রাজশাহী, ১৬ মে – রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের মহাসমাবেশ থেকে এবার সরাসরি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং ক্ষমতাসীন দল বিএনপির বিরুদ্ধে একযোগে তীব্র কামান দাগলেন ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টির (NCP) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী। শনিবার (১৬ ১৬ মে) বিকেলে আয়োজিত বিশাল এই গণসমাবেশে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “শেখ হাসিনাকে এই দেশে এনে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলাবো। যারা অসংখ্য মানুষকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েছিল, আমরা তাদের বিচার করব ইনশাআল্লাহ।”
একই সাথে সীমান্তে হত্যা ও ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে বিএনপির নীরবতার কড়া সমালোচনা করে তাদের ‘ভুয়া জাতীয়তাবাদী’ আখ্যা দেন এই তরুণ নেতা।
হামের ভয়াল থাবায় একদিনে ঝরল আরও ৬ প্রাণ
জুলাই বিপ্লবসহ বিগত সকল গণআন্দোলনের শহীদদের স্বপ্ন স্মরণ করে নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, “৪৭-এ যারা শহীদ হয়েছিলেন, ৭১-এ যারা শহীদ হয়েছিলেন, ২৪-এ যারা শহীদ হয়েছিলেন, আমরা তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করার জন্য এসেছি। তাদের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল বাংলাদেশে স্থায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন হবে। একজন প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ক্ষমতার মসনদে থেকে ফ্যাসিবাদী হওয়ার যে তার খায়েশ, সেটা বাংলার জনগণ রুখে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠন করেছে। আজকেও অসংখ্য ভাইয়ের পায়ে গুলির বুলেট রয়েছে, হাত নাই, অনেক মা-বাবা সন্তান হারিয়েছেন। রাজশাহীর ওলিগলিতে শহীদের রক্ত সাক্ষ্য দিচ্ছে, বাংলার মানুষকে কতটা বর্বর নির্যাতন করা হয়েছে।”
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ক্ষমতাসীনদের কড়া হুঁশিয়ারি দেন। পাটোয়ারী বলেন, “এই নির্বাচনে আমাদের ভোট চুরি করা হয়েছে। আমরা বাংলাদেশের স্বার্থের জন্য যুদ্ধে গিয়েছি। আমরা এখনও ধৈর্য ধারণ করছি, আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙবেন না। মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে সংস্কার বাস্তবায়ন করবেন, আর এখন সেই মুনাফেক চরিত্র ম্লান করে জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি করছেন! আমরা অতীতে অনেক গাদ্দারদেরকে শাস্তি দিয়েছি, এবারও দেব।”
তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া পতাকা এসেছে, আমরাও এখানে প্রস্তুত আছি। বাংলাদেশের মুসলমানরা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পায় না। আমরা শহীদ হব, জান্নাতের বুকে ঘুরে বেড়াবো।”
সবশেষে ১৬ মে ফারাক্কা দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, “আজকে ফারাক্কার ঐতিহাসিক দিবসে পানির অধিকার, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ, গণভোটের প্রকৃত রায় বাস্তবায়ন, মানুষের বিদ্যুৎ-গ্যাসের চাহিদা মেটানো এবং খুনি শেখ হাসিনার বিচারের দাবিতে আপনারা যে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম শুরু করেছেন, তা রাজপথের পার্লামেন্ট থেকে আজ সারা দেশে গড়িয়েছে। এই আজাদীর সংগ্রাম আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলবেই।”
এনএন/ ১৬ মে ২০২৬




মন্তব্য করুন