিক্ষানবিশ আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, "আমরা কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করছি না। তবে জনমত উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে তা এলাকার মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হবে। আমরা বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে ন্যায্য সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছি।" সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো— ১. ইউনিয়ন বিভাজনের বর্তমান সিদ্ধান্ত অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করতে হবে। ২. স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণের লক্ষ্যে উন্মুক্ত গণশুনানির আয়োজন করতে হবে। ৩. নিরপেক্ষ জরিপ ও বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়নের মাধ্যমে নতুন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। ৪. জনস্বার্থ, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং এলাকার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ৫. যোগাযোগ ব্যবস্থা, সরকারি সেবার প্রাপ্যতা ও সামাজিক বন্ধন বিবেচনা করে ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খালের উত্তরাংশের জনসাধারণকে হলদিয়া ইউনিয়নেই বহাল রাখতে হবে। এ সময় ইউনুস বাপ্পি বলেন, প্রস্তাবিত বিভাজনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে প্রায় দুই হাজার মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে আমাদের দাবি জানিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেবে।" রাজনৈতিক কর্মী জাহাঙ্গীর রফিক বলেন, দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বুধবার একটি বৃহৎ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি জানান, মানববন্ধনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেবেন। তিনি সকলকে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। শিক্ষার্থী সোহেল সিকদার রানা বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের উদ্দেশ্যে এ বিভাজনের চেষ্টা করছে। বক্তারা আরও বলেন, ইউনিয়ন পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্থানীয় জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান, যাতে বাস্তবতা, জনস্বার্থ এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের বিষয় বিবেচনা করে গ্রহণযোগ্য ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনের শেষে বক্তারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন। আগামী বুধবারের মানববন্ধন থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা জানান।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×