হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

অপহরণের ৪দিন পর মুক্তিপণ’ পেয়ে৫ রোহিঙ্গা কিশোরকে ছেড়ে দিল

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৩, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন

আব্দুস সালাম,টেকনাফ::

কক্সবাজারের টেকনাফের দমদমিয়া ন্যাচার পার্কে ঘুরতে গিয়ে অপহরণের শিকার পাঁচ রোহিঙ্গা কিশোর পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। সন্ত্রাসীদের দাবি করা মুক্তিপণ দেওয়ার পর গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ওই কিশোরদের ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেছে পরিবারগুলো।

ফেরত আসা কিশোরেরা সবাই টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া নিবন্ধিত আশ্রিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। তারা হলো আশ্রিত ক্যাম্পের সি ব্লকের বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. বেলাল (১৩), মোহাম্মদ ইলিয়াসের ছেলে নুর কামাল (১২), মো. উবায়দুল্লাহর ছেলে নুর আরাফাত (১২), বি ব্লকের মো. রফিকের ছেলে ওসমান (১৪) এবং ডি ব্লকের মাহাত আমিনের ছেলে নুর কামাল (১৫)।

আশ্রিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সুপার মো. জামাল পাশা অপহরণ হওয়া কিশোরদের ফিরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুন

অস্কারজয়ী চিলিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা সেবাস্তিয়ান লেলিও আর নেই

২৪ এপ্রিল দুপুরে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরার ওই পার্ক এলাকা থেকে এই কিশোরদের ধরে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। ভুক্তভোগী কিশোরদের স্বজনদের দাবি, ঈদ উপলক্ষে ওই কিশোরেরা ক্যাম্প থেকে ঘুরতে বেরিয়েছিল। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা তাদের অপহরণের পর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মুক্তিপণ হিসেবে জনপ্রতি ৪ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা দাবি করে।
গত চারদিন তাদের সঙ্গে দর-কষাকষির পর জনপ্রতি এক লাখ টাকা একটি নির্ধারিত স্থানে রেখে আসেন স্বজনেরা। পরে অপহৃত কিশোরদের রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ সুপার মো. জামাল পাশা বলেন, মুক্তিপণ দাবির বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাঁদের কিছুই জানায়নি। এর মধ্যে কিশোরদের উদ্ধারের জন্য পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যরা দিন-রাত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালান। হয়তো অভিযানের কারণে সন্ত্রাসীরা তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ওই আশ্রিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কমিটির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরের আশপাশের পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের আস্তানা আছে। আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার। সন্ত্রাসীরা ভুক্তভোগী পরিবারে ফোন দিয়ে জনপ্রতি চার লাখ করে মুক্তিপণ দাবি করলেও জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে আদায় করেছে। তাদের দাবি করা মুক্তিপণের টাকা না পেলে অপহৃত কিশোরদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সন্তানদের জীবন রক্ষার্থে প্রশাসনের অগোচরে মুক্তিপণ দিয়ে ফেরত আনা হয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হালিম বলেন, অপহরণের ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী কিশোরদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ দেওয়া হয়নি। এরপরও পুলিশ ওই কিশোরদের উদ্ধারের জন্য দিন-রাত অভিযান চালিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৬ মাসে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬২ জন ব্যক্তিকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৪ জন স্থানীয় বাসিন্দা, বাকি ২৮ জন রোহিঙ্গা। অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জন মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

কক্সবাজার
Card Image

অপহরণের ৪দিন পর মুক্তিপণ’ পেয়ে৫ রোহিঙ্গা কিশোরকে ছেড়ে দিল

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

অপহরণের ৪দিন পর মুক্তিপণ’ পেয়ে৫ রোহিঙ্গা কিশোরকে ছেড়ে দিল

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৩, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন
Print Image
আব্দুস সালাম,টেকনাফ:: কক্সবাজারের টেকনাফের দমদমিয়া ন্যাচার পার্কে ঘুরতে গিয়ে অপহরণের শিকার পাঁচ রোহিঙ্গা কিশোর পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। সন্ত্রাসীদের দাবি করা মুক্তিপণ দেওয়ার পর গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ওই কিশোরদের ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেছে পরিবারগুলো। ফেরত আসা কিশোরেরা সবাই টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া নিবন্ধিত আশ্রিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। তারা হলো আশ্রিত ক্যাম্পের সি ব্লকের বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. বেলাল (১৩), মোহাম্মদ ইলিয়াসের ছেলে নুর কামাল (১২), মো. উবায়দুল্লাহর ছেলে নুর আরাফাত (১২), বি ব্লকের মো. রফিকের ছেলে ওসমান (১৪) এবং ডি ব্লকের মাহাত আমিনের ছেলে নুর কামাল (১৫)। আশ্রিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সুপার মো. জামাল পাশা অপহরণ হওয়া কিশোরদের ফিরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ২৪ এপ্রিল দুপুরে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরার ওই পার্ক এলাকা থেকে এই কিশোরদের ধরে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। ভুক্তভোগী কিশোরদের স্বজনদের দাবি, ঈদ উপলক্ষে ওই কিশোরেরা ক্যাম্প থেকে ঘুরতে বেরিয়েছিল। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা তাদের অপহরণের পর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মুক্তিপণ হিসেবে জনপ্রতি ৪ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা দাবি করে। গত চারদিন তাদের সঙ্গে দর-কষাকষির পর জনপ্রতি এক লাখ টাকা একটি নির্ধারিত স্থানে রেখে আসেন স্বজনেরা। পরে অপহৃত কিশোরদের রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশ সুপার মো. জামাল পাশা বলেন, মুক্তিপণ দাবির বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাঁদের কিছুই জানায়নি। এর মধ্যে কিশোরদের উদ্ধারের জন্য পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যরা দিন-রাত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালান। হয়তো অভিযানের কারণে সন্ত্রাসীরা তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ওই আশ্রিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কমিটির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরের আশপাশের পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের আস্তানা আছে। আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার। সন্ত্রাসীরা ভুক্তভোগী পরিবারে ফোন দিয়ে জনপ্রতি চার লাখ করে মুক্তিপণ দাবি করলেও জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে আদায় করেছে। তাদের দাবি করা মুক্তিপণের টাকা না পেলে অপহৃত কিশোরদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সন্তানদের জীবন রক্ষার্থে প্রশাসনের অগোচরে মুক্তিপণ দিয়ে ফেরত আনা হয়েছে। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হালিম বলেন, অপহরণের ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী কিশোরদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ দেওয়া হয়নি। এরপরও পুলিশ ওই কিশোরদের উদ্ধারের জন্য দিন-রাত অভিযান চালিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৬ মাসে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬২ জন ব্যক্তিকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৪ জন স্থানীয় বাসিন্দা, বাকি ২৮ জন রোহিঙ্গা। অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জন মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×