হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

প্রবালদ্বীপে সবুজের স্বপ্ন, দূষণমুক্তির প্রত্যয়

সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার :

সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার :

রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন
📌 সংক্ষেপ: নীল জলরাশি, প্রবাল আর সবুজে ঘেরা সেন্টমার্টিন। দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপটির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য জলবায়ু পরিবর্তন, প্লাস্টিক বর্জ্য ও দূষণের চাপে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্বীপটিকে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন রাখত…

নীল জলরাশি, প্রবাল আর সবুজে ঘেরা সেন্টমার্টিন। দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপটির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য জলবায়ু পরিবর্তন, প্লাস্টিক বর্জ্য ও দূষণের চাপে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্বীপটিকে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন রাখতে ২০ হাজার চারাগাছ রোপণ ও সমুদ্রসৈকত পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নিয়েছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সহযোগিতায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি। ৮ থেকে ১০ আগস্ট তিন দিনব্যাপী এ কর্মসূচি সরকারের ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কর্মসূচির আওতায় দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় আমকলম, পেয়ারা, বহেরা, হরতকি, নিম, বাতাবি লেবু, কুল, কৃষ্ণচূড়া, সোনালু, জারুল, সাগরলতা, হরগজা, কেয়া ও নারিকেলসহ ২০ হাজার চারাগাছ রোপণ করা হচ্ছে। রোপণের পাশাপাশি চারার পরিচর্যা ও সুরক্ষা, প্রয়োজন অনুযায়ী পুনঃরোপণ এবং বেঁচে থাকার হার পর্যবেক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের চাইল্ড সেইফটি নেট প্রজেক্টের কো-অর্ডিনেটর ছোটন বড়ুয়া বলেন, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় এ উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বৃক্ষরোপণ। দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় ২০ হাজার চারাগাছ রোপণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

টেকনাফে নাফ নদীর তীরে এসআরবি ও বিজিবির যৌথ অভিযানে ১ লাখ ২৯ হাজার ইয়াবাসহ আটক চার

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের টেকনাফ এপি ম্যানেজার প্রণয় পালমা জানান, রোপণ করা চারার পরিচর্যা ও সুরক্ষা, প্রয়োজন অনুযায়ী পুনঃরোপণ এবং চারার বেঁচে থাকার হার পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি সৈকত থেকে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। স্থানীয় জনগণ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক, জনপ্রতিনিধি, যুবসমাজ ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্বীপের বিভিন্ন এলাকা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

বৃক্ষরোপণ শেষে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সমুদ্রসৈকতে গিয়ে প্লাস্টিক, পলিথিন, ক্যানসহ বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘উত্তাল বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে আমি প্রথমবারের মতো সেন্ট মার্টিন এলাম প্লাস্টিকমুক্ত, দূষণমুক্ত সেন্ট মার্টিন চাই বলে। আপনারা এই দ্বীপের বাসিন্দা। ঘূর্ণিঝড়, দুর্যোগেও আপনারা দ্বীপ ছেড়ে কোথাও যান না। এই দ্বীপকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আপনাদের বেশি। প্লাস্টিক ও দূষণমুক্ত রাখা না গেলে এই দ্বীপকে বাঁচানো যাবে না।’

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এ দ্বীপের জীববৈচিত্র্য, প্রবাল, শৈবাল, শামুক-ঝিনুকসহ বিভিন্ন প্রাণ ও উদ্ভিদ রক্ষায় সরকার আন্তরিক। রোপণ করা চারার সঠিক পরিচর্যা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি সুপারিশ পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার। জনগণের স্বার্থ, দেশের স্বার্থ, আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং দ্বীপের প্রতিবেশ-পরিবেশ সুরক্ষা ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সবকিছু সমন্বয় করে আমরা একটা পরিকল্পনা করব।’

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশ সংরক্ষণে সরকার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, নদীভাঙন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় তীব্র হচ্ছে। সেন্টমার্টিনও এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।

মহেশখালীতে প্যারাবন কাটার ঘটনায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা এসব কাজে প্রশ্রয় দিচ্ছি না। আমাদের কাছে যেসব তথ্য আসছে, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কক্সবাজার এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার রোনাল্ড প্রবীর চিসিক জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সংস্থাটি গত তিন বছরে সারা দেশে ৩২ লাখ বৃক্ষরোপণ করেছে। আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ৭৫ লাখ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের লাইভলিহুড ম্যানেজার মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, ২০২৬ সালে সংস্থাটি সারা দেশে ১৫ লাখ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। এর ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার জেলায় আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালে কক্সবাজার জেলায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৭০টি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে টেকনাফে ৬৫ হাজার, উখিয়ায় ৮২ হাজার, রামুতে ১৩ হাজার ৮৭০ এবং কক্সবাজার সদরে ১০ হাজার ২০০টি।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে ‘সবুজ বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর লক্ষ্য বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবেশদূষণ কমানো এবং পরিচ্ছন্ন ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা।

গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ, মাটির ক্ষয়রোধ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনরুট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. তারিকুল হক, হেড অব প্রোগ্রাম জুবায়ের ইবনে হাসনাত অভি, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কক্সবাজার এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার রোনাল্ড প্রবীর চিসিক, লাইভলিহুড ম্যানেজার মোহাম্মদ রুহুল আমিন, চাইল্ড সেইফটি নেট প্রজেক্টের কো-অর্ডিনেটর ছোটন বড়ুয়া, টেকনাফ এপি ম্যানেজার প্রণয় পালমা, সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা।

সেন্টমার্টিনে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের এ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ এবং রোপণ করা চারার পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দ্বীপটির পরিবেশ সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমের বিষয়টি সামনে এসেছে।

❓ সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: প্রবালদ্বীপে সবুজের স্বপ্ন, দূষণমুক্তির প্রত্যয় সম্পর্কিত তথ্য কী?

উত্তর: নীল জলরাশি, প্রবাল আর সবুজে ঘেরা সেন্টমার্টিন। দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপটির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য জলবায়ু পরিবর্তন, প্লাস্টিক বর্জ্য ও দূষণের। মূল সংবাদ থেকে বিস্তারিত জানুন।

anwar

anwar

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

টেকনাফ
Card Image

প্রবালদ্বীপে সবুজের স্বপ্ন, দূষণমুক্তির প্রত্যয়

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

প্রবালদ্বীপে সবুজের স্বপ্ন, দূষণমুক্তির প্রত্যয়

প্রতিবেদক: সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার : | প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন
Print Image
নীল জলরাশি, প্রবাল আর সবুজে ঘেরা সেন্টমার্টিন। দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপটির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য জলবায়ু পরিবর্তন, প্লাস্টিক বর্জ্য ও দূষণের চাপে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্বীপটিকে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন রাখতে ২০ হাজার চারাগাছ রোপণ ও সমুদ্রসৈকত পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নিয়েছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সহযোগিতায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি। ৮ থেকে ১০ আগস্ট তিন দিনব্যাপী এ কর্মসূচি সরকারের ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কর্মসূচির আওতায় দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় আমকলম, পেয়ারা, বহেরা, হরতকি, নিম, বাতাবি লেবু, কুল, কৃষ্ণচূড়া, সোনালু, জারুল, সাগরলতা, হরগজা, কেয়া ও নারিকেলসহ ২০ হাজার চারাগাছ রোপণ করা হচ্ছে। রোপণের পাশাপাশি চারার পরিচর্যা ও সুরক্ষা, প্রয়োজন অনুযায়ী পুনঃরোপণ এবং বেঁচে থাকার হার পর্যবেক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের চাইল্ড সেইফটি নেট প্রজেক্টের কো-অর্ডিনেটর ছোটন বড়ুয়া বলেন, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় এ উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বৃক্ষরোপণ। দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় ২০ হাজার চারাগাছ রোপণ করা হচ্ছে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের টেকনাফ এপি ম্যানেজার প্রণয় পালমা জানান, রোপণ করা চারার পরিচর্যা ও সুরক্ষা, প্রয়োজন অনুযায়ী পুনঃরোপণ এবং চারার বেঁচে থাকার হার পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি সৈকত থেকে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। স্থানীয় জনগণ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক, জনপ্রতিনিধি, যুবসমাজ ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্বীপের বিভিন্ন এলাকা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বৃক্ষরোপণ শেষে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সমুদ্রসৈকতে গিয়ে প্লাস্টিক, পলিথিন, ক্যানসহ বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘উত্তাল বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে আমি প্রথমবারের মতো সেন্ট মার্টিন এলাম প্লাস্টিকমুক্ত, দূষণমুক্ত সেন্ট মার্টিন চাই বলে। আপনারা এই দ্বীপের বাসিন্দা। ঘূর্ণিঝড়, দুর্যোগেও আপনারা দ্বীপ ছেড়ে কোথাও যান না। এই দ্বীপকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আপনাদের বেশি। প্লাস্টিক ও দূষণমুক্ত রাখা না গেলে এই দ্বীপকে বাঁচানো যাবে না।’ শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এ দ্বীপের জীববৈচিত্র্য, প্রবাল, শৈবাল, শামুক-ঝিনুকসহ বিভিন্ন প্রাণ ও উদ্ভিদ রক্ষায় সরকার আন্তরিক। রোপণ করা চারার সঠিক পরিচর্যা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি সুপারিশ পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার। জনগণের স্বার্থ, দেশের স্বার্থ, আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং দ্বীপের প্রতিবেশ-পরিবেশ সুরক্ষা ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সবকিছু সমন্বয় করে আমরা একটা পরিকল্পনা করব।’ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশ সংরক্ষণে সরকার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, নদীভাঙন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় তীব্র হচ্ছে। সেন্টমার্টিনও এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। মহেশখালীতে প্যারাবন কাটার ঘটনায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা এসব কাজে প্রশ্রয় দিচ্ছি না। আমাদের কাছে যেসব তথ্য আসছে, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কক্সবাজার এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার রোনাল্ড প্রবীর চিসিক জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সংস্থাটি গত তিন বছরে সারা দেশে ৩২ লাখ বৃক্ষরোপণ করেছে। আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ৭৫ লাখ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের লাইভলিহুড ম্যানেজার মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, ২০২৬ সালে সংস্থাটি সারা দেশে ১৫ লাখ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। এর ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার জেলায় আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালে কক্সবাজার জেলায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৭০টি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে টেকনাফে ৬৫ হাজার, উখিয়ায় ৮২ হাজার, রামুতে ১৩ হাজার ৮৭০ এবং কক্সবাজার সদরে ১০ হাজার ২০০টি। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে ‘সবুজ বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর লক্ষ্য বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবেশদূষণ কমানো এবং পরিচ্ছন্ন ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা। গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ, মাটির ক্ষয়রোধ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনরুট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. তারিকুল হক, হেড অব প্রোগ্রাম জুবায়ের ইবনে হাসনাত অভি, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কক্সবাজার এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার রোনাল্ড প্রবীর চিসিক, লাইভলিহুড ম্যানেজার মোহাম্মদ রুহুল আমিন, চাইল্ড সেইফটি নেট প্রজেক্টের কো-অর্ডিনেটর ছোটন বড়ুয়া, টেকনাফ এপি ম্যানেজার প্রণয় পালমা, সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা। সেন্টমার্টিনে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের এ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ এবং রোপণ করা চারার পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দ্বীপটির পরিবেশ সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমের বিষয়টি সামনে এসেছে।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×