রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা, জীবিকায়ন এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অগ্রগতি দেখতে কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের মানবিক সহায়তা দলের প্রধান এলি মুডির নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
বুধবার (১৫ জুলাই) দিনব্যাপী এ পরিদর্শনে প্রতিনিধি দলটি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), কারিতাস বাংলাদেশ এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থার বাস্তবায়নাধীন কৃষি, জলজ চাষ, পানি ও স্যানিটেশন এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন কিং সালমান মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কেন্দ্রের কর্মসংস্থান ও জীবিকা কর্মসূচির প্রধান আদেল রহমান আল-মুতাহারি, সৌদি আরবে অবস্থিত ব্রিটিশ হাইকমিশনের উন্নয়ন বিভাগের উপসচিব করিম হাসান এবং ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজ আহমেদ।
সকালে প্রতিনিধি দল ক্যাম্প-১৫–এর ই/০৬ ব্লকে ডব্লিউএফপির অর্থায়নে পরিচালিত ‘ফ্রেশ ফুড ভ্যালি’ কৃষি প্রকল্প পরিদর্শন করেন। সেখানে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সবজি চাষ, সেচব্যবস্থা, উন্নতমানের বীজ ও সার ব্যবস্থাপনা এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রকল্পটির ভূমিকা সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করা হয়।
অস্কারজয়ী চিলিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা সেবাস্তিয়ান লেলিও আর নেই
এ সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উপকারভোগী রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন। উপকারভোগীরা জানান, প্রকল্পটি তাদের পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদনের মাধ্যমে আয় বাড়াতে, কৃষি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে এবং আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
পরে প্রতিনিধি দল ক্যাম্প-২০ (এক্সটেনশন) এলাকায় যুক্তরাজ্যের সহায়তায় পরিচালিত ডব্লিউএফপির কমিউনিটি জলজ চাষ প্রকল্প পরিদর্শন করেন। সেখানে মাছ চাষ, সবজি উৎপাদন, পোলট্রি পালন এবং অন্যান্য জীবিকাভিত্তিক উদ্যোগের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এরপর তাঁরা আইওএমের অর্থায়নে কারিতাস বাংলাদেশ পরিচালিত বিকেন্দ্রীভূত বর্জ্য পানি পরিশোধন (ডিসেন্ট্রালাইজড ওয়েস্টওয়াটার ট্রিটমেন্ট) কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে নিরাপদ পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব স্যানিটেশন ব্যবস্থা সম্পর্কে তাঁদের ব্রিফ করা হয়।
এরপর ক্যাম্প-২০–এর সিআইসি অফিসসংলগ্ন এলাকায় কিং সালমান মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কেন্দ্রের অর্থায়নে এবং সমন্বিত সামাজিক উন্নয়ন প্রচেষ্টা (আইএসডিই) বাংলাদেশের বাস্তবায়নে এক হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের মধ্যে খাদ্যসহায়তা বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
এ সময় উপকারভোগীদের মধ্যে চাল, ডাল, আটা, তেল, চিনি, নুডুলসসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দল প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ও কার্যকারিতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা রোহিঙ্গাদের খাদ্য নিরাপত্তা, জীবিকায়ন এবং টেকসই মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে কৃষিভিত্তিক ও আয়বর্ধক উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, মাঠকর্মী এবং উপকারভোগীদের আন্তরিক প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের এ ধরনের মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন ও সম্পৃক্ততা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলমান মানবিক সহায়তা কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণে সহায়ক হবে।




মন্তব্য করুন