কক্সবাজারের উখিয়া থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে মো. আতিকুর রহমান মজুমদার যোগদানের পর অপরাধ দমন ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হয়েছে। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর গত তিন মাসে বিভিন্ন অভিযানে ৬০৪ জনকে গ্রেপ্তার ও আটক করেছে থানা-পুলিশ। এ সময় ৩ লাখ ৩১ হাজার ৮৬৮ পিস ইয়াবাসহ বিপুল পরিমাণ মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র ও চোরাচালানপণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি অপহরণ মামলার ১৭ ভিকটিম এবং নিখোঁজ ডায়েরির সূত্র ধরে ৪৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১ আগস্ট থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধে ৫৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে মাদক কারবারি ৬১ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ২ জন, ১৫১ ধারায় ১২ জন এবং দণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় ২ জন রয়েছেন। এ ছাড়া নিয়মিত মামলায় ১৮৯ জন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে ২৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে ৩২ জনকে। পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত ৬৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
অপহরণ ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারের ক্ষেত্রেও পুলিশের তৎপরতার তথ্য পাওয়া গেছে। তিন মাসে শিশু অপহরণের ১০টি মামলায় ১১ জন এবং ব্যক্তি অপহরণের চারটি মামলায় ৬ জন ভিকটিম উদ্ধার করা হয়েছে। অর্থাৎ ১৪টি অপহরণ মামলায় মোট ১৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া নিখোঁজসংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে আরও ৪৬ জনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ৮৬৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১১৮ দশমিক ৫ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ এবং ৩ কেজি গাঁজা। এ ছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহারের অভিযোগে ৪টি টমটম, একটি সিএনজি ও ৩টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
চকরিয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দরজার তালা ভেঙে ফ্যান চুরি, শঙ্কিত শিক্ষক শিক্ষার্থীরা
অস্ত্র উদ্ধারের তালিকায় রয়েছে একটি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটার গান, একটি একনলা বন্দুক, একটি ম্যাগাজিন, ৫ রাউন্ড গুলি ও একটি ছোরা। চোরাচালানবিরোধী অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৫৪ বস্তা সার ও ২ হাজার পিস ইনজেকশন। পাশাপাশি বিভিন্ন অভিযানে ১৭টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
মামলা পরিচালনা ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও তৎপরতার তথ্য দিয়েছে পুলিশ। তিন মাসে উখিয়া থানায় ২৬৩টি জিআর মামলা রুজু হয়েছে। এর বিপরীতে নিষ্পত্তি করা হয়েছে ২৫৭টি মামলা।
দায়িত্ব নেওয়ার পর অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান : চলতি বছরের ৯ জুলাই উখিয়া থানার ওসি হিসেবে যোগ দেন মো. আতিকুর রহমান মজুমদার। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান, মাদক কারবারিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে থানা-পুলিশের এসব তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষ করে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান, নিয়মিত অভিযান এবং কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি পুলিশের সাম্প্রতিক কার্যক্রমে গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি থানার অভ্যন্তরীণ সেবা ব্যবস্থায় দালালদের প্রভাব বন্ধেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। মাদক নির্মূলে উখিয়া থানা-পুলিশ কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে। আইনের প্রয়োগ সবার জন্য সমান থাকবে।
তিনি আরও জানান, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ইতোমধ্যে উখিয়া থানাকে দালালমুক্ত করা হয়েছে।
সাফল্যের পাশাপাশি জবাবদিহিও গুরুত্বপূর্ণ : পুলিশের দেওয়া তিন মাসের পরিসংখ্যানে গ্রেপ্তার, অপহৃত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং মামলা নিষ্পত্তিতে তৎপরতার চিত্র উঠে এসেছে। তবে অপরাধ দমনের এই কার্যক্রমের স্থায়ী সাফল্য নির্ভর করবে মাদক কারবারের পুনরাবৃত্তি রোধ, মামলার যথাযথ তদন্ত, অপরাধীদের দণ্ড নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের হয়রানিমুক্ত পুলিশি সেবা পাওয়ার ওপর।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান যেমন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রতিটি মামলায় আইনানুগ প্রক্রিয়া ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও সমান জরুরি।
❓ সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: উখিয়ায় তিন মাসে ৬০৪ জন গ্রেপ্তার-আটক, উদ্ধার ৩ লাখের বেশি ইয়াবা সম্পর্কিত তথ্য কী?
উত্তর: কক্সবাজারের উখিয়া থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে মো. আতিকুর রহমান মজুমদার যোগদানের পর অপরাধ দমন ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হয়েছে। তাঁর দ। মূল সংবাদ থেকে বিস্তারিত জানুন।




মন্তব্য করুন