কিশোরগঞ্জ, ২১ মার্চ – ভোরের কুয়াশা কাটার আগেই জনসমুদ্রে পরিণত হয় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। দেশের অন্যতম প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ এই ঈদগাহে এবার ঈদুল ফিতরের জামাতে অংশ নিয়েছেন প্রায় ছয় লাখেরও বেশি মুসল্লি।
শনিবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের এই বিশাল জামাতে ইমামতি করেন শহরের বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এই জামাত সম্পন্ন হয়।
অস্কারজয়ী চিলিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা সেবাস্তিয়ান লেলিও আর নেই
জেলা প্রশাসক এবং শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান যে দেশ ও বিদেশ থেকে আগত লাখো মুসল্লির এমন উপস্থিতি ছিল রীতিমতো নজিরবিহীন। স্মরণকালের সবচেয়ে বড় মুসল্লি সমাগম ঘটেছে এবারের জামাতে।
ঈদের আগের দিন থেকেই সারা দেশ থেকে মানুষ কিশোরগঞ্জমুখী হতে শুরু করেন। দেশের ৬৪টি জেলা এবং বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলে দলে মানুষ ছুটে আসেন এই ঐতিহাসিক ময়দানে। কেউ আত্মীয়ের বাসায় এবং কেউ বা মসজিদে অবস্থান নেন। আবার অনেক মুসল্লি খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন শুধু এক সাথে এত মানুষের মাঝে ঈদের নামাজ আদায়ের পবিত্র আকাঙ্ক্ষায়।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মূল মাঠে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের সড়ক ও ভবনের ছাদসহ নরসুন্দা নদীর তীরেও হাজারো মুসল্লি কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন।
শোলাকিয়ার এই বিশাল সমাবেশকে শুধুমাত্র একটি নামাজ হিসেবে না দেখে ভ্রাতৃত্ব ঐক্য ও অগাধ বিশ্বাসের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই বিশাল জামাতে অংশ নেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং কিশোরগঞ্জ ছয় আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলম। এছাড়া কিশোরগঞ্জ এক আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করেন।
এনএন/ ২১ মার্চ ২০২৬




মন্তব্য করুন