ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি – আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাবে রাজধানীতে হঠাৎ করেই কিউলেক্স মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি এডিস মশাবাহিত রোগের প্রকোপও লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে গত দুই মাসে চারজনের মৃত্যু এবং প্রায় দেড় হাজার মানুষ আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এমতাবস্থায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সারা বছরব্যাপী মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন।
সাধারণত শীত মৌসুম এবং ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে কিউলেক্স মশার দাপট কিছুটা বৃদ্ধি পায়। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, গত এক মাসের ব্যবধানে রাজধানীতে মশার পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এলাকাভিত্তিকভাবে মশার ঘনত্বও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি মাসে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ৪০০ থেকে ৬০০টি মশা মানুষকে কামড়াতে আসত। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে সেই সংখ্যা বেড়ে গড়ে ৮৫০টিতে পৌঁছেছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে কক্সবাজারের আসবে ‘মহানগর’
ড্রেন, নর্দমা ও জলাশয়গুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করার ফলে জমে থাকা দূষিত পানি কিউলেক্স মশার আদর্শ প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া এ বছর শীতের স্থায়িত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় কম ছিল এবং গড় তাপমাত্রা জানুয়ারিতেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকায় মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আগামী মাসগুলোতে ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। কার্যকর কীটনাশক প্রয়োগের জন্য মশা, মানুষ ও পরিবেশের ওপর সমন্বিত গবেষণার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
এস এম/ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬




মন্তব্য করুন