হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

চকরিয়ায় আলীমুদ্দিন ওয়াক্ফ এস্টেটের অবৈধ দখলে ৩০ কোটি টাকার ৫০৬ একর সরকারি খাসজমি

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া::

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া::

বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট ২০২৫, ০৭:২৪ অপরাহ্ন

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও চকরিয়া উপজেলা থেকে বারবার প্রশাসনিক কর্মকর্তা রদবদল হলেও গেল ৭৩ বছর ধরে বেদখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়াস্থ আলীমুদ্দীন ওয়াক্ফ এস্টেটের অবৈধ দখলে থাকা ৩০কোটি টাকা মূল্যের ৫০৬ একর সরকারি খাসজমি।
এমন প্রেক্ষাপটে বিগত ৭৩ বছর ধরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী চক্র সরকারি এসব খাসজমি নানা কায়দায় জবর দখলে রেখে চিংড়ি ও লবণ চাষ করে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা আয় উপার্জন করে চলছেন।

অবশ্য ২০০৭ সালে ত্বত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যৌথ বাহিনীর সহযোগিতায় চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে খুটাখালীতে রুদ্ধদ্বার অভিযান চালিয়ে এসব খাসজমি উদ্ধার করে সেখানে লাল পতাকা উচিয়ে দিলেও পরবর্তী গত ১৮বছর ধরে উল্লেখিত জমি পুনরায় দখলে নিয়েছে
ওয়াকফ এস্টেটের নামে কতিপয় দখলবাজ চক্র।

অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী চক্রের লোকজন উল্লেখিত খাসজমি দখলে রেখে প্রতিবছর লবণমাঠ ও চিংড়িজমি লাগিয়ত দিয়ে কোটি কোটি লুটে নিচ্ছে। পক্ষান্তরে বেদখল হওয়া এসব জমি উদ্ধারে
প্রশাসন থেকে কার্যকর কোন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারি ৫০৬ একর খাসজমি বেহাত হওয়ায় প্রতিবছর কক্সবাজার জেলা প্রশাসন বিপুল টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তবে স্থানীয় ভুমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উল্লেখিত খাসজমি দখলে জড়িতরা ইতোপুর্বে উচ্চ আদালতে একটি আপীল মামলা দিয়েছেন। মুলত মামলাটির রায় নিষ্পতি না হওয়ায় সরকারি এসব খাসজমি উদ্ধারে রীতিমতো গতি পাচ্ছেনা স্থানীয় প্রশাসন।

আরও পড়ুন

কক্সবাজার পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে ২১ জন গ্রেপ্তার

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার খুটাখালীর মেদাকচ্ছপিয়া মৌজায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি গ্রামের জাফর আলী চৌধুরীর ছেলে ইজ্জত আলী চৌধুরী’র নামীয় আরএস ৫৬ খতিয়ানের ৮৬২ একর ৬৮ শতক জমি থেকে ১৯১৯ সালে আলিমুদ্দীন ওয়াক্ফ এস্টেটের নামে ৩৩০৬ নং ভূঁয়া ওয়াক্ফ কবলা সৃজন করেন আলীমুদ্দীন চৌধুরী নামের একব্যক্তি। অথচ আর,এস খতিয়ানের রের্কডপত্রে তার কোন নাম নিশানা নেই। ওই ভূঁয়া কবলা সৃজনের পর আরএস, এমআরআর ও বিএস জরীপ সম্পন্ন হলেও কোন জরীপে তাদের নামে ওই জমি রেকর্ড করতে পারেনি।

১৯২৮ সালে সম্পন্ন হওয়া আরএস জরীপের পর আর এস ৫৬ খতিয়ানের জমি থেকে ১৯৫০ সালে রাষ্ট্রীয় অর্জন ও প্রজাস্বত্ব আইনের ২০ ধারা মোতাবেক উল্লেখিত খতিয়ান থেকে ৩৭৫ বিঘার অতিরিক্ত জমি সরকারের কাছে হুকুম দখলের মাধ্যমে সারেুন্ডার করা হয়। পরে এই জমির বিপরীতে ক্ষতিপূরণ বাবতে পুর্বের মালিক ফৌজুল করিম চৌধুরী (ক্ষতিপূরণ মামলা নং /৫৯-৬০ ইং মূলে) ওই সময় ১৭ হাজার ২৭৭ টাকা ৮০ পয়সা ও হাজী ফৌজুল কবির চৌধুরী (ক্ষতিপূরণ মামলা নং- ৩/৫৯-৬০ইং মূলে) ১৯ হাজার ৬৪০ টাকা ৩১ পয়সা সরকারের কাছ থেকে বুঝে নিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে আরও জানা যায়, পরবর্তী সময়ে উল্লেখিত জমি পিআরআর জরীপে পৃথক ৬টি খতিয়ানে বিভক্ত করা হয়েছে। তদমধ্যে ৫৬/১ ও ৫৬/২ খতিয়ানের ৪৩১ একর ৫৬ শতক এবং ইজ্জত আলীর অধীনস্থ ১৫১ একর ৩৫ শতক জমি থেকে প্রায় ৫০৬ একর ২৬ শতক জমি সরকার খাসজমি হিসাবে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের ১ নম্বর খাস খতিয়ানভূক্ত করেন।
অন্যদিকে ৫৬/৩ খতিয়ানে তৎকালীন মোতায়াল্লি নজরুল ইসলাম চৌধুরী’র পিতা ফৌজুল করিম চৌধুরীর নামে ৫৭ একর ৮৯ শতক, ৫৬/৪ খতিয়ানে বাশখালী র সাবেক এমপি সুলতানুল কবির চৌধুরীর পিতা ফৌজুল কবির চৌধুরীর নামে ৩২ একর ৭৭ শতক, ৫৬/৫ ও এমআরআর ৩৫ এবং বিএস ১৫৬ খতিয়ানে আবদুল জলিল মাস্টারের নামে ৫৯ একর ২০ শতক ও ৫৬/৬, এমআরআর ৩৮ ও বিএস ৭৬ খতিয়ানে হাজী গুরা মিয়ার নামে ১২৫ একর ১১ শতক জমি রেকর্ড করা হয়।
বিএস জরীপে ১১৪ ও ১১৫নং বিএস খতিয়ানে মাত্র ১৪ একর ৮০শতক জমি খুটাখালী আলীমুদ্দীন ওয়াক্ফ এস্টেটের নামে রেকর্ড হয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, খুটাখালীতে ওয়াক্ফ এস্টেটের নামে সরকারী ভাবে ১০৫ একর ৪৬ শতক জমি রেকর্ডে উল্লেখ থাকলেও তৎকালীন মোতায়াল্লি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও তার চাচাতো ভাই চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার প্রয়াত আওয়ামীলীগ দলীয় সাবেক এমপি সুলতানুল কবির চৌধুরীর পিতার ওয়ারিশরা মিলেমিশে বিগত ৭৩ বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন্ শ্রেণীর কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এবং সরকারের বিরুদ্ধে কাল্পনিক মামলা দিয়ে সরকারি খাস খতিয়ানের ৫০৬ একর জমি ভূঁয়া ওয়াক্ফ এস্টেটের নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধভাবে জবরদখলে রেখেছে। বর্তমানে খুটাখালী মেধাকচ্ছপিয়া মৌজার ৫০৬ একর জমির (লবণ ও চিংড়ি জমি) বাজার মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকার বেশি হবে বলে জানিয়েছেন ভুমি কর্মকর্তারা।

প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, চকরিয়া খুটাখালীতে সরকারের বিপুল পরিমাণ খাসজমি প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে থাকায় ১৯৯৫ সালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে বাদী হয়ে ৭৩ লাখ ৮০ হাজার ৫৬২ টাকা ও ২০০৭ সালে ১ কোটি ২৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয় জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে।
তবে ওইসময় আগের মোতাওয়াল্লি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও তার লোকজন এসব জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখলে থাকার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসনের ক্ষতিপূরণ মামলার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে (উচ্চ আদালতে) দুটি রিট পিটিশন মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাগুলো উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ অবস্থায় আইনী জটিলতার কারনে বেহাত হওয়া ৫০৬ একর সরকারি খাসজমি উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না স্থানীয় প্রশাসন।

স্থানীয় এলাকাবাসি অভিযোগ তুলেছেন, সরকারি ৫০৬ একর খাসজমি জবরদখলে রাখার পাশাপাশি অভিযুক্ত প্রভাবশালী চক্রটি একই এলাকার ১১৪টি পরিবারের মালিকাধীন মেধাকচ্ছপিয়া মৌজার বিএস ৭৬ খতিয়ানের ১২৫ একর ১১ শতক চিংড়িজমি ও লবণমাঠ দখলে নিয়ে লুটপাটে মেতেছে। তাদের অব্যাহত হামলা, মিথ্যা মামলায় নানাবিধ হয়রাণি ও হুমকির কারণে ভুক্তভোগী ওই ১১৪টি পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যরা প্রতিনিয়ত তটস্থ রয়েছেন।

খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া গ্রামের লোকজন জানিয়েছেন, প্রায় ৭৩ বছর ধরে ওয়াক্ফ এস্টেটের নাম ভাঙ্গিয়ে রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় প্রভাবশালী নজরুল ইসলাম চৌধুরী গং সরকারি এসব খাসজমি এভাবে অবৈধভাবে দখলে রাখলেও ইতিপূর্বে প্রশাসন এসব জমি উদ্ধারে কোন প্রদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো অতীতে প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তারা আর্থিক সুবিধা নিয়ে গোপনে দখলবাজ চক্রকে নানাভাবে সহায়তা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা- কর্মচারীর এমন উদারতার সুযোগে সংশ্লিষ্ট দখলবাজ চক্র বছরের পর বছর সরকারি এসব খাস জমি দখলে রেখে লবণ ও চিংড়ি চাষের জন্য লাগিয়ত দিয়ে বেসুমার বাণিজ্য চালাচ্ছে।

এব্যাপারে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রুপায়ন দেব বলেন, খুটাখালীতে বিপুল পরিমাণ সরকারি খাসজমি বেদখলে থাকার বিষয়টি আমার জানা ছিল না, আপনার কাছ থেকেই অবগত হলাম। কীভাবে ৫০৬ একর সরকারি খাসজমি বেহাত হচ্ছে, তা অবশ্যই ঘটনাস্থলে ইউনিয়ন ভুমি তহসিলদারকে পাঠিয়ে যাছাই করা হবে।

তারপর উল্লেখিত বিষয়ের আলোকে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে রিপোর্ট জানিয়ে তাদের নির্দেশনার আলোকে এসব খাসজমি উদ্ধারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

চকরিয়ায় আলীমুদ্দিন ওয়াক্ফ এস্টেটের অবৈধ দখলে ৩০ কোটি টাকার ৫০৬ একর সরকারি খাসজমি

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

চকরিয়ায় আলীমুদ্দিন ওয়াক্ফ এস্টেটের অবৈধ দখলে ৩০ কোটি টাকার ৫০৬ একর সরকারি খাসজমি

প্রতিবেদক: এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া:: | প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট ২০২৫, ০৭:২৪ অপরাহ্ন
Print Image
কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও চকরিয়া উপজেলা থেকে বারবার প্রশাসনিক কর্মকর্তা রদবদল হলেও গেল ৭৩ বছর ধরে বেদখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়াস্থ আলীমুদ্দীন ওয়াক্ফ এস্টেটের অবৈধ দখলে থাকা ৩০কোটি টাকা মূল্যের ৫০৬ একর সরকারি খাসজমি। এমন প্রেক্ষাপটে বিগত ৭৩ বছর ধরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী চক্র সরকারি এসব খাসজমি নানা কায়দায় জবর দখলে রেখে চিংড়ি ও লবণ চাষ করে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা আয় উপার্জন করে চলছেন। অবশ্য ২০০৭ সালে ত্বত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যৌথ বাহিনীর সহযোগিতায় চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে খুটাখালীতে রুদ্ধদ্বার অভিযান চালিয়ে এসব খাসজমি উদ্ধার করে সেখানে লাল পতাকা উচিয়ে দিলেও পরবর্তী গত ১৮বছর ধরে উল্লেখিত জমি পুনরায় দখলে নিয়েছে ওয়াকফ এস্টেটের নামে কতিপয় দখলবাজ চক্র। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী চক্রের লোকজন উল্লেখিত খাসজমি দখলে রেখে প্রতিবছর লবণমাঠ ও চিংড়িজমি লাগিয়ত দিয়ে কোটি কোটি লুটে নিচ্ছে। পক্ষান্তরে বেদখল হওয়া এসব জমি উদ্ধারে প্রশাসন থেকে কার্যকর কোন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারি ৫০৬ একর খাসজমি বেহাত হওয়ায় প্রতিবছর কক্সবাজার জেলা প্রশাসন বিপুল টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে স্থানীয় ভুমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উল্লেখিত খাসজমি দখলে জড়িতরা ইতোপুর্বে উচ্চ আদালতে একটি আপীল মামলা দিয়েছেন। মুলত মামলাটির রায় নিষ্পতি না হওয়ায় সরকারি এসব খাসজমি উদ্ধারে রীতিমতো গতি পাচ্ছেনা স্থানীয় প্রশাসন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার খুটাখালীর মেদাকচ্ছপিয়া মৌজায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি গ্রামের জাফর আলী চৌধুরীর ছেলে ইজ্জত আলী চৌধুরী’র নামীয় আরএস ৫৬ খতিয়ানের ৮৬২ একর ৬৮ শতক জমি থেকে ১৯১৯ সালে আলিমুদ্দীন ওয়াক্ফ এস্টেটের নামে ৩৩০৬ নং ভূঁয়া ওয়াক্ফ কবলা সৃজন করেন আলীমুদ্দীন চৌধুরী নামের একব্যক্তি। অথচ আর,এস খতিয়ানের রের্কডপত্রে তার কোন নাম নিশানা নেই। ওই ভূঁয়া কবলা সৃজনের পর আরএস, এমআরআর ও বিএস জরীপ সম্পন্ন হলেও কোন জরীপে তাদের নামে ওই জমি রেকর্ড করতে পারেনি। ১৯২৮ সালে সম্পন্ন হওয়া আরএস জরীপের পর আর এস ৫৬ খতিয়ানের জমি থেকে ১৯৫০ সালে রাষ্ট্রীয় অর্জন ও প্রজাস্বত্ব আইনের ২০ ধারা মোতাবেক উল্লেখিত খতিয়ান থেকে ৩৭৫ বিঘার অতিরিক্ত জমি সরকারের কাছে হুকুম দখলের মাধ্যমে সারেুন্ডার করা হয়। পরে এই জমির বিপরীতে ক্ষতিপূরণ বাবতে পুর্বের মালিক ফৌজুল করিম চৌধুরী (ক্ষতিপূরণ মামলা নং /৫৯-৬০ ইং মূলে) ওই সময় ১৭ হাজার ২৭৭ টাকা ৮০ পয়সা ও হাজী ফৌজুল কবির চৌধুরী (ক্ষতিপূরণ মামলা নং- ৩/৫৯-৬০ইং মূলে) ১৯ হাজার ৬৪০ টাকা ৩১ পয়সা সরকারের কাছ থেকে বুঝে নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সুত্রে আরও জানা যায়, পরবর্তী সময়ে উল্লেখিত জমি পিআরআর জরীপে পৃথক ৬টি খতিয়ানে বিভক্ত করা হয়েছে। তদমধ্যে ৫৬/১ ও ৫৬/২ খতিয়ানের ৪৩১ একর ৫৬ শতক এবং ইজ্জত আলীর অধীনস্থ ১৫১ একর ৩৫ শতক জমি থেকে প্রায় ৫০৬ একর ২৬ শতক জমি সরকার খাসজমি হিসাবে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের ১ নম্বর খাস খতিয়ানভূক্ত করেন। অন্যদিকে ৫৬/৩ খতিয়ানে তৎকালীন মোতায়াল্লি নজরুল ইসলাম চৌধুরী’র পিতা ফৌজুল করিম চৌধুরীর নামে ৫৭ একর ৮৯ শতক, ৫৬/৪ খতিয়ানে বাশখালী র সাবেক এমপি সুলতানুল কবির চৌধুরীর পিতা ফৌজুল কবির চৌধুরীর নামে ৩২ একর ৭৭ শতক, ৫৬/৫ ও এমআরআর ৩৫ এবং বিএস ১৫৬ খতিয়ানে আবদুল জলিল মাস্টারের নামে ৫৯ একর ২০ শতক ও ৫৬/৬, এমআরআর ৩৮ ও বিএস ৭৬ খতিয়ানে হাজী গুরা মিয়ার নামে ১২৫ একর ১১ শতক জমি রেকর্ড করা হয়। বিএস জরীপে ১১৪ ও ১১৫নং বিএস খতিয়ানে মাত্র ১৪ একর ৮০শতক জমি খুটাখালী আলীমুদ্দীন ওয়াক্ফ এস্টেটের নামে রেকর্ড হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, খুটাখালীতে ওয়াক্ফ এস্টেটের নামে সরকারী ভাবে ১০৫ একর ৪৬ শতক জমি রেকর্ডে উল্লেখ থাকলেও তৎকালীন মোতায়াল্লি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও তার চাচাতো ভাই চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার প্রয়াত আওয়ামীলীগ দলীয় সাবেক এমপি সুলতানুল কবির চৌধুরীর পিতার ওয়ারিশরা মিলেমিশে বিগত ৭৩ বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন্ শ্রেণীর কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এবং সরকারের বিরুদ্ধে কাল্পনিক মামলা দিয়ে সরকারি খাস খতিয়ানের ৫০৬ একর জমি ভূঁয়া ওয়াক্ফ এস্টেটের নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধভাবে জবরদখলে রেখেছে। বর্তমানে খুটাখালী মেধাকচ্ছপিয়া মৌজার ৫০৬ একর জমির (লবণ ও চিংড়ি জমি) বাজার মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকার বেশি হবে বলে জানিয়েছেন ভুমি কর্মকর্তারা। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, চকরিয়া খুটাখালীতে সরকারের বিপুল পরিমাণ খাসজমি প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে থাকায় ১৯৯৫ সালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে বাদী হয়ে ৭৩ লাখ ৮০ হাজার ৫৬২ টাকা ও ২০০৭ সালে ১ কোটি ২৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয় জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে। তবে ওইসময় আগের মোতাওয়াল্লি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও তার লোকজন এসব জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখলে থাকার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসনের ক্ষতিপূরণ মামলার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে (উচ্চ আদালতে) দুটি রিট পিটিশন মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাগুলো উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ অবস্থায় আইনী জটিলতার কারনে বেহাত হওয়া ৫০৬ একর সরকারি খাসজমি উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না স্থানীয় প্রশাসন। স্থানীয় এলাকাবাসি অভিযোগ তুলেছেন, সরকারি ৫০৬ একর খাসজমি জবরদখলে রাখার পাশাপাশি অভিযুক্ত প্রভাবশালী চক্রটি একই এলাকার ১১৪টি পরিবারের মালিকাধীন মেধাকচ্ছপিয়া মৌজার বিএস ৭৬ খতিয়ানের ১২৫ একর ১১ শতক চিংড়িজমি ও লবণমাঠ দখলে নিয়ে লুটপাটে মেতেছে। তাদের অব্যাহত হামলা, মিথ্যা মামলায় নানাবিধ হয়রাণি ও হুমকির কারণে ভুক্তভোগী ওই ১১৪টি পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যরা প্রতিনিয়ত তটস্থ রয়েছেন। খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া গ্রামের লোকজন জানিয়েছেন, প্রায় ৭৩ বছর ধরে ওয়াক্ফ এস্টেটের নাম ভাঙ্গিয়ে রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় প্রভাবশালী নজরুল ইসলাম চৌধুরী গং সরকারি এসব খাসজমি এভাবে অবৈধভাবে দখলে রাখলেও ইতিপূর্বে প্রশাসন এসব জমি উদ্ধারে কোন প্রদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো অতীতে প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তারা আর্থিক সুবিধা নিয়ে গোপনে দখলবাজ চক্রকে নানাভাবে সহায়তা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা- কর্মচারীর এমন উদারতার সুযোগে সংশ্লিষ্ট দখলবাজ চক্র বছরের পর বছর সরকারি এসব খাস জমি দখলে রেখে লবণ ও চিংড়ি চাষের জন্য লাগিয়ত দিয়ে বেসুমার বাণিজ্য চালাচ্ছে। এব্যাপারে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রুপায়ন দেব বলেন, খুটাখালীতে বিপুল পরিমাণ সরকারি খাসজমি বেদখলে থাকার বিষয়টি আমার জানা ছিল না, আপনার কাছ থেকেই অবগত হলাম। কীভাবে ৫০৬ একর সরকারি খাসজমি বেহাত হচ্ছে, তা অবশ্যই ঘটনাস্থলে ইউনিয়ন ভুমি তহসিলদারকে পাঠিয়ে যাছাই করা হবে। তারপর উল্লেখিত বিষয়ের আলোকে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে রিপোর্ট জানিয়ে তাদের নির্দেশনার আলোকে এসব খাসজমি উদ্ধারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×