হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

উখিয়ায় নেমেছে পানি, কাটেনি দুর্ভোগ; পাহাড়ধসে নিহত ১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৩ অপরাহ্ন

টানা ১০ দিনের ভারী বৃষ্টির পর কক্সবাজারের উখিয়ার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় প্লাবিত এলাকার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে প্রাণহানি, কৃষি, বসতবাড়ি ও অবকাঠামোয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক চিত্র পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এখনো খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে রয়েছেন।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানান, ৪ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উখিয়া উপজেলার প্রায় ২৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জেলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে এ উপজেলায়। পাহাড়ধসে ১৩ জন রোহিঙ্গাসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ১০০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে, বন্যায় আউশ ধান, আমনের বীজতলা, পানবরজ ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিসহ ৫০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ১ হাজার ১৩৮ জন কৃষক।

আরও পড়ুন

টেকনাফে সিএনজির বিশেষ চেম্বার থেকে ১৩ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, চালক আটক

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কক্সবাজারের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামানিক বলেন, এটি প্রাথমিক হিসাব। বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে মাঠপর্যায়ে যাচাই শেষে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

এ ছাড়া প্রাথমিক হিসাবে উখিয়ায় ৯ কিলোমিটার সড়ক এবং ২০টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, বন্যাকালে উপজেলার ৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১৭০টি পরিবার আশ্রয় নেয়। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৯০০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং ৯ মেট্রিক টন চাল ইউনিয়ন পরিষদের বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন এনজিওর সমন্বয়ে ত্রাণ ও নগদ অর্থ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সর্বস্তরের জনসাধারনে দুর্ভোগ লাগব না হওয়া পর্যন্ত এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি জানান, উখিয়ার জন্য মোট ২৫ মেট্রিক টন চাল ও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে হলদিয়াপালং ও জালিয়াপালং ইউনিয়নে ১৫ হাজার টাকা করে এবং রাজাপালং, রত্নাপালং ও পালংখালী ইউনিয়নে ১০ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হলদিয়াপালং ইউনিয়নে দেয়ালচাপায় নিহত মানিকের পরিবারের দাফন-কাফনের জন্য ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও আরও জানান, বিদ্যমান বরাদ্দের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২০ মেট্রিক টন চাল, ৫ লাখ টাকা এবং ১০০ বান্ডিল ঢেউটিনের চাহিদা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

anwar

anwar

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

উখিয়া
Card Image

উখিয়ায় নেমেছে পানি, কাটেনি দুর্ভোগ; পাহাড়ধসে নিহত ১৪

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

উখিয়ায় নেমেছে পানি, কাটেনি দুর্ভোগ; পাহাড়ধসে নিহত ১৪

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক : | প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৩ অপরাহ্ন
Print Image
টানা ১০ দিনের ভারী বৃষ্টির পর কক্সবাজারের উখিয়ার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় প্লাবিত এলাকার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে প্রাণহানি, কৃষি, বসতবাড়ি ও অবকাঠামোয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক চিত্র পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এখনো খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে রয়েছেন। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানান, ৪ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উখিয়া উপজেলার প্রায় ২৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জেলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে এ উপজেলায়। পাহাড়ধসে ১৩ জন রোহিঙ্গাসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ১০০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে, বন্যায় আউশ ধান, আমনের বীজতলা, পানবরজ ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিসহ ৫০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ১ হাজার ১৩৮ জন কৃষক। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কক্সবাজারের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামানিক বলেন, এটি প্রাথমিক হিসাব। বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে মাঠপর্যায়ে যাচাই শেষে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। এ ছাড়া প্রাথমিক হিসাবে উখিয়ায় ৯ কিলোমিটার সড়ক এবং ২০টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, বন্যাকালে উপজেলার ৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১৭০টি পরিবার আশ্রয় নেয়। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৯০০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং ৯ মেট্রিক টন চাল ইউনিয়ন পরিষদের বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন এনজিওর সমন্বয়ে ত্রাণ ও নগদ অর্থ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সর্বস্তরের জনসাধারনে দুর্ভোগ লাগব না হওয়া পর্যন্ত এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, উখিয়ার জন্য মোট ২৫ মেট্রিক টন চাল ও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে হলদিয়াপালং ও জালিয়াপালং ইউনিয়নে ১৫ হাজার টাকা করে এবং রাজাপালং, রত্নাপালং ও পালংখালী ইউনিয়নে ১০ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হলদিয়াপালং ইউনিয়নে দেয়ালচাপায় নিহত মানিকের পরিবারের দাফন-কাফনের জন্য ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। ইউএনও আরও জানান, বিদ্যমান বরাদ্দের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২০ মেট্রিক টন চাল, ৫ লাখ টাকা এবং ১০০ বান্ডিল ঢেউটিনের চাহিদা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×