হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর যেন সোনার হরিণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ন
📌 সংক্ষেপ: ভোটার যাচাই-বাছাই ফরমে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর পেতে হয়রানির অভিযোগ করেছেন কক্সবাজারের রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁদের একজনের দাবি, স্বাক্ষরের জন্য তাঁকে ১৪ বার ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয়েছে…

ভোটার যাচাই-বাছাই ফরমে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর পেতে হয়রানির অভিযোগ করেছেন কক্সবাজারের রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁদের একজনের দাবি, স্বাক্ষরের জন্য তাঁকে ১৪ বার ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয়েছে। অন্যদের অভিযোগ, ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা, স্বাক্ষর না দিয়ে ফাইল ছিঁড়ে ফেলা এবং দালালের মাধ্যমে টাকা নিয়ে স্বাক্ষর দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

অভিযোগগুলো খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হক কোম্পানির বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সরাসরি পরিষদে গেলেও নানা অজুহাতে স্বাক্ষর দেওয়া হয় না। তবে দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে স্বাক্ষর পাওয়া যায়।

ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী সাঈদ শিশির বলেন, ভোটার যাচাই-বাছাই ফরমে স্বাক্ষরের জন্য চাকরি থেকে ছুটি নিয়ে তাঁকে ১৪ বার পরিষদে যেতে হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো পক্ষের হয়ে কাজ না করলেও তাঁর বড় ভাই চেয়ারম্যানের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে ভোট করায় তাঁকে হয়রানি করা হয়েছে।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তোফায়েল তাঁর ছেলে সাগর আলীর ভোটার নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে পরিষদে যান। তাঁর অভিযোগ, চেয়ারম্যান প্রথমে স্বাক্ষর দিতে রাজি হননি। পরে যাচাইয়ের কথা বলে ফাইলটি রেখে দেন। এক মাস পরও ফাইল বা স্বাক্ষর না পেয়ে তিনি রামুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি জানান। ইউএনও ফাইলের ফটোকপি দিতে বলেন বলে জানান তোফায়েল।

আরও পড়ুন

কক্সবাজার পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে ২১ জন গ্রেপ্তার

তোফায়েল বলেন, ‘সামান্য একটি স্বাক্ষর, সেটি আমার ও ছেলের নাগরিক অধিকার। কোনো ব্যবসা বা কোনো ব্যক্তির কোনো সম্পত্তি তো নয়। এভাবে আজকাল বলে চেয়ারম্যান ফাইলটি রেখে দিলেন, স্বাক্ষর না দিয়ে।’

একই এলাকার সিএনজিচালক ওয়াসিমের অভিযোগ, তাঁর ছেলের ভোটার নিবন্ধনের জন্য জমা দেওয়া পুরো ফাইল চেয়ারম্যান ছিঁড়ে ফেলেছেন। কেন এমন করা হলো জানতে চাইলে তাঁকে বলা হয়, তিনি রোহিঙ্গা হলে ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ওয়াসিম বলেন, ‘আমি রোহিঙ্গা হলে আমাকে ক্যাম্পে দিয়ে আসতে বলেন। আমি তো আমার বাপ-দাদার খতিয়ানভুক্ত বাংলাদেশি নাগরিক।’

৩ নম্বর ওয়ার্ডের মির্জালী দোকান এলাকার বাসিন্দা দৌলতের পরিবারের একজনকে স্বাক্ষরের জন্য প্রায় দুই মাস পরিষদে যেতে হয়েছে বলে অভিযোগ। পরে দালালের মাধ্যমে টাকা দিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। একই এলাকার কালামের দাবি, তাঁর ভাই নুরুল আলমের জন্য স্বাক্ষর নিতে না পেরে দালালের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা দিয়ে স্বাক্ষর করানো হয়। এরপর ভোটার নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়।

ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জয়নাল আবেদীন বাবুলের অভিযোগ, চেয়ারম্যান পরাজিত প্রার্থীর সমর্থক, তাঁদের স্বজন ও পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রতিহিংসামূলক আচরণ করেন। তাঁর ওয়ার্ডে উন্নয়ন হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল্লাহ বিদ্যুৎ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদকে কেউ কেউ বাপ-দাদার সম্পত্তির মতো মনে করেন। তাঁর ভাষ্য, একজন নাগরিক নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন—এটাই গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু চেয়ারম্যান হওয়ার পর কে কাকে ভোট দিয়েছেন, তা নিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তাঁর ওয়ার্ডেও পাঁচ বছরে কোনো উন্নয়ন হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তবে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য গিয়াস উদ্দিন বলেন, এ ধরনের অভিযোগ তিনি শোনেননি। তবে পরিষদ বন্ধ থাকা অবস্থায় স্বাক্ষর না নেওয়ার কথা একজনের কাছে শুনেছেন।

চেয়ারম্যান আবদুল হক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তিনি কাউকে হয়রানি করেননি। কেউ এ ধরনের অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারলে চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে চলে যাবেন—এমন প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

রামুর ইউএনও মো. জিল্লুর রহমান অসুস্থ থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে পারেননি। সুস্থ হওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।

❓ সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর যেন সোনার হরিণ সম্পর্কিত তথ্য কী?

উত্তর: ভোটার যাচাই-বাছাই ফরমে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর পেতে হয়রানির অভিযোগ করেছেন কক্সবাজারের রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁদের একজনের। মূল সংবাদ থেকে বিস্তারিত জানুন।

anwar

anwar

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

কক্সবাজার
Card Image

চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর যেন সোনার হরিণ

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর যেন সোনার হরিণ

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক : | প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ন
Print Image
ভোটার যাচাই-বাছাই ফরমে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর পেতে হয়রানির অভিযোগ করেছেন কক্সবাজারের রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁদের একজনের দাবি, স্বাক্ষরের জন্য তাঁকে ১৪ বার ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয়েছে। অন্যদের অভিযোগ, ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা, স্বাক্ষর না দিয়ে ফাইল ছিঁড়ে ফেলা এবং দালালের মাধ্যমে টাকা নিয়ে স্বাক্ষর দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগগুলো খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হক কোম্পানির বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সরাসরি পরিষদে গেলেও নানা অজুহাতে স্বাক্ষর দেওয়া হয় না। তবে দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে স্বাক্ষর পাওয়া যায়। ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী সাঈদ শিশির বলেন, ভোটার যাচাই-বাছাই ফরমে স্বাক্ষরের জন্য চাকরি থেকে ছুটি নিয়ে তাঁকে ১৪ বার পরিষদে যেতে হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো পক্ষের হয়ে কাজ না করলেও তাঁর বড় ভাই চেয়ারম্যানের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে ভোট করায় তাঁকে হয়রানি করা হয়েছে। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তোফায়েল তাঁর ছেলে সাগর আলীর ভোটার নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে পরিষদে যান। তাঁর অভিযোগ, চেয়ারম্যান প্রথমে স্বাক্ষর দিতে রাজি হননি। পরে যাচাইয়ের কথা বলে ফাইলটি রেখে দেন। এক মাস পরও ফাইল বা স্বাক্ষর না পেয়ে তিনি রামুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি জানান। ইউএনও ফাইলের ফটোকপি দিতে বলেন বলে জানান তোফায়েল। তোফায়েল বলেন, ‘সামান্য একটি স্বাক্ষর, সেটি আমার ও ছেলের নাগরিক অধিকার। কোনো ব্যবসা বা কোনো ব্যক্তির কোনো সম্পত্তি তো নয়। এভাবে আজকাল বলে চেয়ারম্যান ফাইলটি রেখে দিলেন, স্বাক্ষর না দিয়ে।’ একই এলাকার সিএনজিচালক ওয়াসিমের অভিযোগ, তাঁর ছেলের ভোটার নিবন্ধনের জন্য জমা দেওয়া পুরো ফাইল চেয়ারম্যান ছিঁড়ে ফেলেছেন। কেন এমন করা হলো জানতে চাইলে তাঁকে বলা হয়, তিনি রোহিঙ্গা হলে ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ওয়াসিম বলেন, ‘আমি রোহিঙ্গা হলে আমাকে ক্যাম্পে দিয়ে আসতে বলেন। আমি তো আমার বাপ-দাদার খতিয়ানভুক্ত বাংলাদেশি নাগরিক।’ ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মির্জালী দোকান এলাকার বাসিন্দা দৌলতের পরিবারের একজনকে স্বাক্ষরের জন্য প্রায় দুই মাস পরিষদে যেতে হয়েছে বলে অভিযোগ। পরে দালালের মাধ্যমে টাকা দিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। একই এলাকার কালামের দাবি, তাঁর ভাই নুরুল আলমের জন্য স্বাক্ষর নিতে না পেরে দালালের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা দিয়ে স্বাক্ষর করানো হয়। এরপর ভোটার নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জয়নাল আবেদীন বাবুলের অভিযোগ, চেয়ারম্যান পরাজিত প্রার্থীর সমর্থক, তাঁদের স্বজন ও পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রতিহিংসামূলক আচরণ করেন। তাঁর ওয়ার্ডে উন্নয়ন হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল্লাহ বিদ্যুৎ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদকে কেউ কেউ বাপ-দাদার সম্পত্তির মতো মনে করেন। তাঁর ভাষ্য, একজন নাগরিক নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন—এটাই গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু চেয়ারম্যান হওয়ার পর কে কাকে ভোট দিয়েছেন, তা নিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তাঁর ওয়ার্ডেও পাঁচ বছরে কোনো উন্নয়ন হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তবে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য গিয়াস উদ্দিন বলেন, এ ধরনের অভিযোগ তিনি শোনেননি। তবে পরিষদ বন্ধ থাকা অবস্থায় স্বাক্ষর না নেওয়ার কথা একজনের কাছে শুনেছেন। চেয়ারম্যান আবদুল হক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তিনি কাউকে হয়রানি করেননি। কেউ এ ধরনের অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারলে চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে চলে যাবেন—এমন প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। রামুর ইউএনও মো. জিল্লুর রহমান অসুস্থ থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে পারেননি। সুস্থ হওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×