কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে টানা শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। বিকট শব্দে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি কেঁপে উঠছে। এতে হোয়াইক্যংসহ আশপাশের সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত থেকে রাখাইন রাজ্যের হোয়াইক্যং সীমান্তবর্তী এলাকায় থেমে থেমে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকাল ১০টার পর থেকে বিস্ফোরণের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। সকাল ১১টার দিকে পরপর ৩ থেকে ৪টি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়। এরপর থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে বলে জানান স্থানীয়রা।
হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা মো. সলিমুল্লাহ বলেন,“বৃহস্পতিবার রাতে কয়েক দফা গুলির শব্দ শোনার পর ভয়ে আর ঘুমাতে পারিনি। মনে হচ্ছিল যেকোনো সময় গুলি এপারে এসে পড়তে পারে।
দিলদার সামাদ খান বলেন মিয়ানমারের ওপারে প্রচন্ড গোলাগুলির শব্দ শুনেছি।গোলাগুলির শব্দ রাখাইনের একেবারে কাছ থেকে ভেসে আসছিল।
হিমছড়িতে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, জরিমানা
স্থানীয় জেলে আহমেদ উল্লাহ বলেন, রাখাইন সীমান্তে প্রায়ই এ ধরনের গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে নাফ নদীর হোয়াইক্যং এলাকায় মাছ ধরার সময় জেলে মো. আলমগীর গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া গুলিতেই তিনি আহত হন।বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে পরিবার সুত্রে জানা গেছে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন,শুক্রবার সকাল ১০টার পর থেকে সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দে এপারের ঘরবাড়ি কেঁপে উঠছে। সকাল ১১টার দিকে কয়েকটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এখনো থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, “সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির বিষয়টি আমরা শুনেছি। সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি আমরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি।”
স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় বিজিবি টহল জোরদার করা এবং দ্রুত কূটনৈতিকভাবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন।




মন্তব্য করুন